///

যুক্তরাজ্যে সিলেটি শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার দরজা ছোট হচ্ছে!

23 mins read

সিলেটের শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যে ছোট হয়ে এসেছে উচ্চ শিক্ষার দরজা। যুক্তরাজ্যের অন্তত অর্ধশত বিশ্ববিদ্যালয় সিলেটের শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। তিনটি কারণে বিশ্ববিদ্যালয় সমুহ কড়াকড়ি আরোপ করেছে বলে জানিয়েছেন স্টুডেন্ট ভিসা প্রসেসিং এর সাথে সংশ্লিষ্টরা। যার জন্য প্রকৃত শিক্ষার্থীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন।

কারণ গুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি দিয়ে কোর্স শেষ না করা। যুক্তরাজ্য হতে অবৈধ ভাবে ইউরোপের অন্যান্য দেশে চলে যান এবং পড়ালেখা করতে গিয়ে ভিসার ধরন পরিবর্তন করা।

যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি এডুকেশন গ্রুপের মাধ্যমে বাংলাদেশ হতে শিক্ষার্থী নিয়ে থাকে। যুক্তরাজ্যের এডুকেশন গ্রুপ বাংলাদেশি বিভিন্ন এজেন্সির সহায়তায় উচ্চ শিক্ষায় আগ্রহীদের আবেদন করিয়ে থাকে। গত ২-৩ বছর ধরে স্টুডেন্ট ভিসা সহজ করায় বাংলাদেশ হতে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যে যান। তার মধ্যে বড় অংশ ছিল সিলেটের শিক্ষার্থীরা।

যুক্তরাজ্যে সিলেট এলাকার লোকজন বেশি হওয়ায় উচ্চ শিক্ষার জন্য এখানকার শিক্ষার্থীদেরও আগ্রহ বেশি। ফলে গেল বছরে শুধু সিলেট হতে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যায়। তারমধ্যে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ৬ মাসের টিউশন ফি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পড়তে যান। অনেকেই সেখানে গিয়ে পড়ালেখার খরচ মেটাতে না পেরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দেন। কেউ আবার কেয়ার গিভারসহ বিভিন্ন ধরণের ওয়ার্কপারমিটে নিজেদের স্টুডেন্ট ভিসা পরিবর্তন করে নেন।

অনেকে যুক্তরাজ্য হতে অবৈধ ভাবে ফ্রান্স ও পর্তুগাল সহ ইউরোপের অন্যান্য দেশে পাড়ি দেন। যার করনে বিশ্ববিদ্যালয় গুলো পড়ে শিক্ষার্থী সংকটে। আসন সংখ্যা পুর্ণ করে সেমিস্টার শুরু করলেও পরবর্তীতে সিলেট হতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য তাদেরকে বিপাকে পড়তে হয়। আগামী মে সেশন হতে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে সিলেটের শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে কঠোর করা হয়েছে।

স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড এডুকেশন গ্রুপ, স্টাডি গ্রুপ, ক্যামব্রিজ এডুকেশন গ্রুপ ও কিউএ সহ কয়েকটি এজেন্সি সিলেটের শিক্ষার্থীদের আবেদন না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই গ্রুপগুলোর অধীনে যুক্তরাজ্যের অন্তত অর্ধশত বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে বলে জানিয়েছেন ‘ফরেন এডমিশন এন্ড ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট কনসালটেন্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ সিলেটের সভাপতি মো. ফেরদৌস আলম।

বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্য যেতে হলে শিক্ষার্থীদের ইরেজি ভাষার উপর নিজের দক্ষতার পরীক্ষা দিতে হয়। এজন্য শিক্ষার্থীরা ‘ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ টেস্টিং সিস্টেম-আইইএলটিএস’ কিংবা ‘অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ টেস্টিং সেন্টার-ওআইইটিসি’ দিতে হয়। আইইএলটিএস থেকে অপেক্ষাকৃত সহজ হওয়ায় ইংরেজিতে অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীরা ওআইইটিসি বেছে নেন।

ওআইইটিসি পরীক্ষা দিতে গিয়েও অনেকে অসদুপায় অবলম্বন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো আর ওআইইটিসিকে গুরুত্ব দিতে চাচ্ছে না। ইতোমধ্যে যারা নিজেদের বাসা-বাড়িতে বসে ওআইইটিসি দিয়েছেন তাদের ফলাফলকে গ্রাহ্য করছে না তারা। এখন থেকে তারা নিজস্ব কেন্দ্র ও প্রতিনিধির উপস্থিতিতে পরীক্ষা নেয়ার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। তবে আগামীতে ওআইইটিসি দিয়ে শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হতে পারবেন কি-না এ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ফলে প্রকৃত শিক্ষার্থীরা এখন আইইএলটিসের দিকেই ঝুঁকছেন।

বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ফরেন এডমিশন এন্ড ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট কনসালটেন্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ সিলেটের সভাপতি মো. ফেরদৌস আলম বলেন, ‘নানা কারণে যুক্তরাজ্যের অন্তত অর্ধশত বিশ্ববিদ্যালয় সিলেট থেকে শিক্ষার্থী না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে প্রকৃত শিক্ষার্থী এবং যাদের টিউশন ফি বহন করার সক্ষমতা রয়েছে তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তাদের জন্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুয়ার খোলা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x