
কুষ্টিয়ায় ঈদ উৎসবের পর বিষাক্ত মদ পানে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ছাত্রসহ তিন জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসক। এ ঘটনায় অসুস্থ হয়েছেন আরও চার জন।
সোমবার (২৪ এপ্রিল) ভোরে কুষ্টিয়া ২৫০ শষ্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসাপতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান।
মৃতরা হলেন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার কুচিয়ামোড়া গ্রামের ও বিআরবি কেবলস ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানির জিএম প্রকৌশলী রাকিবুল আলমের ছেলে এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র শিফাতুল ইসলাম শিপু (২৩), রতন (১৮) ও শাহিন (৪৭)।
অসুস্থরা হলেন- শাহানুর (২১), ফাইট (১৫), সবুজ (২০) ও মাহি (২৩)। তাদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে মাহিকে সোমবার সকালে কুষ্টিয়া হাসপাতাল থেকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) চিকিৎসক তাপস কুমার পাল জানান, রোববার (২৩ এপ্রিল) রাত সোয়া ৯টার দিকে বিষাক্ত মদপানে গুরুতর অসুস্থ তিন জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পর্যায়ক্রমে আরও চারসহ মোট সাতজন হাসপাতালে ভর্তি হন। এদের প্রত্যেককে বিষাক্ত অ্যালকোহল সাসপেক্টেড রোগী হিসেবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। এক পর্যায়ে সোমবার ভোর ৬টার দিকে রুয়েট ছাত্র শিপু, রতন ও শাহিন মারা যান।
তিনি জানান, অসুস্থ শাহানুর, ফাইট ও সবুজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এরাও শঙ্কামুক্ত নয়। আর গুরুতর অসুস্থ মাহিকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, এ্যালকোহল কোন স্পট কিংবা কে বা কারা সরবরাহ করেছিল পুলিশ তা নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনজনের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
কুষ্টিয়া সদর থানার ওসি শাহাদৎ হোসেন জানান, ঘটনাটি তদন্তে পুলিশ মাঠে নেমেছে। মাদক সরবরাহকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর চেষ্টা চলছে।