
ধর্মপাশা প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের জয়শ্রী উচ্চ বিদ্যালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১১জুন) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার জয়শ্রী বাজারের লেগুনা স্ট্যান্ডে এলাকাবাসীর ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে শতাধিক মানুষজন অংশ নেয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, উপজেলার অন্যান্য বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফি তুলনামূলক ভাবে খুবই কম। কিন্তু এই বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ষান্নাষিক পরীক্ষার ফি বাবদ ৩০০ টাকা ও অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি বাবদ ৫০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে।
সম্প্রতি বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়টিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পছন্দের প্রার্থী নিয়োগ দিয়ে এ বাবদ ৫লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। এ ছাড়া চলতি বছরের ৮জানুয়ারি বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির দুজন অভিভাবক সদস্য ৫০ হাজার টাকা ধার নিলেও এখনো তারা
এই টাকা পরিশোধ করেননি। তাই এ ধরণের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বক্তারা জোর দাবি জানান। মানব বন্ধনে বক্তব্য দেন বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সাখাওয়াত হোসেন বাহার, সাবেক সদস্য আবদুল কাইয়ূম, শিক্ষার্থীর অভিভাবক গৌলাম মৌলা, তৌহিদ হোসেন, জয়শ্রী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শহীদুল্লাহ প্রমুখ।
জয়শ্রী উচ্চ বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সূরাইয়া সূলতানার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আমজাদ বলেন, আমি এই বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এই বিদ্যালয়ের অনেক অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধ করেছি। স্থানীয় একটি মহল বিদ্যালয়টির সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য মানববন্ধন করে মিথ্যা বদনাম রটাচ্ছে। বিদ্যালয়ের যে কোনো সমস্যা হলে তা আলাপ আলোচনা করে সমাধান করা যেতে পারে। পরীক্ষার ফি অতিরিক্ত নেওয়া হয়ে থাকলে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।
ইউএনও শীতেষ চন্দ্র সরকার বলেন, বিদ্যালয়ের কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পেলে তদন্ত করে বিষয়টি দেখা হবে।