

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চন্দ্র সোনার থাল হাওরের হুলাসখালী ফসলরক্ষা বাঁধের ৮থেকে ১০ফুট স্থান গত তিন সপ্তাহ আগে রাতের আঁধারে কেটে দিয়েছে দূর্বুত্তরা। গত দুই সপ্তাহ এই বাঁধটির কাটা স্থানে স্থানীয় লোকজন নিষিদ্ধ জাল পেতে অবাধে মাছ শিকার করে আসছেন। বাঁধটিতে জাল পেতে মাছ শিকার করার কারণে বাঁধের কাটা স্থানটি দিন দিন বড় হয়ে এখন ৪০থেকে ৪৫ফুট হয়ে গেছে। এ অবস্থায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চন্দ্র সোনার থাল হাওরের হুলাসখালী ফসলরক্ষা বাঁধটি সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে রয়েছে। এই ফসলরক্ষা বাঁধটির দৈর্ঘ প্রায় ৫০০মিটার। গত অর্থবছরে প্রায় ১৪লাখ টাকা ব্যয়ে এই ফসলরক্ষা বাঁধটি সংস্কার ও মেরামত কাজ করা হয়। মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে গত তিন সপ্তাহ আগে হুলাসখালী ফসলরক্ষা বাঁধের ৮থেকে ১০ফুট স্থান রাতের আঁধারে কেটে দেয় দূর্বৃত্তরা।
গত দুই সপ্তাহ ধরে সেখানে নিষিদ্ধ ভিম জাল পেতে মাছ শিকার চলে আসছে। বাঁধটিতে ভিম জাল পেতে মাছ শিকার করার কারণে এখন বাঁধের কাটা স্থানটি ৪০থেকে ৪৫ফুট বড় হয়ে গেছে। উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের হুলাসখালী গ্রামের জিয়াউর রহমান(৪৩) নেতৃত্বে স্থানীয় ৩/৪ জন ব্যক্তি গত দুই সপ্তাহ ধরে সেখানে দুটি ভিম জাল পেতে অবৈধভাবে মাছ শিকার করে আসছেন। ফলে সরকারি সম্পদ বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মা ও পোনা মাছ নিধন করা হচেছ। ভিম জালটি থেকে পোনা মাছও রেহাই পাচেছ না।
রবিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হুলাসখারী ফসলরক্ষা বাঁধটি কেটে ফেলায় এটি এখন বড় হয়ে ৪০-থেকে ৪৫ফুট হয়ে গেছে। ওই ফসলরক্ষা বাঁধের কাটা স্থানে দুটি ভিম জাল পেতে রাখতে দেখা যায়। তবে এ সময় কাউকে ওই বাঁধের কাছে পাওয়া যায়নি।
উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চেতনার মশাল ফোরাম নামের সামাজিক সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক নাদিম কবীর বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ কাটা বন্ধে বিভিন্ন কর্মসূচী পাল্ন করে আসছি। কিন্ত একটি কুচক্রী মহল মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে এই বাঁধটি প্রতি বছরই কোনো না কোনো ভাবে কেটে দিচেছ । কতিপয় ব্যক্তি মাছের লোভে পড়ে বাঁধ কেটে দিয়ে কৃষকদের চরম সর্বনাশ করে আসছেন। প্রশাসন কঠোর না হওয়ায় এই বাঁধ কাটা কোনো অবস্থাতেই বন্ধ করা সম্ভব হচেছ না। বাঁধটি কেটে দেওয়ায় বোরো আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেন বলেন, হুলাসখালী ফসলরক্ষা বাঁধের এই কাটা স্থানটিতে নিষিদ্ধ ভিম জাল পেতে মাছ শিকার না করার জন্য আমি বেশ কয়েকবার নিষেধ করেছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। বাঁধের এই কাটা স্থানে অবাধে জাল পেতে মাছ শিকার করায় বাঁধের কাটা অংশটি বড় হয়ে এখন ৪০থেকে৪৫ফুট গেছে। প্রশাসন এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।
সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের হুলাসখালী গ্রামের বাসিন্দা জিয়াউর রহমান (৪০) বলেন, কে বা কারা বাঁধটি কেটেছে তা আমি জানি নাা। আমি বা আমার লোকজন এই বাঁধ কাটা ও মাছ শিকারের সঙ্গে জড়িত নই। আমাকে ও আমার লোকজনকে বিপদে ফেলার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল এ ধরণের অপপ্রচার চালিয়ে আসছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী ও ধর্মপাশা উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাঁধ কেটে মাছ শিকার করার ঘটনাটি কেউ আমাকে জানায়নি। খোঁজ নিয়ে দেখব।
ভারপ্রাপ্ত ইউএনওর দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অলিদুজ্জামান বলেন, উপজেলার চন্দ্র সোনার হাওরের হুলাসখালী ফসলরক্ষা বাঁধ কাটা এবং বাঁধের কাটা স্থানে যারা নিষিদ্ধ ভিম জাল পেতে মাছ শিকার করে বাঁধটির চরম ক্ষতি সাধন করছেন তাঁদেরকে খোঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। সরকারি সম্পদ বিনষ্ট করার কাজে যত প্রভাবশালী লোকজনই জড়িত থাকুক না কেন তারা কোনো অবস্থাতেই রেহাই পাবে না।