

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বাদশাগঞ্জ বাজারে প্রতিপক্ষের লোকজন প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সাকির হোসেন সাগরের (৩০) মাথায় দায়ের কোপ মেরে ও এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার (৩ ডিসেম্বর) রাত আটটার দিকে উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে এই ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ওই যুবককে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত ওই যুবকের বড় ভাই মো.সোহেল মিয়া (৩৬)বাদী হয়ে ৫জনকে আসামি করে শনিবার রাতে ই ধর্মপাশা থানায় একটি মামলা করেছেন।
ধর্মপাশা থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার রাত আটটার দিকে উপজেলার বাদশাগঞ্জ বাজারে উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কের এক পাশে দাঁড়িয়েছিলেন একই ইউনিয়নের উত্তরবীর গ্রামের বাসিন্দা প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা নূর হোসেনের ছেলে সাকির হোসেন সাগর। এ সময় একই ইউনিয়নের মাইজবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা হামিদুল ইসলাম চৌধুরী মিলনের ছেলে আদন চৌধুরী (২২) মাদক সেবনের জন্য সাকির হোসেন সাগরের কাছে টাকা চায়। টাকা দিতে অস্বীকার করায় এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। এক পর্যায়ে আদন চৌধুরীর বাবা হামিদুল ইসলাম চৌধুরী মিলনের (৪৬) নির্দেশে তাঁর লোকজন সাকের হোসেন সাগর কে এলোপাতাড়ি মারধর ও তাঁর মাথায় দা দিয়ে কোপ মারেন। গুরুতর আহত অবস্থায় সাকেরকে ওইদিন রাতেই ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ছাড়া মামলায় আদন চৌধুরীকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ও বেপোরোয়া মোটর সাইকেল চালিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করার অভিযোগ করা হয়।
আদন চৌধুরীর বাবা হামিদুল ইসলাম চৌধুরী মিলন দাবি করেন, আমি ও আমার ছেলে আদন চৌধুরীসহ আমাদের লোকজনকে জড়িয়ে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। আমার ছেলে আদন চৌধুরী মাদকসেবী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য নয়। বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালায় না। সে সিলেট নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটিতে ল এ অনার্সে অধ্যয়নরত। সাকির হোসেন সাগর মাদক ও ভারতীয় চোরাই কারবারি। তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে আমার জলমহালের ব্যবসার বিরোধের জের ধরে সে আমার ছেলেকে ধারালো ছোড়া দিয়ে আঘাত করে প্রাণে মেরে ফেলতে চেয়েছিল।সাগর নিজেই নিজেকে আহত করে এই ঘটনাটি সাজিয়ে আমাদের ওপর মিথ্যা মামলা করেছে।
ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।