প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ৩:১২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ৭, ২০২২, ১২:২৮ পি.এম
ধর্মপাশায় হুলাসখালী ফসলরক্ষা বাঁধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান, তিনটি নিষিদ্ধ ভিম জাল জব্দ

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চন্দ্র সোনার থাল হাওরের হুলাসখালী ফসলরক্ষা বাঁধে অভিযান চালিয়ে তিনটি নিষিদ্ধ ভিম জাল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গতকাল বুধবার (৭ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে ওইদিন দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ধর্মপাশার ভারপ্রাপ্ত ইউএনওর দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অলিদুজ্জামান। প্রায় দেড় মাস আগে রাতের আঁধারে ওই বাঁধটির কিছু অংশ কেটে দিয়েছিল দূর্বুত্তরা। মাস খানেক ধরে এই বাঁধটির কাটা স্থানে স্থানীয় লোকজন নিষিদ্ধ জাল পেতে অবাধে মাছ শিকার করে আসছেন।
উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল হাওরের হুলাসখালী ফসলরক্ষা বাঁধটি সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন। গত অর্থবছরে প্রায় ১৪লাখ টাকা ব্যয়ে এই ফসলরক্ষা বাঁধটি সংস্কার ও মেরামত করা হয়। মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে প্রায় দেড় মাস আগে বাঁধের ৮থেকে ১০ফুট স্থান রাতের আঁধারে কেটে দিয়েছিল দূর্বৃত্তরা। মাস খানেক ধরে সেখানে নিষিদ্ধ ভিম জাল পেতে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে মাছ শিকার করে আসছিলেন। এ অবস্থায় হুলাসখালী ফসলরক্ষা বাঁধের কাটা স্থানটি বড় হয়ে ৪০থেকে ৪৫ফুট হয়ে গেছে।
বুধবার সকাল ১০টার দিকে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম,উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের অফিস সহকারী আবুল হাসান ও চারজন আনসার সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই ফসলরক্ষা বাঁধটিতে অভিযানে যান। উপজেলা প্রশাসনের এই অভিযান টের করে পের ওই বাঁধে মাছ শিকার কাজে নিয়োজিত থাকা ৩-৪জন ব্যক্তি সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান। হুলাসখালী ফসলরক্ষা বাঁধ থেকে জব্দ করা তিনটি নিষিদ্ধ ভিম জাল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা ও চেতনার মশাল ফোরাম নামের সামাজিক সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক নাদিম কবীর বলেন, উপজেলা প্রশাসন উপজেলার হুলাসখালী ফসলরক্ষা বাঁধে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে তিনটি নিষিদ্ধ জাল জব্দ করে সেসব জাল আগুন ;দিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করার কাজটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমরা মনে করি শুধু অভিযান চালানোতেই ক্ষ্যান্ত থাকলে চলবে না। ফসলরক্ষখা বাঁধ কাটা ও বাঁধে মাছ শিকার করে যারা সরকারি সম্পদ বিনষ্ট করেছেন তাঁদেরকে খোঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জোর দাবি জানাচ্ছি।
ভারপ্রাপ্ত ইউএনও অলিদুজ্জামান বলেন,সরকারি সম্পদ বিনষ্ট করার কাজে জড়িতদেরকে খোঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রয়েছে।
Copyright © 2026 জৈন্তাপুর প্রতিদিন. All rights reserved.