
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বন্য হাতির আক্রমণে বিজয় সাংমা(৫২) ও ফয়জুল ইসলাম (৩৩) নামে দুই কৃষকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) রাতে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বিজয় সাংমা এবং শনিবার (২২ এপ্রিল) ঘটনাস্থলেই মারা যায় ফয়জুল ইসলাম।
জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় খাদ্যের সন্ধানে প্রায় ৪০-৫০টি বন্য হাতি ধান ক্ষেতে তাণ্ডব চালিয়ে আসছে। এলাকাবাসী ফসল রক্ষা করতে রাত জেগে ধান ক্ষেত পাহারা দিচ্ছে। মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) রাতে বন্য হাতির দলটি পোড়াগাঁও ইউনিয়নের পুর্ব সমশ্চুড়া গ্রামের কৃষক বিজয় সাংমার বোরো ধান ক্ষেতে হানা দেয়।
বিজয় সাংমা ফসল রক্ষা করতে হাতির দলটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে বন্য হাতির দল বিজয় সাংমার ওপর আক্রমণ করে। এ সময় হাতি বিজয় সাংমার বুকে ও পেটে পা দিয়ে লাথি মারে এবং তলপেটে চাপা দেয়। পরে স্বজনরা হাতির দলটিকে তাড়িয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় বিজয় সাংমাকে উদ্ধার করে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে বিজয়কে শেরপুর সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বৃৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কৃষক বিজয় সাংমার মৃত্যু হয়।
অপরদিকে, শনিবার বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট-নালিতাবাড়ি সীমান্তবর্তী গাবরাখালী এলাকায় ২০-৩০টি হাতি দল বেঁধে ধানক্ষেতে নেমে আসে। ফসল রক্ষায় এলাকাবাসী হাতিকে ধাওয়া করেন। এ সময় কৃষক ফয়জুল হাতির খুব কাছাকাছি চলে যান। এ সময় হাতি শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে পা দিয়ে পিষ্ট করে। পরে হাতির দল সরে গেলে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় ফয়জুলকে উদ্ধার করে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ময়মনসিংহ বন বিভাগের মধুটিলা ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত কৃষকের পরিবারকে বন বিভাগের পক্ষ থেকে ৩ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া বন্যহাতির আক্রমণে পাহাড়ি এলাকার মানুষের সম্পদ রক্ষার্থে বন বিভাগ কাজ রয়েছে।
নালিতাবাড়ী থানার ওসি এমদাদুল হক বলেন, নিহত বিজয় সাংমার লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খৃষ্টফার হিমেল রিছিল বলেন, নিহত কৃষক বিজয় সাংমার পরিবারকে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।