
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন হাসপাতালটির জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মো. কায়সার হাসান খান।
রবিাবার দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এসময় তিনি বলেন, গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইডিসিএল বর্হিভুত দরপত্রের মাধ্যমে উচ্চ দামে নি¤œমানের ওষুধ ক্রয়, স্বাক্ষর জালিয়াতি, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ আরও বেশ কয়েকটি অভিযোগের কথা জানান।
লিখিত বক্তব্য পাঠ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার অজ্ঞাতে বিভিন্ন অনিয়ম হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি পদক্ষেপ নিতে চাওয়ায় তার উপর বিভিন্নভাবে দায় চাপিয়ে তার সুনাম হানি করার জন্য একটি প্রভাবশালী মহল তার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে। এর আগে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বিগ্ন থাকায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
এসময় তার সাথে গাড়ির ড্রাইভার ছিল। তিনিও হয়রানির স্বীকার হয়েছেন বলেও জানান। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলে গেলে প্রায় দেড়-দুইশ সন্ত্রাসী হাসপাতালের ভিতরে অতর্কিতে হামলা চালায়। নিম্মমানের ঔষধ গ্রহন করতে অস্বীকৃতি জানালে ডা.মো. কায়সার হাসান খান অফিস প্রধানের রোষানলের স্বীকার হন এবং তার কথা অগ্রাহ্য করেই জোরপূর্বক সেসব ঔষধ হাসপাতাল স্টোরে মজুদ করার নির্দেশ দেন। তার অজ্ঞাতে মূল্যায়ন কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে অত্র হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ইমতিয়াজ হোসাইন এবং সদস্য হিসেবে স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিয়ে তারই সহধর্মীণি ডা. শামীমা সুলতানা, যিনি পার্শ্ববর্তী নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা, তাঁকে নিয়ে গঠন করা হয়েছে। এমনকি মুল্যায়ন কমিটির কোন চিঠি বা অফিস আদেশ কখনই তিনি পাননি। এই সুযোগে তার অজান্তে পুরো মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে এবং ডা. কায়সারের নামে আইডি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে তার ইলেক্ট্রনিক স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন প্রায় ১ কোটি ১৪ লক্ষ টাকার সরকারি আর্থিক কেনাকাটায় বিশাল অংকের অর্থ কারচুপির বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এজন্য তার উপর খড়গহস্ত হয়ে ক্রমাগত মানসিক টর্চার করতে থাকেন এবং অভিযোগ প্রত্যাহার করতে বিরামহীন চাপ দিতে থাকেন বলে জানান তিনি। অভিযোগের ভিত্তিতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয় এবং গত ৭ এপ্রিল কমিটির সদস্যবৃন্দ তদন্ত করতে আসলে সেদিন তাকে হুমকি, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ প্রায় দুই শতাধিক বহিরাগত লোকজন দিয়ে মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে হাসপাতাল কমপ্লেক্সের ভিতরে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয় এবং তার গাড়ির ড্রাইভারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
সেইসাথে তদন্ত প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে সব রকম কৌশল অবলম্বন করা হয়। বিগত সময়ে বৈকালিন চেম্বারে তার প্রাপ্ত পারিশ্রমিক থেকেও ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন ১০ হাজার টাকা জোর করে আদায় করতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এজন্য তিনি উর্ধ্বতন মহলের কাছে বিষয়টির সুষ্ঠু সুরাহা প্রত্যাশা করেন।