

কার্যাদেশ ও প্রথম কিস্তির টাকা না পাওয়ার অভিযোগ, ধর্মপাশার চন্দ্র সোনার থাল হাওরের ৯২নং প্রকল্পে বাঁধ নির্মাণ কাজ বন্ধ৷
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চন্দ্র সোনার থাল হাওরের ৯২নং প্রকল্পের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজটি গতকাল রবিবার সকাল থেকে বন্ধ করে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যরা।
প্রকল্প কাজের কার্যাদেশ ও বরাদ্দের প্রথম কিস্তির টাকা না পাওয়ায় কাজটি বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না বলে শঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চন্দ্র সোনার থাল হাওরটি সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে রয়েছে। হাওরের আওতায় দুই হাজার ১৭৫ হেক্টর বোরো জমি রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের রাজাপুর গাজীনগর গ্রামের সামনে থেকে ঘোড়াচক্কর ও খুশিয়াকান্দা হয়ে দৌলতপুর গ্রামের সামনের পর্যন্ত নতুন বিকল্প বাঁধ নির্মাণ করার উদোগ নেয় উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ কমিটি।
এ নিয়ে সভা করে রেজুলেশনও করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে এই স্থানটিকে এবার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবোর) ফসল রক্ষা বাঁধের আওতায় আনা হয়। এখানে তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) রয়েছে।
চন্দ্র সোনার থাল হাওরের ৯২নং প্রকল্পের পিআইসির সভাপতি আলমগীর কবীর গত ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে অ্যাক্সেভেটর দিয়ে লোকজন নিয়োজিত করে ওই প্রকল্পে মাটি ফেলার কাজ শুরু করেন। আবাদকৃত বোরো জমির ফসল বিনষ্ট করে প্রকল্পটিতে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ করায় উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান(৩০) বাধায় প্রকল্প কাজটি ওই দিনই বন্ধ হয়ে যায়।
পরে শারিরীক অসুস্থতা ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই প্রকল্পটির কাজ শেষ করতে পারবেন না বলে পিআইসির সভাপতি আলমগীর কবীর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অব্যাহতি চেয়ে লিখিত আবেদন করেন। এ অবস্থায় পিআইসির কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন পিআইসি গঠন করা হয়।
২১ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু করেন নতুন পিআইসির সদস্যরা। কিন্তু প্রকল্প কাজের কার্যাদেশ ও প্রথম কিস্তির টাকা না পাওয়ায় গতকাল রবিবার সকাল থেকে বাঁধ নির্মাণ কাজটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চন্দ্র সোনার থাল হাওরের ৯২নং পিআইসির বর্তমান সভাপতি জিয়াউর রহমান বলেন, প্রকল্প কাজের কার্যাদেশ না দিয়েই আমাদেরকে বাঁধের কাজ শুরু করতে বলায় গত মঙ্গলবার (২১ফেব্রুয়ারি) থেকে আমরা বাঁধ নির্মাণ কাজটি শুরু করি। কার্যাদেশ এখনো পাইনি। প্রথম কিস্তির টাকা না পাওয়ায় টাকার অভাবে বাঁধ নির্মাণ কাজটি রবিবার থেকে বন্ধ রয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী ও উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ৯২ নং প্রকল্প কাজের কার্যাদেশ পিআইসির সভাপতিকে দেওয়া হয়েছে। তবে ব্যাংকে একাউন্ট না করায় প্রকল্পটির বরাদ্দের প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া যাচ্ছে না। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যা নিরসন হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শীতেষ চন্দ্র সরকার বলেন, কার্যাদেশ না পাওয়া ও বাঁধ নির্মাণ কাজটি বন্ধ থাকার বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি।খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।