///

ধর্মপাশায় বৃদ্ধের চোখ নষ্ট করায় সংবাদ সম্মেলন

21 mins read

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ঘুলুয়া গ্রামের বাসিন্দা কালা মিয়া (৬৫)কে প্রতিপক্ষের লোকজন মারধর করে তাঁর বাম চোখটি পুরোপুরি নষ্ট করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৯নভেম্বর বিকেল পাঁচটার দিকে উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের টুকের বাজার নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে আহত ওই বৃদ্ধের ছেলে আইয়ুব আলী (২৪) বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে গত ২৬নভেম্বর ধর্মপাশা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এটি এখনো মামলা হিসেবে নথিভূক্ত করেনি ধর্মপাশা থানা পুলিশ। থানায় মামলা না নেওয়ার প্রতিবাদে ওই বৃদ্ধের ছেলে গতকাল রবিরার (১১নভেম্বর) বেলা দুইটার দিকে উপজেলা বিআরডিবি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আইয়ুব আলী। তিনি লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, পূর্ব বিরোধের জের ধরে উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ঘুলুয়া গ্রামের সামনে থাকা টুকের বাজার নামক স্থানে গত ৯নভেম্বর বিকেল পাঁচটার দিকে তাঁর বৃদ্ধ কালা মিয়া(৬৫) কে একই গ্রামের বাসিন্দা আবদুল ওয়াহেদের(৬৫) ছেলে মুকশেদ মিয়া(৪০) ও তাঁদের লোকজন লোহার রড ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তাঁর বাবার বামচোখে গুরুতর আঘাত পান। ওইদিনই তাঁকে চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ নেওয়া হয়।

২৪ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁকে ময়মনসিংহের ধোপাকলা মোড়ে থাকা চক্ষু হাসপাতাল ও ময়মনসিং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে ২৪ নভেম্বর তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে ২৬ নভেম্বর আইয়ুব আলী (মারধরে আহত বৃদ্ধের ছেলে) বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে ধর্মপাশা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এখনো মামলা হিসেবে নথিভূক্ত করেননি।

আহত ওই বৃদ্ধের ছেলে আইয়ুব আলী বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আমাদের গ্রামের মোকশেদ মিয়া ও তাঁর লোকজন মিলে আমার বাবাকে মারধর করার এই ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। আমার বাবার বাম চোখটি এখন পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। ওই চোখে তিনি একেবারেই দেখতে পান না। এ নিয়ে ধর্মপাশা থানার ওসির কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও ওসি স্যার আমাদের অভিযোগটি গড়িমসি করে সময় পার করছেন।তিনি আমাদের অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভূক্ত করেননি। থানায় মামলা না নেওয়ার প্রতিবাদে আমরা সংবাদ সম্মেলন করেছি।

সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ঘুলুয়া গ্রামের বাসিন্দা মুকশেদ মিয়া(৪০) দাবি করেন, বৃদ্ধ কালা মিয়া আমার সম্পর্কে বোনজামাই। আমরা তাঁকে মারধর করিনি। তাঁর ওই চোখে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা ছিল। ওই চোখে তিনি অপারেশনও করিয়েছিলেন। স্থানীয় একটি কুচক্রী হল ঘটনাটি অন্যদিকে প্রবাহিত করে আমি ও আমার লোকজনকে বিপাকে ফেলার ষড়যন্ত্র করে আসছে। গ্রাম্য সালিসে সাক্ষ্য প্রমাণে আমরা দোষী হলে সালিস থেকে যে রায় আসবে তা আমরা মাথা পেতে নেব।
সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেন বলেন. বাদী ও বিবাদীর সম্মতিতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনাটি সামাজিক ভাবে শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই পক্ষ ও এলাকার গণ্য মান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সোমবার (১২ডিসেম্বর)গ্রাম্য সালিসের মাধ্যমে ঘটনাটি মীমাংসা করা হবে।

ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, আহত বৃদ্ধের পরিবারের সদস্যরা গ্রাম্য সালিসের মাধ্যমে ঘটনাটি মীমাংসা করতে চাচ্ছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানও অবগত আছেন। থানায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগটি ভিত্তিহীন। গ্রাম্য সালিসে ইউপি চেয়ারম্যান ও এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিরা বসে ঘটনাটির মীমাংসা করে ব্যর্থ হলে আমরা বাদীর দেওয়া লিখিত অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভূক্ত করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version