

ভারতীয় পন্য চোরাচালানের নিরাপদ রুট সিলেটের সীমান্তবর্তী কানাইঘাট উপজেলা।
এলাকাবাসী জানান, কানাইঘাট পৌর এলাকাধীন বায়মপুর গ্রামের শওকত আলীর পুত্র শিব্বির আহমদ এবং একই গ্রামের সফর আলীর পুত্র রিয়াজ উদ্দিন ও কয়ছর আহমদের নেতৃত্বে ২০ সদস্যের একটি সিন্ডিকেট ভারতীয় পন্য চোরাচালানীতে জড়িত।
স্থানীয় সূত্রে প্রকাশ, কানাইঘাট উপজেলার সুরমা নদীর উত্তরাংশে লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে রয়েছে পাহাড়ী স্থল সীমান্ত। পূর্বে কাড়াবাল্লা থেকে পশ্চিমে লোভা নদী ও দক্ষীনে সুরমা নদী পর্যন্ত পুরো ইউনিয়নে কোন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। কার্যকর ও দ্রুততর সময়ে অভিযানের কোন ব্যবস্থা নেই। আর সেই সুযোগে সীমান্তের এসব এলাকা দিয়ে অবাধে নামানো হয় ভারতীয় চোরাই পন্য। আবার ফিরতি পাচার করা হয় মটর সুটি-রসুনসহ বিদেশ থেকে আমদানী করা বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও সামগ্রী।
কানাইঘাট কাড়াবাল্লা, ডোনা ও মুলাগুল সীমান্ত দিয়ে কানাইঘাট পৌর সদরের খেয়াঘাটে ও কানাইঘাট বাজারে নিয়ে আসা হয়। অপর দিকে লোভাছড়ার পশ্চিম সীমান্ত এলাকার সুরইঘাট, কালীনগর, চতুল, দরবস্ত ও জৈন্তাপুরের স্থল সীমান্ত দিয়ে আনীত ভারতীয় চোরাই পন্য সিলেট নগর এড়িয়ে দরবস্ত-কানাইঘাট সড়ক দিয়ে কানাইঘাট বাজার ও কানাইঘাটস্থ সুরমা ব্রীজের পূর্ব পাশের বায়মপুরে নিয়ে আসা হয়ে থাকে। সারী-দরবস্ত হয়ে বালু ও পাথরবর্তী ট্রাকের মধ্যে দিয়েও কানাইঘাটে নিয়ে আসা হয় ভারতীয় চোরাই পন্য।
সূত্রমতে কানাইঘাটের সুরমা নদীর দক্ষীন পাড়ে পুরাতন বাস স্টেশনে রয়েছে চোরাকারবারী রিয়াজ ও শিব্বিরের তত্বাবধানে ভারতীয় চোরাই পন্যের ৪টি গোদাম। বায়মপুরের চোরাচালানী শিব্বিরের বাড়ীতে ২টি চোরাইমালের গোদাম। এখান থেকে তাহারা বিভিন্ন কোম্পানীর গাড়ীতে ভারতীয় চিনির বস্তা বদল করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারতীয় পণ্য পাচার করে থাকে।
অভিযোগের বিষয়ে শিব্বির আহমদ ও রিয়াজের সাথে কথা হলে তারা নিজেদেরকে পাথর ব্যবসায়ী দাবী করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয় বলে জানান।
কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন্ত ব্যানার্জীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, টাক্সফোর্স গঠন করে অচিরেই মাঠে নামবেন।
কানাইঘাট থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম দস্তগীর আহমেদ বলেন, আমি কানাইঘাট থানায় যোগদানের পর সবক তথ্য নিতেছি। চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।


