

সিলেটের ওসমানীনগরে দিপা রানী সিংহ(১৪) নামের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধারের তিনদিন অতিবাহিত হলেও এই ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক পারেনি পুলিশ। ঘটনার পর থানা পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেও কোন রহস্য উদঘাটন করতে পারেননি।
এ ঘটনায় দিপার পিতা বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী দিয়ে শনিবার (১১ মার্চ) দুপুরে ওসমানীনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দিপার কথিত প্রেমিকসহ কয়েক জনকে থানায় পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেও কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাইন উদ্দিন।
তিনি জানান, নিহতের পিতা পীযুষ সিংহ বাদি হয়ে শনিবার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) ভোরে উপজেলার তাজপুর দুলিয়ারবন্দের নির্মাণাধীন একতলা ভবনের ছাদে লাশটি পাওয়া যায়।
দিপা মাথা ও শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। নিহত দিপা কুমিল্লা জেলার বরুড়া থানার তলা গ্রামের পীযুষ সিংহের মেয়ে ও তাজপুর মঙ্গল চন্ডি নিশি কান্ত সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। দিপা পরিবারের সাথে দুই বছর ধরে দুলিযারবন্দ এলাকায় তাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান অরুনোদয় পাল ঝলকের বহুতল ভবনের চার তলায় বাস করছে।
পুলিশ ও নিহততের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতের খাবের খেয়ে পিতা পীযুষ সিংহের সাথে একই কক্ষে ঘুমিয়ে পরে দিপা সিংহ। ভোর ৫টার দিকে পিতা পীযুষ ঘুম থেকে জেগে দেখেন মেয়ে পাশে নেই। ঘরের সদর দরজা খোলা। মা ও বড় ভাইয়ের মোবাইল এবং ঘরের চাবি নির্দিষ্ট স্থানে নেই। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর পাশের নির্মাণাধীন ভবনে ছাদে দিপার রক্তাক্ত লাশ খুঁজে পান তার পরিবার। পরিবারের লোকজন দিপাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দিপাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসমানীনগর থানা পুলিশ খবর পেয়ে সকাল ৯টার দিকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সুরতাল শেষ করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশ প্রেরণ করে।


