
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ নয় বছর পর অপারেশনের মাধ্যম এক কন্যা শিশুর জন্ম হয়েছে। চিকিৎসক জানায় সফল এই অপারেশনের পর মা ও শিশু সুস্থ আছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২০১৫ সালে সিজারের মাধ্যমে শিশু জন্মের পর দীর্ঘ নয় বছর কোন সিজারের মাধ্যমে কোন শিশুর জন্ম হয়নি হাসপাতালে। দীর্ঘ সময় নানান প্রতিকূলতা ও লোকবল সংকটের কারণে প্রসূতি মায়েদের সিজার করা বন্ধ ছিলো।
২০২৪ সালের প্রথম দিকে অত্র হাসপাতালে ডাঃ সাইফুল ইসলাম স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রাথমিক পর্যায়ে প্রসূতি মায়েদের সিজারের সার্বিক ব্যবস্থা ও প্রস্তুতি গ্রহন করেন।
ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৮শে অক্টোবর) সকাল ১০ টা ২০ মিনিটে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অপারেশন থিয়েটারে সফল অপারেশনের মধ্যমে এক কন্যা শিশুর জন্ম হলো।
জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ মিলাদুর রহমান বলেন, নবজাতক কন্যাশিশুর পিতা সেলিম আহমেদ। তাদের বাড়ী নিজপাট ইউনিয়নের বারগাতী গ্রামে।
তিনি আরও জানান, গতকাল সন্তান সম্ভবা প্রসূতী মাকে নিয়ে হাসপাতালে এলে পরীক্ষা নিরিক্ষা করে জানা যায় শিশুটি মাতৃগর্ভে উল্টো অবস্থায় রয়েছে। এ সময় ডাঃ সাইফুল ইসলাম মহোদয়ের পরামর্শে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে প্রসূতি মায়ের সিজার করতে হবে এবং তা নিজেদের কর্মস্থল জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে রাতে অপারেশনের সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহন করা শেষে সকাল ১০:২০ ঘটিকায় সফল অপারেশনের মাধ্যমে কন্যা শিশুর জন্ম হয়।

জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, এটা নিঃসন্দেহে জৈন্তাপুরবাসীর জন্য একটি সুখবর। তিনি বলেন, কয়েকমাস পূর্বে প্রসূতি মায়েদের যাদের অবস্থা জটিল থাকতো তাদের হাসপাতালে সিজারের পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে কেউ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজার করাতে রাজি হতো না। আজকের সফল সিজারের পর উপজেলাবাসী নিশ্চই সেই আস্থা ফিরে পাবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করে।
তিনি বলেন, আজকে সফল অপারেশনে হাসপাতালের গাইনি কনসাল্টেন্ট ডাঃ সঙ্গিতা দেবী, এনেস্থিসিয়া কনসালটেন্ট ডাঃ জনি লাল দাস ও আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ মিলাদুর রহমান অপারেশন পরিচালনা করেন। এ ছাড়াও সিনিয়র নার্স মুসলিমা খাতুন ও উর্মী আক্তার অপারেশন থিয়েটারে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন নবজাতকের ওজন আড়াই কেজি। মা ও শিশু সুস্থ আছে, পাশাপাশি হাসপাতাল থাকা প্রসূতী মায়ের জন্য সরকারি ঔষধ সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রসূতি মায়েদের জটিল সমস্যায় সিজারের প্রয়োজন হলে এখন থেকে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় সেবা দেয়ার সব ধরণের প্রস্তুতি রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।


