
মো. রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর :: প্রকৃতিক সম্পদ তৈল, গ্যাস, পাথার, বালুর ও পর্যটনের অন্যতম আর্কষণীয় আসন হচ্ছে ২৩২-সিলেট-৪। এই আসনের প্রতিনিধি প্রাপ্তীতে ঘিরে শুরু হতে নানা প্রকার টান পোড়নের মাধ্যমে আসনটি ছিল আলোচনার কেন্দ্র বিন্ধুতে। সর্বশেষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি তাদের পরীক্ষিত ও জননন্দিত সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে মনোনয়নের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী ৩টি উপজেলা (জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ) নিয়ে গঠিত সিলেট-৪ আসন ভোট যুদ্ধে তিনি মাঠে নামেন। তার বিপরীতে জৈন্তাপুর উপজেলার আরেক জননন্দিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়েতের সেক্রেটারী জয়নাল আবেদীন মাঠে নামেন ভোট যুদ্ধে।
এই দুই প্রার্থীকে ঘিরে সীমান্ত জনপদ জুড়ে এখন নির্বাচনী আমেজ পুরোদমে চলছে। প্রার্থীদের সরব প্রচারণা, শহর থেকে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ছুটে বেড়ানো আর কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গণসংযোগে শেষ মুহুত্বে জমে উঠেছে ভোটের মাঠ।
সিলেট-৪ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বি হিসাবে ভোটের মাঠের দুই ‘নট আউট’ নেতার প্রচার প্রচারনায় মুখোরিত। এই দুই প্রার্থীর মধ্যেই মূল লড়াই হচ্ছে এখন প্রতিয়মান। নটআউট (অপরাজিত) মধ্যে শেষ হাসি কে হাসবেন তা ১২ ফেব্রুয়ারী ভোটর মাধ্যমে সীমান্ত জনপদের প্রায় পাঁচ লক্ষ ভোটার নির্ধারন করবে।
ভোটের রাজনীতিতে বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী (ধানেরশীষ) একটি প্রভাবশালী নাম। সাবেক অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান তাকে বলতেন ‘ডিপ্লোমেটিক লিডার’। ভোটের লড়াইয়ে নিজের ক্যারিশমা একাধিকবার সিলেট শহরবাসীকে দেখিয়েছেন আরিফ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে সরকার দলেরই প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় প্রার্থী সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে পরাজিত করে সিলেট সিটির দুই বার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এবার সীমান্ত জনপদেও তিনি ভোটের কারিশমা দেখবেন বলে আশা তার অনুসারীদের।
অপরদিকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াত নেতা সাবেক দুইবারের উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন (দাঁড়িপাল্লা) নিজ নির্বাচনী এলাকায় ভোটের মাঠের জনপ্রিয় নাম। তিনি ওই নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা। ওই এলাকায় এবারের নির্বাচনে ‘স্থানীয়’ ও ‘বহিরাগত’ ইস্যু বেশ আলোচিত হচ্ছে। এই ইস্যুর সুবিধা পাচ্ছেন জয়নাল। এছাড়া জায়নাল আবেদীন ভূসন্তান হওয়াতে এলাকার সাধারণ জনগন মনে করছে বিগত দিন গুলোতে দূর্যোগ, খরা, সহ উপজেলা জনস্বার্থের সকল আন্দোলনে অগ্রপথিক হিসাবে জয়নাল মানুষের পাশে ছিলেন। ১৭পরগনার সকল আন্দোলনে তার ছিল অগ্রনী ভূমিকা। উপজেলা চেয়ারম্যান হিসাবে কাজ করেছেন ন্যায্যতার মাধ্যমে। বেশির ভাগ এলাকার সাধারণ মানুষ মনে করছে বর্তমান সময়ে সম্প্রিতির বন্ধনে তিনি সবাইকে আবদ্ধ করে ফেলেছেন। যার বদৈলতে তিনি দলীয় প্রার্থী হিসাবে নয়, ভূসন্তান হিসাবে এই আসনে কারিশমা দেখাতে পারেন।
ইতোমধ্যে প্রার্থী ও দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও নির্বাচন কেন্দ্রিক কথাবার্তা শুরু হয়েছে। চায়ের আড্ডায়, বিভিন্ন আসরে ঘুরেফিরে নির্বাচনের কথা উঠছে। যার যার মতো করে চুলছেড়া বিশ্লেষণ চলছে, নিজেদের মধ্যে হচ্ছে যুক্তি তর্কবিতর্কও চলছে হরদমে এলাকার হাট-বাজর ও চা দেকানে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুই অপরাজিত “নটআউট” নেতাদের মধ্যে ভোটের হিসাবে কে হাসবেন, কে কাঁদবেন- সেই চিত্র দেখতে অপেক্ষার জন্য সাধারণ মানুষ অপেক্ষার প্রহর গুনছে ১২ ফেব্রুয়ারি জন্য।


