কুমিল্লা পাসপোর্ট অফিস মারধরের ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নেন উপপরিচালক

14 mins read

কুমিল্লা পাসপোর্ট অফিস মারধরের ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নেন উপপরিচালক

এক পাসপোর্ট গ্রহীতাকে মারধরের দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করায় এক সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক মো. নুরুল হুদার বিরুদ্ধে।
ওই সাংবাদিকের নাম মো. সাফি। তিনি বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার কুমিল্লা প্রতিনিধি। দুর্নীতির সন্ধানে পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি ও কুমিল্লা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য রকিবুল ইসলাম ওরফে রানার সঙ্গে ওই পাসপোর্ট অফিসে গিয়েছিলেন সাফি।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লা শহরতলির নোয়াপাড়া এলাকায় অবস্থিত কুমিল্লা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে এ ঘটনা ঘটে। পরে জেলার অন্য সাংবাদিকেরা পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে মুঠোফোন ফেরত নেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপপরিচালক মো. নুরুল হুদা বলেন, অনুমতি না নিয়ে ভিডিও ধারণ করায় ওই ব্যক্তির মুঠোফোন নিয়ে নেওয়া হয়। পরিস্থিতি শান্ত হলে সেটি ফেরত দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সাংবাদিক রকিবুল ইসলাম তাঁর ব্যক্তিগত পাসপোর্ট আনার জন্য সোমবার সকালে কুমিল্লা পাসপোর্ট অফিসে যান। এ সময় তাঁর সঙ্গে মো. সাফিও ছিলেন। রকিবুল টোকেন সংগ্রহ করে পাসপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তখন তাঁরা পাসপোর্ট অফিসের ভেতরে গন্ডগোল দেখে এগিয়ে যান এবং দেখতে পান উপপরিচালক মো. নুরুল হুদা চেয়ার দিয়ে কয়েকজন পাসপোর্ট গ্রহীতাকে মারধর করছেন। এ সময় সাফি তাঁর মুঠোফোন থেকে দৃশ্যটির ভিডিও ধারণ করছিলেন।
হঠাৎ উপপরিচালক এগিয়ে এসে মুঠোফোন কেড়ে নেন এবং তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন। খবর পেয়ে কুমিল্লা থেকে অন্য সাংবাদিকেরা পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে উপপরিচালকের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুর রহমান পুলিশের একটি দল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। তিন ঘণ্টা পর পুলিশের মধ্যস্থতায় কেড়ে নেওয়া মুঠোফোনটি ফেরত দেওয়া হয়।
সাংবাদিক রকিবুল ইসলাম বলেন, মারধরের দৃশ্যের ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই কর্মকর্তা। এ সময় তিনি গালাগাল করেন ও সাফির মুঠোফোন কেড়ে নেন।
মারধরের শিকার মো. সাকিব নামের এক পাসপোর্ট গ্রহীতা বলেন, তিনি হোমনা থেকে সকালে পাসপোর্টের জন্য আসেন। চার ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে পায়ে ব্যথা অনুভব করছিলেন। এ সময় তিনিসহ ৩-৪ জন একটি টেবিলে বসেন। হঠাৎ উপপরিচালক নুরুল হুদা এসে কোনো কিছু না বলেই চেয়ার দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন।
জানতে চাইলে ওসি সহিদুর রহমান বলেন, বিষয়টি মিটমাট করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version