

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার একমাত্র পাথর কোয়ারী শ্রীপুর। সম্প্রতি পাথর কোয়ারী হতে একটি চক্র সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নাম বিক্রয় করে পাথর কোয়ারী হতে পাথর উত্তোলন করছে। চলতি মাসে দুই দফা অভিযানের পর থেমে নেই অবৈধ ভাবে পাথর উত্তোলন শনিবার হতে পাথর খেকু চক্রের সদস্যরা পুনরায় শ্রীপুর পাথর কোয়ারী হতে পাথর উত্তোলন শুরু করে।
এলাকাবাসী জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞার পর দুই দফা উপজেলা প্রশাসন শ্রীপুর পাথর কোয়ারী অবিযান পরিচালনা করে। কিন্তু অভিযানের পর পর দুই-তিনদিন পাথর খেকু চক্রের সদস্য সাইদুর রহমান, আব্দুল জব্বার, সালেহ আহমদ গংরা পুনরায় সংশ্লিষ্ট অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজেসে পুনরায় পাথর কোয়ারী হতে পাথর উত্তোলন শুরু করেছে। কোন বাঁধাই যেন শ্রীপুর কোয়ারীর পাথর লুন্টন বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

শনিবার ও রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায় শ্রীপুর কেয়ারীর ১২৮০ নম্বর আন্তজার্তীক সীমান্ত পিলার অতিক্রম করে ৪০/৫০ জনের শ্রমিকদল ভারতে প্রবেশ করে পাথর এনে জিরো লাইন সংলগ্ন নদীর ঘাটে জমাবদ্ধ করে রাখছে। সেই পাথর রাতের আঁধারে নৌকা যোগে শ্রীপুরস্থ খড়মপুর কোয়ারীর রাস্তা এবং স্থানীয় মন্ত্রী মহোদয়ের চা-বাগান এলাকায় ঝড়ে করে। পরে ডি.আই ট্রাক যোগে সেই পাথর বিভিন্ন ক্রাশার মিলে সরবরাহ করছে। অপরদিকে শ্রীপুর কোয়ারীর সীমা হতে ৪ নম্বর বাংলাবাজার পর্যন্ত আরেকটি চক্র সরকারী নিষেদাজ্ঞা অমান্য করে রাংপানি নদী হতে পাথর বালু উত্তোলন করছে। ফলে সরকার হারাচ্ছে শত শত লক্ষ টাকার রাজস্ব।
অভিযানের পর থেমে নেই পাথর খেকু চক্রের সদস্য সাইদুর রহমান, সালেহ আহমদ, আব্দুল জব্বার গংরা। তারা দেদারছে পাথর উত্তোলন করে রাতে রাতেই তিনটি ধাপে পাথর সরিয়ে নিচ্ছে কোয়ারী এরাকা হতে। সংশ্লিষ্ট আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দেখেও না দেখার অবস্থায় রয়েছে। তারা বলেন এরকম চুরির নামে সীমান্ত অতিক্রম করে পাথর উত্তোলন করলে অভিযানের পর ধরা ছোয়ার বাহিরে থেকে যাচ্ছে চক্রের সদস্যরা।

পাথর কোয়ারী খোলার জন্য এবং সরকার রাজস্ব আদয়ের লক্ষ্যে জনপ্রতিনিধিরা উচ্চ পর্যায়ে আবেদন নিবেদন করে সরজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। একটি চক্র সংশ্লিষ্ট আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় অবৈধ কার্যকলাপ করছে। সরকারি সম্পদ রক্ষার উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করার দাবী জানান। এবং চক্রটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান।
উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারি কমিশনার (এসিল্যান্ড) রিপামনি দেবী বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে দুটি অভিযান পরিচালনা করি। এরপর একটি চক্র তাদের অপতৎপরাতা চালাচ্ছে। স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা প্রশাসক মাধ্যমে পুলিশ ও বিজিবি প্রশাসনের উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষেকে অবহিত করা হবে। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


