//

পদ্মায় জেগে উঠেছে চর, মাছের আকাল

14 mins read

নদীতে চর জেগে ওঠায় মাছের দেখা মিলছে না। জেলেদের আশা, শিগগিরই আবার মাছ ধরা পড়বে। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত কমছে। কিন্তু নদীতে তেমন মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। হতাশ জেলেদের অনেকে জাল গুটিয়ে রাখছেন। গত শুক্রবার উপজেলার দেবগ্রাম ও দৌলতদিয়া এলাকায় গিয়ে এই চিত্র দেখা যায়।

মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, নদীর নাব্যতা কমেছে, স্রোত নেই। চর জেগে ওঠায় মাছের দেখা মিলছে না। তবে জেলেরা আশা করছেন শিগগিরই আবার মাছ ধরা পড়বে।

শুক্রবার বিকেলে গোয়ালন্দের দেবগ্রাম ইউনিয়নের চর দেলন্দি এলাকায় দেখা যায়, পদ্মা নদী শুকিয়ে নালায় পরিণত হয়েছে। মাঝ নদীতে জেগে উঠেছে বিশাল বালুর চর। নদীর পাড়ে জেলেদের অলস সময় কাটাতে দেখা যায়। কেউ কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছেঁড়া-ফাটা জাল মেরামত করছেন। কেউবা জাল গুটিয়ে খামাল (স্তূপ) দিয়ে রাখছেন। আবার কেউ নৌকার সংস্কার কাজও করছেন।

জেলে আরমান খান নদীর পাড়ে বসে ছেঁড়া জাল মেরামত করছেন। পাশে বসে আছেন তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে। আরমান খান বলেন, ইলিশ সংরক্ষণের অভিযান শেষে কয়দিন ভালো মাছ ধরা পড়ছিল। ওই সময় কম-বেশি অনেকে মাছ পেয়েছিলাম। সপ্তাহ খানিক ধরে তেমন একটা মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের সুতি জালে বড় মাছ ধরা পড়ে। বাধ্য হয়ে জাল তুলে ছেঁড়া-ফাটা যা আছে, ঠিক করে রাইখা দিব।

জেলে আক্কাস সরদার সঙ্গীদের নিয়ে নদীর পাড়ে জাল খামাল (স্তূপ) দিচ্ছিলেন। তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে একবার জাল নদীর পাড়ে খামাল দিয়ে রাইখাছিলাম। ঝড়ে জাল নদীতে মাটির নিচে চাপা পইড়াছিল। ওই জাল তুলতে অনেক টাকা খরচ হয়েছিল। কয়েক দিন মাছ মোটামুটি পেয়েছিলাম। এহন কয়দিন ধইরা তেমন মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। যা পাই তা দিয়ে নিজেদের খরচ উঠছে না। তাই জাল তুলে খামাল দিইয়া রাখছি। কিছুদিন পর আবার নামাবো।

জেলে খায়রুল খাঁ বলেন, ‘পানি কমে নদীতে চর পইরা গেছে। ছোট দুই–চারটা ইলিশ ছাড়া কোন মাছ পাওয়া যায় না। পৌষ মাসে শীত ও কুয়াশায় উজানের অনেকে মাছ ধরতে পারেন না। তখন আমাদের অঞ্চলে কিছু মাছ ধরা পড়তে পারে। এই আশায় আমরা সবাই অপেক্ষা করছি।’

খায়রুল খাঁ আরও বলেন, আমার তিনটি নৌকায় ১০ জনের প্রতিদিন গড়ে ১ থেকে দেড় হাজার টাকা খরচ হয়। গত শুক্রবার ৬০০ টাকার মাছ বিক্রি করেছি। এই টাকা দিয়ে নৌকার খরচই উঠে না। সেখানে সংসারের খরচ চালাব কী করে ?

গোয়ালন্দ উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ শাহরিয়ার জামান বলেন, নদীতে স্রোত নেই। চর পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। নাব্যতা না থাকায় মাছ কমে যাচ্ছে। এভাবে নদীতে চর পড়তে থাকলে ভবিষ্যতে ইলিশের দেখা পাওয়া যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version