

পর্বতারোহণকে ক্রীড়া উল্লেখ করে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, আগামীতে বাংলাদেশের পুনর্জাগরণের নতুন অধ্যায়ের জন্য স্পোর্টসকে (ক্রীড়া) অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। স্পোর্টসের মাধ্যমে একটি জাতি বিশ্ব আসরে নতুনভাবে নিজেকে তুলে ধরতে পারে। স্পোর্টসকে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার জায়গায় নিয়ে আসা খুব জরুরি।
আজ শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ–নেপাল সম্মিলিত অভিযানে হিমালয়ের ‘ডোলমা খাং’ পর্বতশিখর জয় উপলক্ষে আয়োজিত পতাকা–প্রত্যর্পণ ও সংবাদ সম্মেলনে হোসেন জিল্লুর রহমান এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ–নেপাল কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করার জন্য দুই দেশের ছয় পর্বতারোহী এই অভিযানে অংশ নেন।
গত ১২ অক্টোবর দুই দেশের আট পর্বতারোহী ২১ হাজার ৪৪৩ ফুট উঁচু অবিজিত শিখর দোহারি হিমাল অভিযানে যান। কিন্তু ১৬ হাজার ৪০০ ফুট উচ্চতায় যাওয়ার পর বৈরী আবহাওয়ার কারণে অভিযানটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন তাঁরা। তারপর ২৪ অক্টোবর ডোলমা খাং অভিযানের নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সে অনুযায়ী ২ নভেম্বর নেপাল সময় সকাল ৯টায় বাংলাদেশের চার পর্বতারোহী এম এ মুহিত, বাহলুল মজনু, ইকরামুল হাসান ও রিয়াসাদ সানভী এবং নেপালের দুই পর্বাতারোহী কিলু পেম্বা শেরপা ও নিমা নুরু শেরপা ‘ডোলমা খাং’ শীর্ষে আরোহণ করেন।
হোসেন জিল্লুর বলেন, পর্বতারোহণ হলো মানুষের ভেতর যে শক্তি আছে, তা উন্মোচন করার প্রচেষ্টা। বৈরী আবহাওয়া এ বছরের কাকতালীয় বিষয় নয়। জলবায়ু পরিবর্তন এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে সার্বিকভাবে সচেতন হওয়া দরকার। কীভাবে এ বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া যায়, তা নিয়ে ভাবনার দরকার আছে।
পর্বতারোহী দলকে অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি বলেন, তাঁরা যখন পর্বত জয় করেন, যে পর্বতই জয় করেন না কেন, তখন শুধু পর্বতই নয়, আমাদেরও জয় করেন।
বাংলাদেশ–নেপাল সম্মিলিত অভিযান সফল উল্লেখ করে ঘনশ্যাম ভান্ডারি বলেন, এই অভিযান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি হিমালয় ও বঙ্গোপসাগর, পর্বত ও বাংলাদেশের ম্যানগ্রোভ বনকে সম্পৃক্ত করবে। বাংলাদেশ ও নেপালের মানুষদের সম্পৃক্ত করবে, সম্পর্কের উন্নয়ন করবে। এসব পর্বতারোহী পর্বত আরোহণ ও পর্যটনের জন্য সত্যিকারের দূতের ভূমিকা পালন করবেন। তাঁরা হাজার হাজার মানুষকে অনুপ্রাণিত করবেন।
ডোলমা খাং জয়ে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব প্রদানকারী পর্বতারোহী এম এ মুহিত বলেন, ‘আমরা রাত ১টায় অভিযান শুরু করি। সকাল ৯টায় চূড়ায় পৌঁছি। পৌঁছে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। সেখানে দুই দেশের পতাকা নিয়ে ছবি তুলি। আধা ঘণ্টার মতো চূড়ার শীর্ষে অবস্থান করে নেমে আসি।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইস্পাহানি টি লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মার্কেটিং অফিসার ফজলে রাব্বি, স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ বিপণন ব্যবস্থাপক ফজলে মাহমুদ, চক্ষু চিকিৎসক নিয়াজ আবদুর রহমান, অ্যান্টার্কটিকা ও সুমেরু অভিযাত্রী ইনাম আল হক, পর্বতারোহী বাহলুল মজনু ও রিয়াসাদ সানভী।
অভিযানটি যৌথভাবে পরিকল্পনা করেছে বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব ও ইমাজিন নেপাল এবং স্পনসর করেছে ইস্পাহানি টি লিমিটেড, স্কায়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেড ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি বাংক লিমিটেড। বাংলাদেশ বিমান ২৫ শতাংশ ছাড়ে অভিযাত্রীদের বিমান টিকিট দেয়।


