////

জৈন্তাপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ঘর ১লক্ষ টাকায় বিক্রয়

32 mins read

সিলেটের জৈন্তাপুরে মুজিব শতবর্ষে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের মধ্যে সরকারি জায়গায় অধিগ্রহন করে সরকারি অর্থায়নে ঘর বরাদ্ধ দেওয়া হয়। সেসব ঘর ক্রয় বিক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে।

মুজিব নগরের ঘর বিক্রয়ের ইস্তেফা নামা সূত্রে দেখা যায়, সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার তপশীল বর্ণিত ০.০২ একর (দুই শতক) ভূমি সরকারের নিকট হইতে জৈন্তাপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিসের মাধ্যমে রেজিষ্টারীকৃত দলিল মূলে মুজিব নগরের ঘরের মালিক হন শিরিনা বেগম। বিগত ১৯ জুন ২০২১ ইং তারিখে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জৈন্তাপুর এর ১৮৯/২০২০-২১ নং নামজারী মোকদ্দমার আদেশ মোতাবেক পৃথক ৩০৬ নং খতিয়াানে নিজ নামে নামজারী রেকর্ড করতঃ মালিক হয়ে বর্ণিত ভূমির সকল প্রকার ক্ষমতার সহিত নির্বিবাদে নির্ভেজাল অবস্থায় মুজিব নগরের ঘরে ভোগদখলকার হিসাবে আছেন।

ইস্তেফা নামায় দেখা যায়, বর্ণিত ভূমির মাটি কাটিয়াা, গর্ত ভরাট করিয়া ও জঙ্গল আবাদ করিয়া গৃহ নির্মাণ করার খরছ বাবদ ১(এক) লক্ষ টাকা নির্ধারন করে স্বাক্ষীগন সম্মুখে ভূমির উপর আধাপাকা টিনসেডের বসত ঘর দখল বিক্রয় করিয়া ইস্তেফা নামা পত্র সম্পাদন করিয়া দেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন দীর্ঘ ১৯ বৎসর হতে মেয়াদী মালিক মূলে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২২ ইংরেজী তারিখে ক্রেতার নিকট হস্তান্তর করেন।

সরকারি ঘর বরাদ্ধ নিয়ে ভূমির তথ্য গোপন করে নিজের ১৯ বৎসরের মালিকানা দাবী করে ভূমির মাটি কাটিয়া, গর্ত ভরাট করিয়া ও জঙ্গল আবাদ করিয়া গৃহ নির্মাণ করার খরছ করেন উল্লেখ করে জৈন্তাপুর সাব রেজিষ্ট্রার অফিসের সরকারী সনদধারী দলিল লেখক দ্বারা ইস্তেফা নামা তৈরী করে এবং স্বাক্ষী হিসাবে সাবেক যুবলীগের একনেতা, বর্তমান উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যকারি কমিটির একসদস্য এবং নিজপাট ইউনিয়নের ওয়ার্ডের সদস্য রয়েছেন।

ঘর বরান্ধ নিয়ে শুরুতেই অনিয়মের অভিযোগ উঠে। বাড়ী ঘর রয়েছে এমন ব্যক্তিদের মধ্যে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভীন এবং তৎকালীন সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে। প্রকৃত ভূমিহীন যেমন ফুলবাড়ী গ্রামে অন্যের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়ে একচালা আট-দশ হাতের একটি রুমে অন্ধ জসিম আহমদ ৩সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে বসবাস করলেও ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি কমিশনার বরাবরে আবেদন করে ঘর বরাদ্ধ পাননি। যারা ঘর বরাদ্ধ পেয়েছেন এমন ব্যক্তি তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরের পিয়ন ও পিয়নের নিকট আত্মীয়দের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর বরাদ্ধ করেন। সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে তালিকা যাচাই করলে প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে।

উল্লেখ্য যে, ঘর বরাদ্ধের অনুষ্ঠানে বর্তমান সরকারের মাননীয় বৈদেশিক কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী ২৩২ সিলেট ৪ আসনের সাংসদ ইমরান আহমদ এমপি হাতে উপজেলার চিকনাগুল ইউপির বাসিন্ধা প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘর ফেরত প্রদানকারী বলেন আমার বাড়ী ঘর থাকার পরও রহস্যজনক কারনে আমাকে ঘর বরাদ্ধ দেওয়া হয় আমি সেই ঘর মন্ত্রী মহোদয়ের হাতে ফিরিয়ে দিলাম যাহাতে প্রকৃত ভূমিহীনরা ঘরটি পায়। এসময় উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক এম কাজী ইমদাদুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভীন, সহকারি কমিশনার ফারুক হোসেন সহ অনুষ্ঠানে শত শত নেতাকর্মী ছিলেন।

কয়েক দফায় উপজেলায় ভূমি ও গৃহহীনদের মধ্যে ঘর বরাদ্ধের পর উপজেলার গোয়াবাড়ী এলাকা মুজিব নগর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বরাদ্ধকৃত ঘর গুলোর মধ্যে ৩ভাগোর দুই ভাগ ঘর থাকছেন না বেশির ভাগ উপকার ভোগীরা। যারা বসবাস করছেন তাদের মধ্যেও বেশিরভাগ উপকারভোগীরা বরাদ্ধকৃত ঘরে থাকছেন না। অনেকের ঘরে নিকট আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বসবাস বরছেন অন্যরা। অভিযোগ উঠেছে মুলত নিকট আত্মীয় নন তারা বিভিন্ন ভাবে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর ক্রয় করে বসবাস করলেও তারা নিকট আত্মীয় পরিচয় দেন। অনেক ঘর বরাদ্ধ পাওয়ার পর হতে এখন পর্যন্ত ঘরে উঠেনি কোন উপকারভোগী।

ভূমি ক্রেতা তাজুল ইসলাম মনু এবং তার স্ত্রী জেসমিন আক্তার জানান, কয়েকদিন ঘরে বসবাস করে জানতে পারি এটি সরকারি মুজিব বর্ষের ঘর। বিষয়টি জানতে পেরে মুজিব বর্ষের ঘর বিক্রেতা শিরিন আক্তারকে ধারস্ত হই ঘর ফেরত নিয়ে টাকা দিতে দাবী জানাই। শিরিন আক্তার টাকা ফিরত দিতে অস্বীকার জানান। তখনই বিষয়টি এলাকার বিশিষ্টজন সহ মুরব্বিদের জানাই। তাজুল ইসলাম মনু বিষয়টি জানানোর পর পর উপজেলা জুড়ে আলোচনায় আসে। এদিকে মুজিব বর্ষের প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর বিক্রয়কে কেন্দ্র করে উপজেলা জুড়ে ঘর বরাদ্ধের অনিয়ম দূর্নীতি প্রশ্ন উঠেছে।

মুজিব বর্ষের ঘর বিক্রেতা শিরিন আক্তার এর সাথে একাধিক বার যোগাযোগ চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসীর দাবী যেহেতু সরকার মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমি ও গূহহীনদের মধ্যে উপহার স্বরুপ ঘর দিয়েছেন। সেই সব ঘর পূর্ণ তদন্ত করে যাহারা ঘরে উঠেনি এবং ঘরে আত্মীয় পরিচয় দিয়ে অন্য লোক জায়গা দিয়েছে তাদেরকে অপসারণ করে ফুলবাড়ী গ্রামে ভূমিহীন অন্ধ জসিম সহ প্রকৃত ভূমি ও গ্রহহীনদের পূর্ণ বরাদ্ধের দাবী তুলেন। মুজিব বর্ষের ঘর বিক্রোতাদের বিরুদ্ধ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান। সেই সাথে সুবিধাবাদীদের রাজনৈতিক পরিচয়ধারীদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানান।

জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল বশিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার তথ্য পেয়ে সরজমিন তদন্তের জন্য লোক পাটানো হয়েছে। ঘর সনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মুজিব নগরের অন্যান্য ঘরের বাসিন্ধাদের তথ্য যাচাই বাছাই করা হবে। ঘর বিক্রয়ের সাথে যারা জড়িত থাকবেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version