

সিলেটের জৈন্তাপুরে মুক্তারুল হক হত্যার ঘটনায় ৬জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে ৷ এঘটনায় এজাহার নামীয় আসামী গ্রেফতার হয়নি৷ পুলিশ আসামীদের ধরতে অভিযান অভ্যাহত ৷
অভিযোগ সূত্র জানাযায়, বিগত ২বৎসর পূর্ব হতে বিবাদীগনের সহিত টাকা-পয়সা, জমি-জামা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে ৷ যারপ্রেক্ষিতে বিবাদীগন মারপিট সহ ক্ষতি সাধন করায় লিপ্ত রহিয়াছে৷ মুক্তারুল হক পেশায় একজন গৃহ শিক্ষক৷ তিনি ছাত্রদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে প্রাইভেট লেখাপড়া করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন ৷ প্রতিদিনের ন্যায় তিন ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় বাড়ী হতে বেরিয়ে যান ৷ মধ্যেরাত পর্যন্ত তিনি বাড়ী ফিরে না আসায় তার ব্যবহৃত ফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়৷ ছেলে বাড়ী ফিরতে হয়ত একটু দেরী হবে ভেবে তারা ঘুমিয়ে পড়েন ৷ কিন্তু মুক্তারুল হক (৩৬) বাড়ী ফিরে আসেনি৷ পরদিন ৪ডিসেম্বর সকাল ৭টায় মুক্তারুল হকের পিতা রহমত আলী বাড়ীতে থাকাবস্থায় গ্রামের লোকজন সিলেট-মহাসাড়কের সংযোগ সড়কের পাশে (তেলিজুরী-নয়াবাজার) রাস্তার জনৈক আয়ত মিয়ার মাটিকাটা জমিতে ছেলের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পেয়ে আমাকে খবর দেন৷ সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই এবং ছেলের লাশ দেখতে পাই৷ পরবার্তীতে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে৷ রহমত আলীর দাবী টাকা-পয়সা, জমি-জমা নিয়ে প্রভাবশালী তেলীজুরী গ্রামের মৃত ফোরকান আলীর ছেলে ফয়জুল হক(৫০), ফয়জুল হকের ছেলে হারুন রশিদ(২৫) মৃত আব্দুল হামিদ এর ছেলে আব্দুল করিম(৫৫) মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে মঈনুল ইসলাম(৩৫) বদর উদ্দিন(৪৫) শামীম আহমদ(৪২) সহ অজ্ঞাত ৫/৬জনকে আসামী করে হত্যার অভিযোগ দায়ের করেন ৷
অপরদিকে পুলিশ মুক্তারুল হকের লাশ উদ্ধারের পর হতে অভিযুক্তরা এলাকাছাড়া হয়ে পড়েন৷ এনিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে ৷
নিহত মুক্তারুল হকের পিতা রহমত আলী বলেন, আমি ছেলে হত্যার ন্যায় বিচারের জন্য আইনের আশ্রয় নিয়েছি৷ টাকা-পয়সা, জমি-জমা নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরধরে প্রভাবশালী অভিযুক্ত আসামীরা আমার ছেলেকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করেছে৷ আমি ঘটনার সুষ্ট তদন্ত করে আসামীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী করছি ৷
জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম দস্তগীর আহমেদ বলেন, রহমত আলী বাদী হয়ে ৬জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৫/৬জনকে অজ্ঞাত আসামী করে অভিযোগ দায়ের করেন ৷ তার অভিযোগটি আমলে নিয়ে খুন ও খুনের সহায়তার অপরাধে দন্ডবিধি ৩০২, ৩৪ এবং পেনাল কোড ১৮৬০ ধারায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে (যাহার নং ৩/২১৬)৷ পাশাপাশি এজাহার নামীয় আসামীদের গ্রেফতার করতে পুলিশের কয়েকটি টিম তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান অব্যাহত রেখেছে৷ তিনি আরও বলেন দ্রুত সময়ের মধ্যে এই হত্যা মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনসহ অপরাধিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে৷


