///

বিয়ানীবাজারে টিলা কাটার মহোৎসব

14 mins read

বিয়ানীবাজারে প্রকাশ্য চলছে টিলা কাটার মহোৎসব। এ যেনও দেখার কেউ নেই! উপজেলা একটি প্রভাবশালী টিলা খেকো চক্র প্রকাশ্য দিবালোকে এবং রাতে একের পর টিলা কেটে নিয়ে ভরাট করছে খাল, কৃষি জমি। মানুষের হাকঁডাক, টিলার গায়ে অনবরত শাবল-বেলাচার আঘাত, অবৈধ ট্রাক্টরে করে মাটি নিয়ে যাওয়া সব মিলিয়ে দিন কিংবা রাতে রাজ্যের ব্যস্ততা। গ্রামীন সড়কগুলোতে মাটির ভর্তি ট্রাক্টরের দাপটে অন্যবাহন তো চলা দূরে কথা পথচারীদের চলতে হয় ড্রেন দিয়ে। নিদিষ্ট একটি সিন্ডিকেটের হাতে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের দায়িত্ব থাকায় কোন নিয়ম কানুন তোয়াক্কা করার প্রয়োজন পরে না তাদের।

প্রকৃতিগতভাবে বিয়ানীবাজারে বেশিভাগ এলাকা উচু নিচু টিলা বেষ্টিত। আইনী বাধ্যবাধকতা থাকায় এই টিলাগুলো কাটার দুঃসাহস দেখান না অনেকে। এই সুযোগে ঐ চক্রটি রাতারাতি হয়ে উঠেছে লাখপতি। প্রশাসন ম্যানেজ করা ও টাকার প্রলোভন দেখিয়ে টিলা মালিকদের নাম মাত্র টাকা দিয়ে মাটি পাচার করছে অন্যত্র। যার বিনিময়ে ভরাট কারীর কাচ থেকে আদায় করছেন অতিরিক্ত অর্থ।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, উপজেলার মোল্লাপুর ইউনিয়নের মাটিকাটা, পাতন, লাউতা ইউনিয়নের জলঢুপ, কালাইউরা, পৌরসভার নিদনপুর, খাসাড়িপাড়া এলাকায় টার্গেট করে উচু টিলাগুলোর মালিকদের রাজি করে টিলা কেটে দেওয়া দায়িত্ব নেন ঐ সিন্ডিকেটের সদস্যরা। পরে সুযোগ বুঝে মাটি অন্যত্র বিক্রি করেন তারা। আর এতে ব্যহার করেন নিবন্ধনহীন অবৈধ ট্রাক্টর যা রাস্তাগুলোর বেহাল দশার কারন।

গত সোমবার দুপুরে উপজেলার মুল্লাপুর ইউনিয়নের মাটি কাটা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৩০ ফুট উচু বিশাল একটি টিলা কেটে প্রায় সাবার করে ফেলেছেন মাটি খেকো ঐ চক্রের সদস্যরা। সেখানে সাংবাদিকদের উপস্থিত টের পেয়ে দ্রুতই ট্রাক্টরসহ সরে পরেন সেখানে নিয়োজিত শ্রমিকরা। তাদের একজনে কৌশরে আটকিয়ে কথা বললে তিনি জানান, তাজ উদ্দিন নামে এক ট্রাক্টর চালক মাটি কাটার টিকাদারী নিয়েছেন। গত প্রায় ২০ দিন ধরে দিনে ও রাতে শিফট করে মাটি কেটে নিয়ে অন্যত্র ভরাট করছেন তারা। পাশের আরেকটি টিলায় অন্য টিকাদারের নেতৃত্বে মাটি কাটার কাজ চলছে বলে তথ্য দেন তিনি। তার তথ্যমতে সেখানে গিয়ে মাটি কাটা অবস্থায় কাউকে পাওয়া না গেলেও সম্প্রতি মাটি কাটার হয়েছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়।

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফসানা তাসনিম জানান, মাটি কাটা হচ্চে এমন কোন তথ্য তাদের কাছে জানান নেই। এই প্রতিবেদক ছবি ও ভিডিও কাটি কাটার প্রমানসহ পাঠালে তিনি বলেন আমারা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version