//

ওসমানীনগরে এক পরিবারের ৫ প্রবাসীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর ২ জনের মৃত্যু

22 mins read

সিলেটের ওসমানীনগরে এক পরিবারের ৫ প্রবাসীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

নিহতরা হল উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের ধিরারাই (খাতুপুর) গ্রামের মৃত আবদুল জব্বারের ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলাম (৫০) ও রফিকুলের ছোট ছেলে মাইকুল ইসলাম (১৬)। অপরদিকে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হুছনেয়ারা বেগম (৪৫), ছেলে সাদিকুল ইসলাম (২৫) এবং মেয়ে সামিরা ইসলামকে (২০) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

২৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুরে তাজপুর স্কুল রোডের একট ভাড়া বাসা থেকে অচেতন অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে ওসমানীনগর থানা পুলিশ।

বিষক্রিয়ার কারণে ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানিয়েছেন সিলেটের পুলিশ সুপার (পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি) ফরিদ উদ্দিন পিপিএম।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে যুক্তরাজ্যে বসবাস করে আসছেন রফিকুল ইসলাম। অসুস্থ ছেলে সাদিকুল ইসলামকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য গত ১২ জুলাই স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে দেশে এসে এক সপ্তাহ ঢাকায় থাকেন। চিকিৎসা শেষে গত ১৮ জুলাই উপজেলার তাজপুর স্কুল রোড এলাকার চারতলা বিশিষ্ট একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় বাসা ভাড়া নেন। সোমবার রাতের খাবার শেষে প্রবাসী রফিক মিয়া ও তার স্ত্রী সন্তান সহ ৫জন একটি কক্ষে এবং রফিকুল ইসলামের শশুর আনফর আলী, শাশুড়ি বদরুন্নেছা, শ্যালক দেলোয়ার হোসেন, শ্যালকের স্ত্রী শোভা বেগম ও মেয়ে সাবিলা বেগম (৮) অন্যান্য কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

মঙ্গলবার সকালে বাসার সুস্থ স্বজনরা ডাকাডাকি করে প্রবাসী রফিকুল ইসলামসহ তার স্ত্রী-সন্তানরা ঘরের দরজা না খোলায় ৯৯৯ নম্বরে কল করেন। খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে ওসমানীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কক্ষের দরজা ভেঙে রফিকুল ইসলাম সহ তার স্ত্রী হুছনেয়ারা বেগম, ছেলে মাইকুল ইসলাম, সাদিকুল ইসলাম ও মেয়ে সামিয়া ইসলামকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার রফিকুল ইসলাম ও মাইকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা এবং আশঙ্কাজনক অবস্থা হওয়ায় অসুস্থ তিনজনকে নিবিড় পরিচর্চা কেন্দ্রে (আইসিইউ) প্রেরণ করেন।

এ ঘটনায় নিহত রফিক মিয়ার শ্বশুর আনফর আলী, শাশুড়ি বদরুন্নেছা, শ্যালক দেলোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী শোভা বেগমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদেরকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন সিলেটের পুলিশ সুপার (পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি) ফরিদ উদ্দিন পিপিএম, ওসমানীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলিমা রায়হানা।

এছাড়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর দুটি টিম রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, যে বাসা থেকে অচেতন অবস্থায় অচেতন প্রবাসীদের উদ্ধার করা হয়েছে সেই বাসায় ৩টি শয়ন কক্ষ, ১টি রান্নাঘর, ১টি খাবার কক্ষ রয়েছে। যে কক্ষে প্রবাসী পরিবারের ৫ জন ঘুমিয়ে ছিলেন কক্ষটির আসববাপত্র এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে।

প্রবাসী হুছনেয়ারা বেগমের চাচাতো ভাই গোলাম হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমরা এসেছি। কে বা কারা কীভাবে ঘটনাটি ঘটিয়েছে জানি না। আমার বোনের পরিবারের সাথে কারো শত্রুতা নেই।

নিহত রফিকুল ইসলামের ভায়রা সাজ্জাদ আহমদ জানান, রফিকুল ইসলামের বড় ছেলে সাদিকুল ইসলাম অসুস্থ থাকায় তাকে চিকিৎসা দিতে ১২ জুলাই দেশে ফিরেছেন। ঢাকা থেকে ফেরার পর শ্বশুর-শাশুড়ি সহ অন্যদের দিয়ে এই ভাড়া বাসায় উঠেছিলেন। তাদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের খবর পেয়ে সাজ্জাদ এসেছেন বলে জানান।

সিলেট জেলা পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন পিপিএম বলেন, বিষক্রিয়ার কারণে ঘটনাটি ঘটেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। কীভাবে বিষক্রিয়া ঘটেছে তা তদন্তের আগে বলা যাচ্ছে না। যে সকল নিকটাত্মীয় বাসায় ছিলেন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের বিভিন্ন বিশেষ বাহিনী কাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version