//

ওসমানীনগরে স্কুল ছাত্রীর লাশ উদ্ধার, ‘কথিত প্রেমিক’ থানা হেফাজতে

19 mins read

সিলেটের ওসমানীনগরে দিপা রানী সিংহ (১৪) নামের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ইমন (২২) নামের ১ জনকে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। ইমন নিহত দিপার ‘কথিত প্রেমিক’ এবং বালাগঞ্জ মধ্যবাজারের প্রান্ত বস্ত্রালয়ের কর্মচারী।

বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) ভোরে উপজেলার দুলিয়ারবন্দের নির্মাণাধীন একটি ভবনের ছাদে দিপার রক্তাক্ত লাশটি পাওয়া যায়। নিহত দিপা কুমিল্লা জেলার বরুড়া থানার তলা গ্রামের পীযুষ সিংহের মেয়ে ও তাজপুর মঙ্গলচন্ডি নিশিকান্ত সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। দিপা পরিবারের সাথে দীর্ঘ দুই বছর ধরে তাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান অরুণোদয় পাল ঝলকের বহুতল ভবনের চারতলায় বসবাস করছে।

পুলিশ ও নিহততের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতের খাবার খেয়ে পিতা পীযুষ সিংহের সাথে একই কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে দিপা সিংহ। ভোর ৫টার দিকে পিতা পীযুষ ঘুম থেকে জেগে দেখেন মেয়ে পাশে নেই। ঘরের সদর দরজা খোলা। এবং দিপার মা ও বড় ভাইয়ের মোবাইল এবং ঘরের চাবি নির্দিষ্ট স্থানে নেই। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর পাশের নির্মাণাধীন একটি ভবনের ছাদে দিপার রক্তাক্ত লাশ খুঁজে পান তার পরিবার। পরিবারের লোকজন দিপাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে সকাল ১০টার দিকে সুরতহাল শেষ করে ময়না তদন্তের জন্য দিপার লাশ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশ প্রেরণ করে থানা পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দিপা সিংহ প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাবার কথা বলে বাসা থেকে বের হলেও প্রায় দিন বিদ্যালয় ফাঁকি দিয়ে তার কথিত প্রেমিক ইমনের সাথে দেখা করতো। বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুই মাসে বেশীর ভাগ দিনই সে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিল। চলতি মার্চ মাসে মাত্র একদিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিল দিপা।

নিহত দিপার মামী বিথিকা দে বলেন, দিপা মারা যাওয়ার বিষয়টি জানার পর বালাগঞ্জ থেকে তাদের বাসায় আসার পূর্বে জানতে পারি দিপা ইমন নামের ছেলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। একাধিকবার দিপা বালাগঞ্জে গিয়ে ইমনের সাথে দেখা করেছে। এছাড়াও বালাগঞ্জের আরেকটি ছেলেও নাকি দিপাকে পছন্দ করে এনিয়ে ইমন ও সেই ছেলেটির মধ্যে দিপাকে নিয়ে ঝগড়ারও হয়েছে।

নিহত দিপার মা শিল্পী রানী সিংহ জানান, দিপা মারা যাবার পর জানতে পারি দিপার সাথে একটি ছেলে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত সোমবার জানতে পারি আমাদের দিপা স্কুলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত। কেন এবং কিভাবে কী হলো বুঝতে পারছি না। আমি দিপার এমন পরিণতির জন্য জড়িতদের শাস্তি চাই।

ওসমানীনগর থানার ওসি এসএম মাইন উদ্দিন জানান, সুরতহালে দেখা গেছে নিহত দিপার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন, পিটের কিছু অংশ তেতলানো। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি হত্যাকান্ড। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইমনসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে আনা হয়েছে।

সিলেটের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার ওসমানীনগর (সার্কেল) আশরাফুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। আশাকরি শিগ্রই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারবো।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার খালেদুজ্জামান, ক্রাইমসিনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মোহাম্মদ সেলিম মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওসমানীনগর (সার্কেল) আশরাফুজ্জামান, ডিবির ওসি ইকতিয়ার উদ্দিন, ওসমানীনগর থানার ওসি এসএম মাইন উদ্দিনসহ সিআইডির টিম।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version