

ধর্মপাশায় দুটি পিকআপ ভ্যান ভর্তি ত্রিশ লক্ষাধিক টাকা মুল্যের ১৬৯১টি ভারতীয় শাড়িসহ চারজনকে আটক করলেন গ্রামবাসী, থানায় মামলা ৷
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধর্মপাশা গ্রামের মোড় থেকে সোমবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে দুটি পিকআপ ভ্যানের ভেতরে ৮২ টি বস্তার মধ্যে থাকা ভারতীয় ১ হাজার ৬৯১ টি শাড়ি সহ ৪ জন ব্যক্তিকে আটক করেছেন গ্রামবাসী।
খবর পেয়ে ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে পিকআপভ্যানে থাকা ভারতীয় শাড়ি ও আটক থাকা ওই চারজনকে উদ্ধার করেছে ধর্মপাশা থানা পুলিশ। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে চোরাই পথে ভারতীয় শাড়ি আনার ঘটনায় ধর্মপাশা থানার এসআই সোহেল মাহমুদ বাদী হয়ে ওইদিন দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে থানায় একটি মামলা করেছেন।
ধর্মপাশা থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সদরের ধর্মপাশা গ্রামের বাসিন্দা শাহ আলম (২৪) রবিবার রাত ১২টার দিকে সুনামগঞ্জ জেলা সদর থেকে নৌপথে ৮২টি বস্তার ভেতরে করে ১ হাজার ৬৯১টি ভারতীয় শাড়ি চোরাই পথে এনে তাঁর নিজ বসতঘর সংলগ্ন গুদাম ঘরে রাখেন। সেখান থেকে সোমবার ভোর রাত সাড়ে চারটার দিকে এসব ভারতীয় শাড়িগুলো দুটি পিকআপ ভ্যানে তুলে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়া হয়। পিকআপ দুটি ধর্মপাশা গ্রামের মোড়ে আসা মাত্রই একটি পিকআপভ্যান ওই গ্রামের মোড়ে থাকা একটি কুকুরের ওপর তুলে দেয়। কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দ শুনে সন্দেহ হলে ধর্মপাশা গ্রামবাসী ঘর থেকে বের হয়ে ওই দুটি পিকআপ ভ্যান সহ চারজন ব্যক্তিকে আটক করেন।খবর পেয়ে ওইদিন ভোর রাত পৌনে পাঁচটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে পিআপ ভ্যানের বস্তার ভেতরে থাকা ৮২বস্তা ভারতীয় শাড়ীসহ চারজনকে উদ্ধার করে ধর্মপাশা থানা পুলিশ। গ্রামবাসীর হাতে আটককৃতরা হলেন, টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর উপজেলার বড় চওনা গ্রামের জাহিদুল ইসলাম (২৪), সাব্বির মিয়া (১৬), রায়হান মিয়া (১৬) ও একই উপজেলার হামিদপুর গ্রামের নাজমুল ইসলাম(২৬)। পরে থানা চত্বরে প্লাস্টিক ও পাটের বস্তার ভেতরে থাকা ভারতীয় এসব শাড়ি ধর্মপাশা সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার আলী আহমেদ, থানার এসআই আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতেতে গণনা করে তা জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় ধর্মপাশা থানার এসআই সোহেল মাহমুদ বাদী হয়ে সোমবার দুপুর সোয়া ১২ টার দিকে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে থানায় একটি মামলা করেছেন।
ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে এসব ভারতীয় শাড়ির আনা হয়। যার বাজার মুল্য আ্নুমানিক ৩০ লাখ ৪৩ হাজার ৮০০ টাকা। এ ঘটনায় ছয়জনকে আসামি করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে থানায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে চারজনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। দুজন আসামি পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিদেরকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের ওই দিনই আদালতে পাঠানো হয়েছে।


