

সিলেটের জনৈক ভূমি খেকো মামলাবাজ বাবুল মিয়াগং কর্তৃক জামে মসজিদের মালিকানাধীন ভূমি জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে জোরপূর্বক জায়গা জবর দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। জায়গা দখল না নিতে পেরে মসজিদ কমিটির সদস্য ও নিরীহ গ্রামবাসীর উপর একাধিক মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে। অপকর্মের বিরুদ্ধে সিলেট পুলিশ সুপার ও র্যাব-৯‘র কমান্ডিং অফিসার মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও মহল্লাহবাসীরা পক্ষে গত ৩১ মার্চ, ২০২২ইং মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুস শুকুর ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমদ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঢুপী পশ্চিম জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির বহিস্কৃত সাবেক সভাপতি মৃত আব্দুল হামিদ পাখি ও সদস্য মাহমুদ আলীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম মসজিদের টাকা আত্মসাত, ভূমি ভাড়াটিয়ার নিকট হতে উদ্ধার করত: আদালতে রেন্ট কন্ট্রোল মামলা চলমান থাকা অবস্থায় জনৈক বাবুল মিয়া গোপনে লীজ প্রদান এবং মসজিদের নাম ব্যবহার করে টাকা আত্মসাৎ সহ নানা অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে মসজিদ পরিচালনা কমিটি গত ২৯ নভেম্বর ২০সনে আব্দুল হামিদ পাখিকে সভাপতির পদ হতে অব্যহতি দেন।
আব্দুল হামিদ পাখি ও মাহমুদ আলীর বিরুদ্ধে গত ৮ ডিসেম্বর ২০ সনে উপজেলা নিবার্হী অফিসার ও জৈন্তাপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। গত ২৭ ডিসেম্বর পুলিশ সুপার এবং ২৯ ডিসেম্বর ২০ সনে জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মসজিদ পরিচালনা কমিটি। অনৈতিক কাজের বিরোধীতা করে গত ৬ নভেম্বর ২০ সনে মঈন উদ্দিন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদ হতে পদত্যাগ করেন। আব্দুস শুকুরকে সভাপতি ও সহ-সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমদকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বদেয় গ্রামবাসী। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলীর মধ্যস্থতায় সালিশ বৈঠক হয়। বিচার চলাকালীন অবস্থায় বিগত ২৩ মে ২১ সনে আব্দুল হামিদ পাখি মৃত্যু বরণ করেন। পরবর্তী সময়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২১ সনে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষে দুইপক্ষকে নিয়ে সালিশ বৈঠক হয়।
বৈঠকে জৈন্তিয়া ১৭ পরগনা সালিশ সমন্বয় কমিটির সভাপতি আবু জাফর আব্দুল মৌলা চৌধুরী, হরিপুর বাজার মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা ইউসুফ আলী বড় হুজুর, সাবেক চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদীন সালিশ বৈঠকে অংশ গ্রহন করেন। মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষে পক্ষ আব্দুস শুকুর সভাপতি গং এবং আব্দুল হামিদ পাখির পক্ষে তার পুত্র ফাহাদ-বিন হামিদ মুন্না ও তার পরিবাবের সদস্যরা অংশ গ্রহন করে। বৈঠকে ফাহাদ বিন হামিদ মুন্না তার পিতার নিকট থাকা মসজিদের যাবতীয় খাতাপত্র হিসাব কমিটির নিকট হস্থান্তর করে। যৌথ সালিশ বৈঠকে মুল লীজ গ্রহিতা আব্দুল রউফ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সাব-লীজ গ্রহিতা বাবুল মিয়াকে আহবান করা হলে তিনি উপস্থিত হননি। বৈঠকে মসজিদের স্বার্থে বিষয়টি সামাজিক ভাবে নিষ্পত্তি করা হয়।
পরবর্তী গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২১ সনে ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী আব্দুর রউফ মসজিদ পরিচালনা কমিটির নিকট ক্রাশিং জোনের সকল সাব-লীজ গ্রহিতাদের নিকট হতে ভাড়া আদায় করতে একটি লিখিত অঙ্গিকার নামা প্রদান করে। ফলে অন্যান্য সকল সাব-লীজ গ্রহিতা মসজিদের ভূমির ভাড়া বাবত টাকা ঢুপী পশ্চিম জামে মসজিদের নামীয় পূবালী ব্যাংক শাখায় জমা দেন। এদিকে বাবুল মিয়া ক্রাশিং জোনের ৭৮/৫০ শতকের দুটি প্লটের বকেয়া ভাড়া বাবদ ২লাখ টাকা পরিশোধ না করে মসজিদের ২৭ বিঘা জায়গার ভুয়া অবৈধ লীজ গ্রহিতা দাবী করে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য ও নিরীহ গ্রামবাসিদের নানা ভাবে ভয়ভীতি ও মামলা-হামলার হুমকি দিতে থাকে এবং সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে কয়েক বার জমি জোর পূর্বক জবর দখল করার চেষ্টা চালায়।
গত ০১ সেপ্টেম্বর ২১সনে গ্রামের বাসিন্দা দৈনিক সিলেটের ডাক পত্রিকার সাংবাদিক নূরুল ইসলাম ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য আজির উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে বাবুল মিয়া আদালতে ১০৭ ধারায় মামলা দায়ের করে। পরবর্তী সময়ে মামলাটি আদালত খারিজ করে। এক পর্যায়ে বাবুল মিয়া গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২১ সনে আদালতে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুস শুকুর, গ্রামের প্রবীন মুরব্বী আবুল হাসনাত, সিরাজুল ইসলাম সহ কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে আরেকটি মিথ্যা চাদাঁ দাবীর মামলা দায়ের করে। ঐ মামলার বহিস্কৃত ও অব্যহতি প্রাপ্ত সভাপতি মৃত আব্দুল হামিদ পাখি কর্তৃক ৩১ ডিসেম্বর ২০ সনে ক্রাশার জোনের ২৭ বিঘা জমির ভুয়া চুক্তিপত্র উপস্থাপন করে। বিষয়টি মসজিদ কমিটি অবগত হওয়ার পর তাৎক্ষনিক ভাবে আদালতে তার বিরুদ্ধে একটি প্রতারণা মুলক মামলা দায়ের করে। ডিবি পুলিশ মামলা তদন্ত করে চাঁদা দাবীর বিষয়টি প্রমাণ মিত্যা প্রমানিত হয়। মসজিদের মালিকানাধীন জায়গার সাব-লীজ গ্রহিতা বাবুল মিয়ার নিকট বকেয়া ভাড়া পরিশোধ করতে কয়েক দফা অনুরোধ করা হয়। তিনি ভাড়া পরিশোধ না করে মসজিদ পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে চাঁদা দাবীর মামলা দায়ের করতে থাকে। গত ১৯ ডিসেম্বর ২১ সনে সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সামনে কাল্পনিক ঘটনা সাজিয়ে চাদাঁ দাবীর মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে। গত ২৯ ডিসেম্বর ২১ সনে আদালতে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে। একই ভাবে গত ২২ মার্চ ২২ সনে সিলেটের সোবাহানীঘাটে আরেকটি কাল্পনিক ঘটনা সাজিয়ে ফের চাদাঁ দাবীর মিথ্যা মামলা দায়ের করে। যাহা কোতোয়ালী মডেল থানায় গত ২৪ মার্চ ২২ সনে মসজিদ পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ সহ গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তিগনের নামে মামলা রেকর্ডভূক্ত করা হয়।
গত ২৪ মার্চ ২২ সনে বাবুল মিয়া বকেয়া টাকা পরিশোধ না করে তার স্থানীয় ভাড়াটিয়া কয়েকজন লাটিয়াল বাহিনী এবং বহিরাগত ১০/১৫ জন সন্ত্রাসী নিয়ে মসজিদের দুটি প্লটের হতে অবৈধ ভাবে অনুপ্রবেশ করে পুলিশের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ক্রাশিং মেশিন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। মসজিদ পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ ও মহল্লাহবাসী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে বাবুলের ভাড়াটিয়া লাটিয়াল বাহিনী হামলার চেষ্টা করে এবং অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করতে থাকে। ঘটনার খবর পেয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশের এসআই কাজী শাহেদ সহ একদল পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কোতোয়ালী মডেল থানার এস.আই আমিনুল ইসলাম কয়েকজন পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশের উপস্থিতিতে বাবুল গংয়ের বহিরাগত ও স্থানীয় ভাড়াটিয়া লাটিয়াল বাহিনী পালিয়ে যায়।
মসজিদের জমি জবর দখলের খবর পেয়ে নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ইন্তাজ আলী, ইউপি সদস্য আখলাকুল আম্বিয়া ও জৈন্তাপুর প্রেসক্লাব সভাপতি সাংবাদিক নূরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সালিশ বিচারে ঘটনায় বিষয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতিতে বাবুল মিয়া মসজিদ কমিটি সহ মহল্লাহবাসীকে প্রাণে মারা হুমকি দিয়ে মেশিনের মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে ব্যর্থ হয়।
এঘটনাকে কেন্দ্র করে আহত হওয়ার নাটক সাজিয়ে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে ৩০ মার্চ ২২ সনে বাবুল মিয়া মসজিদ পরিচালনা কমিটি, মহল্লাবাসী ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগ করে। এছাড়া মোবাইল ফোনে মহল্লাবাসীকে লাটিয়ালী বাহিনী দিয়ে ভয়ভীতি দিয়ে আসছে। এঘটনায় জৈন্তাপুর মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরী করা হয়। অতীতে মসজিদের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত মাহমুদ আলীর ভাই আব্দুস ছাত্তার পিতা হাজী হামজা আলী-কে মসজিদের ভুয়া আহবায়ক সাজিয়ে বাবুল মিয়া নানা ষড়যন্ত্র কাজে লিপ্ত রয়েছে। ঢুপী পশ্চিম জামে মসজিদের মালিকানাধীন জায়াগ রক্ষা ও ক্রাশিং জোনে বাবুল মিয়ার দখলে থাকা দুটি প্লট উদ্ধার করত: বকেয়া ভাড়া বাবদ চলমান ৪ লাখ টাকা আদায় ও ২৭ বিঘা জমির অবৈধলীজ গ্রহিতা দাবী করে জোর পূর্বক দখল করার অপচেষ্টা এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যগণ ও নিরীহ গ্রামবাসীর উপর দায়ের করা একাধিক মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহার ও হয়রানি বন্ধ করত: প্রশাসনের সহায়তা চান।


