
খুলনায় মে দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের র্যালিতে পুলিশের অতর্কিত হামলা ও লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে শ্রমিক দলের নেতা-কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে মুহূর্তের মধ্যে ঐ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এছাড়া পুলিশের লাঠিচার্জে ১০জন আহত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে খুলনা মহানগর শ্রমিক দলের সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম শফি ও শ্রমিক দল নেতা মো. খলিফাকে আটক করে।
জানাগেছে, সোমবার (১ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর বার্মাশীল রোড এলাকায় মে দিবস উপলক্ষ্যে র্যালি বের করে মহানগর শ্রমিক দল। মিছিল শুরুর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ মিছিলে বাধা দিলে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। শ্রমিক দলের নেতা-কর্মীরা পুনরায় একত্রিত হয়ে মিছিল করতে চাইলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এসময় দলীয় নেতা-কর্মীরা বিক্ষিপ্তভাবে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে চলে এই ঘটনা। এতে শ্রমিক দলের ১০জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে উক্ত ঘটনার প্রতিবাদে বেলা সাড়ে ১২টায় নগরীর কেডি ঘোষ রোডের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি নেতা-কর্মীরা। এতে মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা অভিযোগ করে বলেন, শ্রমিকদলের র্যালিতে পুলিশের নির্মম লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ, শ্রমিকদলের সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম শফিসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার ও ১০ জন মারাত্মক আহত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ র্যালিতে পুলিশ তাণ্ডব চালিয়েছে।
প্রেসব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন, স ম আব্দুর রহমান, কাজী মাহমুদ আলী, শের আলী সান্টু, আবুল কালাম জিয়া, বদরুল আলম খান, চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, শেখ সাদী, আব্দুর রাজ্জাক, কে এম হুমায়ুন কবিরসহ অনেকে।
খুলনা সদর থানা পুলিশের ওসি হাসান আল মামুন বলেন, অনুমতি না নিয়ে তারা রাস্তা আটকে কর্মসূচি পালন করছিল। আমরা তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছি।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপকমিশনার (দক্ষিণ) মো. তাজুল ইসলাম বলেন, অনুমতি ছাড়াই শ্রমিক দল বিক্ষোভ সমাবেশ ও র্যালি বের করে। ফলে তাদের কর্মসূচি না করার জন্য বলা হলেও তারা হঠাৎ পুলিশের ওপর ইটপালকেল ছোড়ে। এ সময় পুলিশ তাদের শুধুমাত্র লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।


