
বিয়ানীবাজারে গৃহবধূ ফাহমিদা আক্তারকে(২৪) আত্মহত্যার প্ররোচনায় দায়ে দায়ের করা মামলায় তার স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার সকালে ঝুলন্ত অবস্থায় উপজেলার কুড়ার বাজার ইউনিয়নের কইরবন্দ গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঐ দিন এ ঘটনায় আত্মহত্যার পরোচনার অভিযোগ করে থানায় মামলা (মামলা নং০৪, তাং-১২/০৭/২৩ইং) দায়ের করেন ফাহমিদার বাবা জমির উদ্দিন। ফাহমিদার স্বামী আবিদুর রহমান, শ্বশুর দবির উদ্দিন এবং শ্বাশুড়ি লিপি বেগমকে আসামী করে দায়ের করা স্বামী আবিদুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।
জানা যায়, তিন বছর আগে ফাহমিদার বিয়ে হলে তিনি ছিলেন নিঃসন্তান। এনিয়ে প্রায় ঘরে ঝগড়া বিবাদ হতো। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে স্বামী ও শ্বশুর-শ্বাশুড়ির সাথে ঝগড়া হয় ফাহমিদার। সকালে তার বসত ঘরের ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। তবে স্বামী ঘরে থাকা অবস্থায় কিভাবে আত্মহত্যা করলেন ঐ গৃহবধূ এ নিয়ে দেখা দেয় চাঞ্চল্য। যদিও স্বামীর দাবী পারাবারিক কলহের কারনে তাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় ফাহমিদা। পরে বন্ধ ঘরেই সে আত্মহত্যা করে।
এদিকে, ফাহমিদার মৃত্যুর খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান তা বাবা-মা ও ভাইয়েরা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাকে মানসিক নির্যাতন করছেন শ্বশুর বাড়ির লোকজনেরা। বিয়ের তিন বছরেরও সন্তান না পাওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে মন্দ কথা শুনাতো তারা। এছাড়াও দুই পরিবারে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিবাদ চলছিলো বেশ কয়েকদিন ধরে। এসব কারনে তাকে হত্যা করা হয়েছে এমন দাবী করেন ফাহমিদার বাবার বাড়ির লোকজন। বুধবার দুপুরে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আত্মহত্যার পরোচনার দায়ে স্বামী আবিদুর রহমানেকে আটক করে পুলিশ।
বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মেয়ের বাবার দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামী আবিদুর রহমানকে আটক করা হয়েছে। বুধবারে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।


