
সিলেটের জকিগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যতনের অভিযোগে অভিযুক্ত আসামী জকিগঞ্জ থানার বারঠাকুরী ইউনিয়নের উত্তরবাগ গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে আলকাছ উদ্দিন (৩২) কে আটক করেছে পুলিশ।
যানাযায় আলকাছ উদ্দিন ইসলামী শরিয়া মোতাবেক জকিগঞ্জ থানাধীন সুলতানপুর ইউনিয়নের গঙ্গাজল গ্রামের মৃত মকদ্দছ আলীর মেয়ে রিমা আক্তার (২৭) এর সাথে বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকেই স্ত্রী রিমা আক্তারের কাছে যৌতুক দাবী করে আসছিল আলকাছ উদ্দিন। যৌতুকের টাকা না পেয়ে মাঝে মধ্যে রিমা আক্তারের উপর শারীরিক ও মানসিক নিযার্তন করে আসছে। নিযার্তনের সহযোগীতা করতো আলকাছ উদ্দিনের বড় ভাই জয়নাল আবেদীন। এই নিয়ে রিমা আক্তার ও আলকাছ উদ্দিন এর দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকতো।
গত ১১ মে রাত্রি অনুমান ১১ টায় আলকাছ উদ্দিন রিমা আক্তারের নিকট যৌতুকের টাকা চাইলে রিমা অপারগতা প্রকাশ করলে স্বামী আলকাছ উদ্দিন তাহার স্ত্রীর চুলের মুষ্ঠিতে ধরিয়া মাটিতে ফেলিয়া এলোপাথারি বাশের লাঠি দিয়ে মারপিট করিয়া রক্তাক্ত জখম করে। রিমা আক্তার কান্নাকাটি শোর-চিৎকার করলে রিমা আক্তারের স্বামীর বড় ভাই জয়নাল আবেদীন বলে শালীর বেটিকে চুল কাটিয়া বের করে দেও বলিয়া কাঁচি নিয়া আসিয়া রিমা আক্তারের মাথার লম্বা চুল কাটিয়া ফেলে।
বিবাদী ভয়ে আত্মরক্ষার জন্য দৌড়াইয়া পালাইয়া পুকরা গ্রামের মো. জাকির হোসেনের বাড়ীতে আত্মরক্ষা করে। জাকির হোসেন জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ কল দিয়ে উক্ত ঘটনার সংবাদ প্রদান করেন এবং রিমা আক্তারের অভিভাবককে তাহার বাড়ীতে আসতে বলেন। ৯৯৯ এর সংবাদ পেয়ে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হইয়া রিমা আক্তারকে উদ্ধার করে এবং রিমা আক্তারকে তার মায়ের জিম্মায় দিয়ে চিকিৎসার জন্য দ্রুত জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রেরণ করে।
এই ঘটনায় রিমা আক্তার বাদী হয়ে জকিগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করলে জকিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসাইন ও সিলেট জেলার পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন নির্দেশে অভিযোগটি এফআইআর হিসাবে করে আসামী গ্রেফতারের নির্দেশ প্রদান করেন।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেনের নির্দেশনায় জকিগঞ্জ থানা পুলিশের একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করিয়া ৩ ঘন্টার মধ্যেই অভিযুক্ত আলকাছ উদ্দিনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। অভিযুক্ত আসামীকে বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেন সিলেট জেলা পুলিশের সহকারি মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা শ্যামল বনিক ।


