

জৈন্তাপুর উপজেলার একমাত্র পাথর কোয়ারী শ্রীপুর। দীর্ঘ দিন হতে বন্দ থাকলেও বাস্তবে কখনও কোয়ারী বন্দ নয়। জেলা প্রশাসকের কড়া নির্দেশ উপেক্ষিত। প্রবাসী মন্ত্রীর নাম বিক্রয় করে সংশ্লিষ্ট আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও উপজেলার প্রশাসনের মানবিকতায় শ্রীপুর কোয়ারী হতে উত্তোলন হচ্ছে পাথর অব্যাহত। ২ নেতা ও ৮ ব্যক্তির নেতৃত্বে ৫ মাসে ২০ কোটি টাকার পাথর লোট। উপজেলার ৩০ হাজার পাথর শ্রমিককে কর্মহীণ রাখা হয়েছে।

সরজমিনে শ্রীপুর পাথর কোয়ারী ঘুরে স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে আলাপ করে জানায়ায়, জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের দুই নেতার নির্দেশে প্রবাসী মন্ত্রীর নাম বিক্রয় করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জিম্মী করে ৮জনের একটি পাথর খেকু চক্র প্রায় ২শতাধিক শ্রমিক দিয়ে দেদারছে শ্রীপুর পাথর কোয়ারী হতে পাথর উত্তোলন করছে। গত বৎসরের সেপ্টেম্বর মাস হতে কোয়ারীর জিরো লাইন হতে পাথর উত্তোলন করে আসছে চক্রটি। স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদপত্রে স্বচিত্র সংবাদ প্রকাশ হলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ হয়নি। ফলে প্রবাসী মন্ত্রীর নাম ভাঙ্গীয়ে প্রশাসনকে জব্দ করে বীরদর্পে চলছে পাথর লোটের কার্যক্রম।

সরকারি ভাবে শ্রীপুর পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকলেও বাস্তবে একদিন বন্দ ছিলনা পাথর কোয়ারী। শুরুতে উপজেলা প্রশাসন ২/১টি অভিযান পরিচালনা করলে রহস্যজনক কারেন অভিযান বন্দ হয়ে যায়। উপজেলা পরিষদের মাসিক আইন শৃঙ্খলা বৈঠকে শ্রীপুর পাথর কোয়ারী নিয়ে আলোচনা হলেও রহস্যজনক কারনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সচেতন মহল, সাংবাদিক ও গন্যমান্যদের সাথে মতবিনিময় সভায় সিলেটের জেলা প্রশাসক মজিবুর রহমান সম্মুখে বিষয়টি তুলে ধরা হলে তিনি বলেছিলেন, সরকার বাহাদুর যে সম্মুস্ত বিষয় বন্দ রেখেছেন আমরা সেই বিষয় গুলো বন্দ রাখেতে অগ্রনী ভূমিকা পালন করব। সেক্ষেত্রে কাউকে সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি সুষ্পষ্ট জানিয়ে দেন শ্রীপুর কোয়ারী হতে পাথর উত্তোলনের কোন সুযোগ নেই।

এদিকে বিগত সেপ্টেম্বর মাস হতে অদ্যাবধি পর্যন্ত কোয়ারী হতে ২নেতার ৮জন ব্যক্তির মাধ্যমে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, উপজেলা প্রশাসন এমনকি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে শ্রীপুর পাথর কোয়ারী হতে প্রায় ২শতাধিক শ্রমিকের মাধ্যমে অন্তত ২০কোটি টাকা মূল্যের পাথর লুন্টন করা হয় বর্তমানে পাথর লুন্টন অভ্যহত রয়েছে।

জৈন্তাপুর উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আনোয়ার হোসেন বলেন, উপজেলার একমাত্র পাথর কোয়ারী শ্রীপুর। আমরা দীর্ঘ দিন হতে জেনে আসছি কোয়রীটি বন্ধ আছে। সংবাদপত্রে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদ দেখে বিশ্বাস হয়নি। সরজমিনে এসে শ্রীপুর পাথর কোয়ারীর পাথর লুন্টনের দৃশ্য দেখে হতবাক হয়েছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে এই মহাযজ্ঞ চলছে। আমি এহেন কর্মকান্ডের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে অভিলম্বে সিলেটের জেলা প্রশাসক, পুলিশের উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সীমান্ত বাহিনীর কামান্ডিং অফিসারের সুদৃষ্টি কামনা করছি। অন্যতায় গুটি কয়েক ব্যক্তির জন্য নয় উপজেলার ৩০ হাজার শ্রমিকের কর্মস্থল শীপুর পাথর কোয়ারী খুলো দিয়ে সরকারি রাজস্ব আদায় করা হউক।

এলাকার বাসিন্দা রহমত আলী, হোসেন আহমদ, আলমগীর মিয়া, জামাল উদ্দিন, মনির হোসেন, সালে আহমদ, রাজু আহমদ, নজির আহমদ, ফখরুল মিয়া, নাছির উদ্দিন, এনামুল, আলা উদ্দিন, আমিন আহমদ, রুবেল শরিফ, জসিম উদ্দিন, হান্নান মিয়া, খোরশেদ মিয়া, শাহিনুর রহমান, ইউসুফ, শাহজাহান, রমজান আলী বলেন, কতিপয় নেতাদের নিজস্ব ভাই বন্ধু ও কর্মীদের মাধ্যমে শ্রীপুর কোয়ারী হতে পাথর লুন্টন অভ্যাহত রয়েছে। স্থানীয় বিজিবির উপস্থিতিতে দেদারছে চলছে এই সব কর্মকান্ড। অতচ শ্রীপুর কোয়ারীর সাথে বিভিন্ন ভাবে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৩০ হাজার পাথর শ্রমিকদের কর্মহীন করা হয়েছে। তাদের দাবী দ্রুত কোয়ারী খুলে দিন নতুবা যথাযত ভাবে বন্দ করা হউক।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ৪৮ বিজিবি শ্রীপুর ক্যাম্পের কমান্ডার মকবুল হোসেন জানান, একটি চক্র চুরি করে পাথর নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের টহল জোরদার রয়েছে। উপজেলা মাসিক সভায় আমি বিষয়টি জানিয়েছি।

জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফখরুল ইসলাম আইন শৃঙ্খলা বৈঠকে বলেন, শ্রীপুর কোয়ারীর পাথর লোটের ঘটনাটি কৃত্রিম সংকট। প্রশাসন জোরালো ভূমিকা নিলে এটি বন্দ করা সম্ভব হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল বশিরুল ইসলাম বলেন, শ্রীপুর কোয়ারী মুলত বন্দ রয়েছে। একটি চক্র রাতের আধাঁরে পাথর চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি বন্দের জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


