
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রকৌশলী মইনুল বাকর ২১ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। রবিবার ৮ সিলেট মহানগরের জিন্দাবাজারস্থ একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে ইশতেহার ঘোষণা করেন। এসময় তিনি নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই এবং তাঁর ব্যানার-ফেস্টুন সরিয়ে ফেলার অভিযোগ করেন।
মইনুল বাকর বলেন- সিলেট-৩ বিপুল সম্ভাবনাময় একটি সংসদীয় আসন হওয়া সত্ত্বেও বারবার যোগ্য নেতৃত্ব সংকটে স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা। যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিশুদ্ধ পানির মমো মৌলিক চাহিদা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন বিগত দিনের ক্ষমতার মোহে অন্ধ জনপ্রতিনিধিরা। বিশেষ করে দক্ষিণ সুরমা সিলেট শহরের সবচেয়ে নিকটবর্তী হওয়া স্বত্তেও এখানে লাগেনি কোনো প্রকার উন্নয়নের ছোঁয়া। শুধু দক্ষিণ সুরমাই নয়, একইসাথে উন্নয়ন বঞ্চিত এই আসনের বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা। বিশেষ করে গত দুইটি নির্বাচনের পর জনআকাঙ্ক্ষা পূরণের মতো উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ করতে পারেননি দায়িত্বপ্রাপ্তরা। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সমাজের সকল পেশাজীবী, বিভিন্ন ধর্ম, গোত্র ও বর্ণের মানুষের সমন্বয়ে নগর ও উপজেলার প্রান্তিক মানুষের কথা মাথায় রেখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জের মানুষের সেবক হতে মইনুল বাকর ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
এতে রয়েছে- ১। ভঙ্গুর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় সেতু নির্মাণ ও পরিকল্পিত উপজেলা, ইউনিয়ন, গ্রাম এবং নগর গড়ে তোলা, ঢাকা-সিলেট রুটের কাজ দ্রুত সমাধান করা এবং যাত্রী ভোগান্তি দূর করা, আভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ, বিশেষ করে সিলেট – বালাগঞ্জ সড়ক, সিলেট – ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা, গণপরিবহন হিসেবে আধুনিক বাস সার্ভিস চালু করা, বিশেষ করে নারী যাত্রীদের জন্য পরিবহন সেক্টরে বিশেষ ব্যবস্থা করা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার অন্তর্গত রেলওয়ের বন্ধ স্টেশনগুলো চালু করা এবং কমিউটার ট্রেন চালুর উদ্যোগ গ্রহণ। ২। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় প্রতিটি গ্রামে প্রাইমারি সরকারি স্কুল নির্মাণ, গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার খরচ স্নাতক পর্যন্ত অবৈতনিক করার ব্যবস্থা, শিক্ষিত মা, শিক্ষিত জাতি—নারী শিক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, দক্ষিণ সুরমায় একটি প্রযুক্তিনির্ভর সরকারি, টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, তিন উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও প্রসিদ্ধ স্কুলগুলো সরকারীকরণ, চা-বাগান এলাকায় সরকারি প্রাইমারি স্কুল স্থাপন, শীতল পাটির ঐতিহ্য রক্ষায় আলাদা কারখানা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, দেশীয় সাংস্কৃতিক চর্চা উন্মুক্তকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। ৩। বেকারত্ব ও দারিদ্র্য কমাতে বেকার যুবকদের জন্য নিবন্ধনভিত্তিক কর্মসংস্থান ডাটাবেজ তৈরি, দরিদ্র পরিবারকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করা, ভাতা নয়, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ, নতুন কর্মসংস্থান ও কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা প্রসার, প্রতিটি উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, আইটি, ফ্রিল্যান্সিং ও স্টার্টআপ প্রশিক্ষণ চালু, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি। ৫। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বন্যা, নদীভাঙন ও খরার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা জোরদার, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন নিশ্চিত করা। ৬। কৃষিবান্ধব অর্থনীতি ও কৃষিতে স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রে আধুনিক সেচব্যবস্থা ও সুইচগেট সংস্কার, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কৃষি উৎপাদন, এক জমিতে দ্বিগুণ ফসল উৎপাদনের উদ্যোগ। ৭। হাওর ও পর্যটন স্পট উন্নয়নে হাওরকেন্দ্রিক ইকো-ট্যুরিজম গড়ে তোলা ও স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। ৮। খেলার মাঠ ও সুস্থ বিনোদনের প্রসারে প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ, ও যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে ক্রীড়ার প্রসার। ৯। চা শিল্পের উন্নয়নে চা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও স্বাস্থ্যসেবা এবং চা শিল্প আধুনিকায়ন। ১০। মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে মাদকমুক্ত সমাজ গঠন ও চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা। ১১। মব জাস্টিস রোধ ও সামাজিক নিরাপত্তায় আইনের শাসন নিশ্চিত করা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা জোরদার। ১২। প্রবাসীদের কল্যাণে তাদের সমস্যা সমাধানে আলাদা সেল গঠন ও প্রবাসী বিনিয়োগ উৎসাহিত করা। ১৩। শিল্পকারখানা স্থাপন ও সারকারখানার সমস্যা সমাধানে শিল্পায়নে সহায়তা ও সার কারখানার উৎপাদন ও শ্রমিক কল্যাণ নিশ্চিতকরণ। ১৪। নারীবান্ধব সমাজ গঠনের লক্ষ্যে নারীর নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান ও নারী উদ্যোক্তা তৈরি। ১৫। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিতকরণ। ১৬। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে ঐতিহাসিক জাদুঘর স্থাপন। ১৭। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ অনুদান এবং মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডার উন্নয়ন। ১৮। ব্যবসা-বাণিজ্যে স্বনির্ভর অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা। ১৯। পরিবেশবান্ধব ও দূষণমুক্ত এলাকা গঠনে নদী, খাল ও পরিবেশ রক্ষা। ২০। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে ফ্রি হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।এবং ২১। বিশুদ্ধ পানি ও মৌলিক চাহিদা নিশ্চিতকরণে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা ও নাগরিক সুবিধা সহজলভ্য করা।
এদিকে, সিলেট-৩ আসনে এখনো নির্বাচন উপযোগী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি উল্লেখ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রকৌশলী মইনুল বাকর বলেন- বিভিন্ন স্থানে আমার কম্পিউটার প্রতীকের ব্যনার-ফেস্টুন কে বা করা সরিয়ে ফেলেছে। আমি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমাকে কোনো সদুত্তর বা সমাধান দিতে পারেনি।
সার্বিক বিষয়ে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রার্থী মইনুল বাকর।


