
সিলেট বিভাগে দিন দিন উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় সড়কে ঝরছে তাজাপ্রাণ। গত মাসে (মার্চ) সিলেট বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৩৪ জন মারা গেছেন।
বুধবার (৫ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে তথ্যটি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি বুধবার সংবাদ মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়। এতে বলা হয় মার্চ মাসে সিলেট বিভাগে ৩৫টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৯৯ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয় মার্চ মাসে সারা দেশে ৪৮৭ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩৮জন নিহত, ১১৩৮ জন আহত হয়েছে। একই সময় রেলপথে ৫৩টি দুর্ঘটনায় ৪৭জন নিহত, ১৫জন আহত হয়েছে। নৌ-পথে ০৯টি দুর্ঘটনায় ৭জন নিহত, ১৪জন আহত এবং ২জন নিখোঁজ হয়েছে।
সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৫৪৯টি দুর্ঘটনায় ৫৯২জন নিহত এবং ১১৬৭জন আহত হয়েছে। এমাসে ১৫২টি মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় ১৬৩জন নিহত, ৯৭জন আহত হয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সড়ক, রেল ও নৌ-পথে দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এসব তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
সংগঠনটি জানায়, সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ১৭৯জন চালক, ১০১জন পথচারী, ৬০জন পরিবহন শ্রমিক, ১২২ জন শিক্ষার্থী, ১৩জন শিক্ষক, ১২জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৯০জন নারী, ৫০জন শিশু, ২জন সাংবাদিক, ৭জন মুক্তিযোদ্ধা, ২জন আইনজীবী ও ১জন প্রকৌশলী এবং ৫জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে।
যারমধ্যে নিহত হয়েছে ৩জন পুলিশ সদস্য, ৩জন সেনাবাহিনীর সদস্য, ২জন আনসার সদস্য, ১জন বিমানবাহিনীর সদস্য, ১৪০জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৯৩জন পথচারী, ৬৭জন নারী, ৩৭জন শিশু, ৪২জন শিক্ষার্থী, ২৫জন পরিবহন শ্রমিক, ৯জন শিক্ষক, ৬জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ৩জন চিকিৎসক, ১জন সাংবাদিক, ২জন আইনজীবী ও ৫জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।
এসময়ে সংগঠিত দুর্ঘটনায় ৬৬৬টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে। এতে দেখা যায়, ১৬.৮১ শতাংশ বাস, ২৮.২৩ শতাংশ ট্রাক-পিকাপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ৪.৬৫ শতাংশ কার-জীপ-মাইক্রোবাস, ৩.৭৫ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিক্সা, ২৩.১২ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৪.১১ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও ইজিবাইক, ৯.৩০ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।
সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৫৭.৪৯ শতাংশ গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা, ১৫.১৯ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৬.৪২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৯.৬৫ শতাংশ বিবিধ কারনে এবং ১.২৩ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এমাসে সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৩৩.০৬ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৩.২০ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ৩৫.১১ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়াও সারাদেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৬.১৬ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ১.২৩ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ১.২৩ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়েছে।
পর্যবেক্ষণ মতে, সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হচ্ছে চালকের অদক্ষতা ও বেপরোয়া মনোভাব নিয়ে গাড়ি চালানো, বেপরোয়া গতি ও বিপদজনক অভার টেকিং, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন রাস্তায় নামানো, ফিটনেস বিহীন যানবাহনের অবাধে চলাচল, চালকের কর্মঘন্টা ও বেতন সুনির্দিষ্টি না থাকা, রাস্তায় ফুটপাত না থাকা বা ফুটপাত বেদখলে থাকা ও রাস্তার পাশে হাট-বাজার, যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা, ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগ ও ট্রাফিক আইন অমান্য করা এবং ছোট যানবাহনের ব্যাপক বৃদ্ধি ফলে সড়কে দুর্ঘটনা ক্রমবর্ধমান।


