///

ওসমানীনগর একটি রাস্তার জন্য অর্ধলক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ

17 mins read

সিলেটের ওসমানীনগরে একটি রাস্তার জন্য দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। উপজেলার কলারাই বাজার থেকে হলিমপুর-মোবারকপুর পর্যন্ত প্রায় ২কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

উপজেলা এলজিইডি বিভাগ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য একাধিকবার সংস্কারের আশ্বাস দিলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কলারাই বাজার থেকে হলিমপুর-মোবারকপুর ২কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তাটি সর্বশেষ ২০১৭ সালে সংস্কার করা হয়। প্রায় আটাশ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই সংস্কার কাজে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। এরপর থেকে নতুন করে উন্নয়ন না হওয়ায় সড়কটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে।

এদিকে গত বছর পর পর দুটি বন্যায় সড়কটির কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত আর খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায়ই ছোট বড় যান উল্টে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া সামান্য বৃষ্টি হলে রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে হাটুপানি লেগে যায়। কলারাই বাজার, মুতিয়ারগাও, ভাগলপুর, কলারাই, পূর্ব মোবারকপুর, মনতৈল, পশ্চিম মোবারাকপুর, নুরপুর, জহিরপুর, দক্ষিণ মোবারকপুর, গাভুরটেকি, হলিমপুরসহ গোয়ালাবাজার ও সাদিপুর ইউনিয়নের প্রায় ১৫-২০টি গ্রামের বাসিন্দাদের এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয়। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ উপজেলার অর্ধলক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করে। এই রাস্তার পাশে রয়েছে ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, একাধিক ধর্মীয় স্থাপনা।

এ প্রসঙ্গে গোয়ালাবাজার সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী নাইজু আরেফিন বলেন, মোবারাকপুর গ্রাম থেকে কলারাই বাজার হয়ে আমাকে কলেজে যেতে হয়। রাস্তা ভাঙ্গার কারনে রিক্সায় ৫মিনিটের রাস্তা ২০মিনিট লাগে। যাতায়াত সমস্যার কারণে অনেকদিন কলেজে গিয়ে ক্লাস ধরতে পারি না।

ইজিবাইক চালক আবুল কালাম বলেন, রাস্তায় অনেক খানাখন্দ থাকায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। মহাসড়কে আমরা উঠতে পারি না পুলিশের জন্য আমাদের এই রাস্তায় রিক্সা চালিয়ে পরিবার চালাতে হয়। রাস্তায় ভাঙ্গার জন্য ১০মিনেটে পথ যেতে ৩০-৩৫ মিনিট লেগে যায়। এ রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে অসুস্থ রোগীদের অবস্থা নাজুক এবং সুস্থ সবল মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

সিলেট জেলা মৎসজীবি লীগের সহ-সভাপতি ও কলারাই বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আরশ আলী জানান, দীর্ঘদিন থেকে উপজেলা এলজিইডি ও এমপি মহোদয়ও আমাদের আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন আমাদের এই রাস্তা হবে হবে, কিন্তু আজ পর্যন্ত আমাদের রাস্তার কোনো কাজ হয়নি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যান, ইঞ্জিন চালিত যানবাহন চলাচল করছে।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ২০২১-২২ অর্থ বছরে এই রাস্তার জন্য প্রকল্প তৈরি করে উর্ধ্বতন মহলে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় বরাদ্ধ পাওয়া যায়নি। তবে চলতি বছর বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ণে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এই সড়ক সংস্কারের কথা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version