///

ওসির তৎপরতায় প্রাণে বেঁচে গেল মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর নবজাতক শিশুটি, পেল চিকিৎসাসেবা

28 mins read

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মধ্যনগর মধ্যবাজার। সেখানে ভাসমান এক ব্যবসায়ীর পেতে রাখা চৌকির ওপর মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী (৩৫) শুক্রবার (১৮নভেম্বর) রাত পৌন ১১টার দিকে একটি নবজাতক ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু দেখভালো করার কেউ ছিল না। বাচ্ছাটির কান্না ও গর্ভবতী মায়ের ঘুংরানির শব্দ শুনতে পান ওই বাজারের নৈশপ্রহরীর দায়িত্বে থাকা প্রাণেশ সরকার নামের এক ব্যক্তি। তিনি তাৎক্ষনিকভাবে মধ্যনগর থানার ওসি মো. জাহিদুল হকের কাছে ছুটে গিয়ে ঘটনাটি তাঁকে জানান। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ছুটে যান মধ্যনগর থানার ওসি মো.জাহিদুল হক ও এসআই শামীম আহমদ। নবজাতক শিশুটিকে চৌকির ওপর পড়ে থাকতে থেকে ওসি নবজাতক শিশুটির ও তাঁর মায়ের চিকিৎসা সেবার উদ্যোগ নেন। ওসির তৎপরতায় নবজাতক শিশুটি প্রাণে রক্ষা পেয়েছে। একই সঙ্গে শিশুটির মাও পাচ্ছেন চিকিৎসাসেবা। মা ও নবজাতক শিশুটিকে আজ শনিবার (১৯নভেম্বর) সকাল আটটার দিকে মধ্যনগর থানা পুলিশের সহায়তায় পাশের ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

মধ্যনগর থানা পুলিশ,মধ্যনগর বাজারে কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে গেছে, মাস খানেক ধরে উপজেলার মধ্যনগর বাজারে মানসিক ভারাসাম্যহীন ওই গর্ভবতী নারী (৩৫)বাজারের বিভিন্ন স্থানে এলোমেলো ভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। তবে কাউকে তিনি কোনোরকম বিরক্তও করেন না। কেউ কিছু দিলে তিনি খান নয়তো উপোস থাকেন। কথা বলতে পারলেও সঠিক কোনো উত্তর দিতে পারে ন না। রাতের বেলায় যেখানেই সুযোগে মেলে সেখানেই তিনি শুয়ে পড়েন। শুক্রবার (১৮নভেম্বর) রাতে মধ্যনগর বাজারের পাহারারা কাজে নিয়োজিত ছিলেন নৈশপ্রহরী প্রাণেশ সরকার (৪৫ )। তিনি রাত ১১টার দিকে নবজাতক শিশুটির কান্না ও শিশুটির মায়ের ঘুংরানির শব্দ শুনতে পান। তিনি সঙ্গে সঙ্গে মধ্যনগর থানার ওসির কাছে ছুটে গিয়ে ঘটনাটি তাঁকে জানান। পাহারাদারের কাছে বিস্তারিত অবগত হয়ে মধ্যনগর থানার ওসি থানার ওসি একজন এসআইকে সঙ্গে নিয়ে রাত সোয়া ১১টার দিকে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সেখানে নবজাতক শিশুটি ও তাঁর মাকে দেখভালো করার কেউ ছিল না। ওসি তাৎক্ষনিকভাবে মোটরসাইকেল পাঠিয়ে মধ্যনগর উপজেলার ১০শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র থেকে ওই কেন্দ্রটির নার্স প্রিয়াংকা ভৌমিককে সেখানে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন। পরে নবজাতক শিশুটির পরিচর্যা করে নাভীকাটা সহ অন্যান্য কাজগুলো করা হয়। পরে ভ্যানে করে ওই শিশুটি ও তাঁর মাকে ১০শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাতভর মা ও শিশুটির সাময়িক চিকিৎসা দেওয়া ও পরিচর্যা করেন ওই নার্স। আজ শনিবার (১৯নভেম্বর) সকাল আটটার দিকে নবজাতক ও তাঁর মাকে মধ্যনগর থানা পুলিশের সহায়তায় পাশের ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি কক্ষে শিশুটি ও তাঁর মা চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মধ্যনগর বাজারের বাসিন্দা সংস্কৃতিকর্মী আলা উদ্দিন বলেন,মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারী ও তাঁর নবজাতক শিশুটির প্রাণ ও তাঁর মায়ের চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করে মধ্যনগর থানার ওসির মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আমরা এই কাজে ওসি সাহেব সাধুবাদ জানাই।

মধ্যনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.জাহিদুল হক বলেন, মানুষ মানুষের জন্যে,জীবন জীবনের জন্যে। কোনো বাহবা বা প্রশংসা পাওয়ার জন্য নয়। বিবেকের তাগিদেই নবজাতক ও পরিচয় হীন ওই মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর পাশে দাঁড়িয়েছি। আমি ঘটনাটি মধ্যনগরের ইউএনও স্যার ও ধর্মপাশা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে মুঠোফোনে জানিয়েছি। বর্তমানে ওই শিশুটি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার তত্বাবধানে রয়েছে।

ধর্মপাশা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমি আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নবজাতক শিশু ও মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারী ও নবজাতককে গিয়ে দেখে এসেছি। ওই দুজন এখন হাসপাতালের চিকিৎসাধীন আছে। আমি সরকারিভাবে দুইদিনের প্রশিক্ষণে এলাকার বাইরে যাচ্ছি। সেখান থেকে ফেরার পর নবজাতক শিশুটি ও তাঁর মায়ের জন্য বিধি মোতাবেক যা যা করার দরকার তাই করা হবে।

ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা তানভীর হাসান বলেন, নবজাতক শিশু ও তাঁর মাকে শনিবার সকাল আটটার দিকে আমাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই দুজনকে হাসপাতালের অপুষ্টি কর্ণারে কক্ষে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচেছ। হাসপাতালের পক্ষ থেকে নবজাতক শিশুটিকে রক্ষণাবেক্ষণ ও তার দুধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নবজাতক শিশু ও তাঁর মা দুজনই ভালো আছে। চিকিৎসা শেষে নবজাতক ওই শিশুটি ও তাঁর মাকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ হাসান খান বলেন, আমি ধর্মপাশা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতার সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছি। নবজাতক শিশুটি ও তাঁর মায়ের খোঁজ খবর নিচ্ছি। বিধি মোতাবেক যা যা করার দরকার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবকিছুই করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version