////

কূল চাষ করে ভাগ্য বদলের চেষ্টা মিষ্টু মিয়ার

25 mins read

মিনহাজ মির্জা, গোয়াইনঘাট হতে ::

উন্নত জাতের কূল চাষ করে ভাগ্য বদলের চেষ্টা করছেন কৃষক মিস্টু মিয়া। সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার আলুবাগানের এলাকায় প্রায় সাড়ে তিন একর যায়গা জুড়ে কূল বাগান করেছেন। তিনি নরসিংদী জেলার বেলাবো থানার আব্দুল নগর গ্রামের বাসিন্ধা দীর্ঘ ৯মাস হতে আলু বাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছেন। প্রায় ১১ বছর তিনি প্রবাসে থাকলেও নিজ দেশে কিছু করার জন্য চলে আসেন। তারপর পরিবারের আর্থিক যোগান দিতে সিলেটে পাড়ি জমান। সেখান থেকে আলুবাগানে আসেন।
এরপর বন্ধুদের অনুপ্রাণিত হয়ে এবং ইউটিউব দেখে পরিকল্পনা করেন কুল চাষের। তারপর প্রায় ১০ বিঘা জমি ১০ বছরের জন্য লীজ নেন। বাগান তৈরির জন্য বিনিয়োগ করেছেন ১২ লক্ষ টাকা। প্রথমে ১০৫৬টি চারা আনেন চুয়াডাঙ্গা হতে। বর্তমানে তার জমিতে তিনটি জাতের কূল ভরে গেছে বাগান।

চাষ শুরু হওয়ার নয় মাসের মাথায় বাগানে ফল ধরেছে আশাতীত। তবে এ বছর মিস্টু মিয়া বাগান হতে ৭-৮ লক্ষ টাকার ফল বিক্রি করবেন বলে আশা করছেন। কুল বরই দিয়েই অবশেষে ভাগ্য পাল্টানোর আশায় যেন তার মুখে হাসি ফুঁটেছে।

সরজমিন বাগান ঘুরে দেখা যায়, মেঘালয় পাহাড়ের পাহাড়ের কুল ঘেঁষে প্রায় ১০বিঘা জমিতে তিনটি জাতের কূল বাগান করেছেন মিস্টু মিয়া। বাগানে প্রতিটি গাছে কূল ঝুলে আছে। প্রতিটি গাছে ৮ হতে ১০ কেজি করে কূলের ফলন এসেছে। বাগানের চারপাশ জাল দিয়ে বেড়া দেয়া হয়েছে। তার সাথে আরও তিন’জন রয়েছেন বাগান পরিচর্যা ও দেখ ভালের দায়িত্বে। নিবিড় পরিচর্যায় গাছ গুলো বেড়ে উঠেছিল।

বাগান জুড়ে রয়েছে বাউকুল, আপেল কুল, বল সুন্দরী জাতের কূল। বাগানে এসব কুল খেতে মিষ্টি ও সুস্বাদু। বাজারে এর চাহিদা প্রচুর। এছাড়াও বাগানের সাথেই অপর এক পাশে তরমুজের ফলন করছেন। তার কূল চাষের সাফল্যে ইতো মধ্যে এলাকায় সাড়া পড়েছে৷ এলাকার অনেক যুবকদের কুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
ওপারে ভারতের মেঘালয় পাহাড়। পাশে রয়েছে জৈন্তা হিল রিসোর্ট। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্যের কাছেই তার বাগান হওয়ায় প্রকৃতি প্রেমিরাও ভিড় জমান একনজর দেখার জন্য। স্থানীয়দের কাছে পরিচিতি লাভ করছে মিস্টু মিয়ার কুল বাগান হিসেবে।

কৃষক মিস্টু মিয়া জানান, আমি এর আগে এরকম বাগান করিনি। ইউটিউব ও টিভি চ্যানেলে দেখে শখ হয় এরকম বাগান করার জন্য। তারপর এক বন্ধুর সহায়তায় জায়গাটি ঘুরে দেখি৷ এলাকায় যখন এক-দুটি কুল গাছে দেখেছি তখন আমার মনে হল এখানে জমিতে ভাল কূল হবে, তাই পতিত জমি নির্ধারন করি। যায়গাটি চমৎকার ও খোলামেলা হওয়ায় কূল চাষে আগ্রহী হই এবং চুক্তিমোতাবেক জায়গাটি ভাড়া নেই ৷ চুয়াডাঙ্গা হতে ছয় ইঞ্চি সাইজের চারা আনি। তারপর নয় মাস পরিচর্যার মাধ্যমে সফল্য পাই ৷ প্রথমে অনেকেই আমার কর্মকান্ড দেখে হাসাহাসি করেছে ৷ কিন্তু আমার লক্ষ একটাই ছিল বাগান করা কারও কথা কানে নেইনি ৷

তিনি আরও বলেন, যায়গাটি সম্পর্কে পরিচিত না হওয়ায় প্রথমে একটু বেশি মুলধন লেগেছে। এখন পর্যন্ত যায়গা লীজসহ প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আশা করছি কয়েক দিনের মধ্যেই ফল গুলো বাজারজাত করতে পারবো’। সব মিলিয়ে এ বছর লাভমান না হলেও ৭-৮লক্ষ টাকার মূলধন উঠে আসবে ৷ আগামী বৎসর পুরো বাগানে লক্ষাধিক টাকা পরিচর্যা খরচ ব্যয় হবে তবে এ বৎসরের তুলনায় তিন গুন ফল পাব ৷ তার এই বাগানটি দেখে স্থানীয় এলাকার অনেকেই বাগান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন৷

বাগানের জায়গার মালিক ওমর ফারুক বলোন, বাগানে না আসলে বিশ্বাসই হতো না এতো সুন্দর একটা বাগান তৈরি করেছেন মিস্টু মিয়া। যখন তিনি যখন পরিকল্পনা করেন তখন আমি নিজেও আতংঙ্কে ছিলাম। এখানে বাগান ভালো হবে কি না। ওনার পরিশ্রমের ফসল হিসেবে এতো সুন্দর বাগান হওয়ায় আমি নিজেও অভিভূত। আমাদের এলাকায় যারা অন্যান্য কৃষক আছে আমি তাদেরকে বলবো আপনারা আসেন, বাগান দেখেন। আমার মনে হয় এরকম অনেক যায়গা পতিত আছে। সে গুলোকে কাজে লাগিয়ে কৃষি সম্ভাবনা গড়ে উঠবে।

জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারুক হোসাইন জানান, ফিল্ড সুপারভাইজার মারফতে জানতে পেরেছি নরসিংদী হতে আসা এক কৃষক কূল বাগানটি করেছেন৷ আমার ফিল্ড সুপারভাইজার বাগানটি কয়েক বার পরির্দশন করে কৃষককে পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়েছেন ৷ আমি সরজমিনে বাগানটি দেখিনি ৷ দ্রুত সময়ের মধ্যে বাগানটি পরিদর্শন করব ৷ তবে তিনি বলেন জৈন্তাপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মাটি কমলা, বাতাবীলেবু, ঝাড়া লেবু, গোল মরিছ চাষের জন্য উপযোগী ৷ কৃষকরা সটিক পরিশ্রম করলে তাদের ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন করতে পারবে বলে বিশ্বাস করেন ৷ তবে এ অঞ্চলের কৃষকরা হতদরিদ্র হওয়ায় বিনিয়োগ করতে আগ্রহ হতে পারে না ৷

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x