

মুন্সীগঞ্জের বিজ্ঞানশিক্ষক হৃদয় মণ্ডল ২৮ দিন পর তার নিজ কর্মস্থল বিনোদপুর রাম কুমার উচ্চ বিদ্যালয়ে ফিরেছেন। পরে বিদ্যালয় মাঠে সম্প্রতি সমাবেশে তাকে সম্মান জানানো হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেন তিনি। এর আগে বিজ্ঞানের ক্লাসে আলোচনার সূত্র ধরে ১৯ দিন কারাবরণ এবং জেল থেকে জামিনে মুক্তির আরও ৯ দিন অপেক্ষার পর মঙ্গলবার তিনি কর্মস্থলে যোগদান করেন। পরে তিনি রুটিন অনুযায়ী বিজ্ঞান ও গণিতের ক্লাস নেন। প্রিয় শিক্ষক ফিরে আসায় শিক্ষার্থীরাও খুশি।
গত ১৩ এপ্রিল বিদ্যালয়ে এসে তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হন তিনি। এর আগে ১০ এপ্রিল তার জামিন মঞ্জুর হয়। এই যোগদানকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যালয় মাঠে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি সভার আয়োজন করে। এতে হৃদয় মণ্ডলকে ফুল দিয়ে তার ত্যাগের জন্য সম্মান জানানো হয়।
হৃদয় মণ্ডল বলেন, আমি আজ খুব খুশি। আমি আমার প্রিয় প্রতিষ্ঠানে আবার ফিরে আসতে পেরেছি। ক্লাস করতে পারছি। এটি পরম পাওয়া। আমার খুব শান্তি লাগছে। আমি সব ভুলে গেছি।
তিনি বলেন, ছাত্রদের প্রতি আমার কোনো কষ্ট বা ক্ষোভ নেই। ওদের আমি ক্ষমা করে দিয়েছি। কিন্তু কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যারা ব্যবহার করেছে, যারা এই ঘটনার পেছনের মাথা তাদের শাস্তি হওয়া দরকার।
বিনোদপুর রাম কুমার উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলমগীর হোসেন জানান, শিক্ষক হৃদয় মণ্ডল আজকে ক্লাসে গেছেন। এতে আমি খুব খুশি। যে কুচক্রী মহল এই শিক্ষককে যেভাবে হেনস্তা করতে চেয়েছিল তাতে তারা সফল হয়নি।
বিনোদপুর রাম কুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমার বিদ্যালয়ে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল হৃদয় মণ্ডল যোগদান করায় সেই শূন্যতা পূরণ হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও খুশি হয়েছে। স্কুলের হাতে গোনা কয়েক শিক্ষার্থীর জন্য আমার স্কুলের সুনাম নষ্ট হয়েছিল। আজকে সমাবেশে আমারা দেখেছি ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটি ও আশপাশের লোকজন সবাই এসেছে। তাদের ভুলটা তারা বুঝতে পেরেছে।
মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হাজী মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লব বলেন, আজকে সব শিক্ষক শিক্ষার্থীদের যে মিলনমেলা সেটা অত্র এলাকার এবং স্কুলের দুষ্টদের দমন করতে অবশ্যই সাহায্য করবে। ছাত্র ও শিক্ষকদের এই ঘটনায় যে জড়তা সৃষ্টি হয়েছিল সেটা কাটানোর জন্য আজকের এই মিলনমেলায় আমরাও একত্রিত হয়েছি।
গত ২০ মার্চ বিজ্ঞান ক্লাসে আলোচনার অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার পর ২২ মার্চ বিক্ষোভ হয়। পরে গ্রেফতার করা হয় শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলকে। হৃদয় মণ্ডল প্রায় ২১ বছর ধরে বিদ্যালয়টিতে বিজ্ঞান ও গণিত পড়ান।
তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা হচ্ছে কাল
এদিকে শিক্ষা অধিদফতর কর্তৃক গঠিত ১ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি ৫ কর্মদিবস শেষ হলেও রিপোর্ট জমা হয়নি। তবে এক সদস্য বিশিষ্ট এই তদন্ত কমিটির একমাত্র সদস্য সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল হাই তালুকদার জানান, ৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা ছিল। আগামীকাল বুধবার শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর রিপোর্ট পেশ করা হবে। তবে তদন্তের রিপোর্ট সম্পর্কে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।
তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট সকলের সাক্ষ্য গ্রহণ করে প্রকৃত ঘটনাই তদন্ত রিপোর্টে তুলে ধরার চেষ্টা করেন তিনি।


