
পুলিশ সূত্রে জানাযায়, ০৫ মে বিকাল অনুমান ২ টা ৪৫ মিনিটে সিলেটের ওসমানীনগর থানার লাল কৈলাশ গ্রামের অটোরিক্সা চালক ব্রজেন্দ্র শব্দকর এর মৃতদেহ ওসমানিনগরের বুরুঙ্গা ইউনিয়নের প্রথমপাশা গ্রামের রাস্তার পাশ হতে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরবর্তীতে ৭মে নিহত ব্রজন্দ্র শব্দকরের স্ত্রী বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় হত্যামামলা দায়ের করে। ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। জেলা আইন-শৃঙ্খলা বৈঠকে হত্যাকান্ডের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়।

ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িত আসামিদের গ্রেফতারে ওসমানীনগর থানা পুলিশ অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করে। ১৪ জুন ওসমানীনগর থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে ব্রজেন্দ্র হত্যা মামলায় জড়িত আসামি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর এলাকা হতে সিলেট জেলার ওসমানিনগর থানার মজলিশপুর গ্রামের মৃত ফিরোজ আলীর ছেলে মো. গুলজার আলী (২৭) এবং একই গ্রামের মৃত তাহির আলীর ছেলে শিপন মিয়া (২৭)-কে গ্রেফতার করা হয়।

মামলার বাদীর এজাহার সূত্র ও ধৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ব্রজেন্দ্র শব্দকর ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। গুপ্তপাড়া গ্রামের জনৈক হাজী সুরুজ আলী সাহেবের মালিকানাধীন ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা ভাড়ায় চালাতেন। আসামীদ্বয় এবং মৃত ব্রজেন্দ্র শব্দকর পূর্ব পরিচিত। আসামীদ্বয় পূর্ব পরিকল্পনায় মৃত ব্রজেন্দ্র শব্দকরের অটোরিক্সাটি চুরি করে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে ছিল।
৪ মে রাত অনুমান সাড়ে ৯টায় ভিকটিম মৃত ব্রজেন্দ্র শব্দকরকে কৌশলে বেশি টাকা ভাড়া দিবে বলে অটোরিক্সা নিয়ে ঘুরতে যাবার কথা বলে তাজপুর বাজার হতে বুরুঙ্গা রাস্তায় নিয়ে যায়। ব্রজেন্দ্র শব্দকর রাতে চোঁখে একটু কম দেখে। আসামী গুলজার আলী পূর্ব হতে অটোরিক্সা চালানোতে পারদর্শী থাকায় এবং তারা পূর্ব পরিচিত হবার কারণে তাজপুর বাজার হতে গাড়ি নিয়ে যাবার সময়ে আসামী গুলজার আলী নিজে গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যায়।
ঘটনাস্থলে পৌছার পর মৃত ব্রজেন্দ্র শব্দকর প্রস্রাব করার কথা বলে গাড়ি হতে নেমে রাস্তার দক্ষিণ পাশে প্রস্রাব করতে বসে। এই সময় গ্রেফতারকৃত আসামী শিপন মিয়া পিছন দিক হতে লোহার হাতুড়ী দিয়ে ব্রজেন্দ্র শব্দকরের মাথায় উপরাউপরি ৩ হতে ৪ টি আঘাত করে এবং ধাক্কা দিয়ে রাস্তার নিচে ফেলে দেয় এবং হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত হাতুড়ীটি ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তীতে ঝোপের মধ্যে ফেলে দেন। তারপর আসামীদ্বয় অটোরিক্সাটি নিয়ে বিক্রি করে টাকা দুজনে ভাগ করে নেয়।
পুলিশ আসামী শিপন মিয়া (২৭) এর দেওয়া তথ্যে ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র (লোহার হাতুড়ী) ঘটনাস্থলের পাশের ঝোঁপ হতে উদ্ধার করে জব্দ করা হয় এবং আসামী মো. গুলজার আলী (২৭) বিজ্ঞ আদালতে স্বেচ্ছায় নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন।
ক্লুলেস ব্রজেন্দ্র শব্দকর হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন ২ আসামী গ্রেফতার, হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধারের বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনের মাধামে গণমাধ্যমের সম্মুখে তুলে ধরেন সিলেট জেলা পুলিশের ক্রাইম এন্ড অপারেশনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মো. সেলিম।


