নোটিশ:
জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।
গরু-মহিষ ট্রাকে ডিজে পর্যটক বহন, বেসামাল সিলেট তামাবিল মাহাসড়ক

গরু-মহিষ ট্রাকে ডিজে পর্যটক বহন, বেসামাল সিলেট তামাবিল মাহাসড়ক

সিলেট তামাবিল হাইওয়ে রোড। শাহপরাণ এলাকায় অর্ধ শতাধিক পিকআপ ও এইচ পিকআপ সহ জৈন্তাপুর গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাটে অন্তত ৩ শতাধিক রয়েছে। তেরপাল ছাড়া পিকআপ এইচপিকআপ গুলোকে বলা হত মহিষ ও গরু কিংবা পণ্য পরিবহনের ট্রাক৷ ভিবিন্ন সরকারী ছুটিতে বিশেষ করে ঈদের ছুটিতে এই ট্রাক গুলোতে তেরপাল বেঁধে কিংবা বাহারী ডিজাইনে সাজিয়ে নাম পরিবর্তন করে ডাকা হয় ‘ডিজে ট্রাক’। মাইক কিংবা সাউন্ড বক্স বাঁধা। উচ্চ স্বরে চলছে বিভিন্ন প্রকার গান। আর ডিজে ট্রাকে থাকা উঠতি বয়সি তরুণরা গানের তালে তালে নাচছে আর ফুর্তি করছে। হাতে রং নিয়ে বিভিন্ন বাজার ও বিভিন্ন পয়েন্টে রাস্তায় চলাচল গাড়ি ও পথচারীদের গায়ে রং ছিটাচ্ছে এসকল তরুনরা ৷

আর মহিলা কিংবা তরুণী দেখলেই উৎপাত বাড়ে বেশি। কয়েক শতাধিক ডিজে ট্রাক বিভিন্ন পর্যটন স্পটের যাচ্ছে। হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশ গাড়ী গুলো দেখছেন। ঈদোর দিন বেলা বাড়ার সাথে সাথে ওসব ডিজে ট্রাক ডিজি পাটি নিয়ে তীব্র গতিতে ছুটে চলছে ৷ অপরদিকে ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশ আটকে দিচ্ছে ট্রাককে। শহরতলীর বটেশ্বরে এবং জৈন্তাপুর মডেল থানার সম্মুখে দেখা গেল রাস্তায় দাঁড়িয়ে জান মালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এসকল ডিজে ট্রাককে আটক করছে পুলিশ ৷ কোন কোন ডিজে ট্রাক আটকের সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘুরিয়ে ফিরে যাচ্ছে ৷ কোন কোন ট্রাক বিকল্প রাস্তা খুঁজে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে চলে যাচ্ছে ৷ ওছাড়া কোন কোন ডিজে ট্রাক ডিজে পাটিকে লামিয়ে পুলিশ চৌকী পার হয়ে যাচ্ছে ৷ স্থানীয় লোকজন বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা ও শব্দ দুষনের জন্য বাঁধা দিচ্ছেন। এছাড়া সিলেট তামাবিল মহাসড়কের হরিপুর, দরবস্ত, চার নম্বর বাংলাবাজার এলাকায় দাঁড়িয়ে আছে স্থানীয়রা। হরিপুরে, দরবস্তের ঘটনার কারণেই ডিজে ট্রাক আটকে দিচ্ছে পুলিশ। ঈদের পরদিন দুপুরের একটু আগে কয়েকটি ডিজে ট্রাক উচ্চ স্বরে গান বাজিয়ে জাফলং যাচ্ছিল। গাড়ি থেকে রং ছিটানো হচ্ছিল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ওই দুই এলাকার মানুষ। তারা কয়েকটি ডিজে ট্রাককে আটকে দেয়। গাড়ি থেকে নামিয়ে তাদের ধাওয়া দেয়। এরপর ফিরিয়ে দেয়া হয় শহর অভিমুখে। বুধবার, বৃহস্পতি ও শুক্রবার পালা করে এলাকার লোকজন রাস্তায় পাহারা দিয়েছেন।

হরিপুরের নাজমুল ইসলাম, দরবস্তের আফতাব হোসেন জানান, ঈদের দিন হতে জাফলং, লালাখাল অভিমুখে পর্যটকদের ঢল নামে। পরদিন বুধবার সকাল হতে শুরু হয় ডিজে ট্রাকে মাইক বাজিয়ে আসা ‘গ্যাং’ ডিজের উৎপাত। স্থানীয়রা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। মহিলাদের ওপর রং ছিটানোর কারণে ডিজে ট্রাকে উচ্ছৃঙ্খল যুবকদের ফিরিয়ে দেয়া হয়। ঘটনার সংবাদ পুলিশ সক্রিয় হয়ে উঠে। হাইওয়ে ও জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ উচ্ছৃঙ্খলতা ঠেকাতে কাজ শুরু করে। ফলে বিকালে গ্যাং ডিজের আর বেসামাল অবস্থা দেখা যায়নি। তবে মাইক্রোবাস কিংবা বাসে করে যারা পর্যটন এলাকায় গেছেন তাদের সহযোগিতা করা হয় পুলিশের পক্ষ হতে। সকালের দিকে জাফলং পর্যটন স্পটে ডিজে ট্রাকে উন্মাতাল হয়ে তরুণরা ঢুকেছিল। পুলিশের কড়াকড়ির কারণে তারা পর্যটন এলাকায় উৎপাত করতে পারেনি। সিলেটে এবারের ঈদেই চোখে পড়লো ডিজে ট্রাকে ডিজি পাটির উৎপাত। এর আগে কখনো এরকম দৃশ্য চোখে পড়েনি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এলাকার লোকজন বৈঠক করেছেন। সার্বিক বিষয় জানিয়ে এ ব্যাপারে থানা পুলিশকে অবগত করা হবে। সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার লালাখাল শ্রীপুর জাফলং এলাকায়ও ছিল ডিজে ট্রাকে আসা তরুণদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড, বৃহস্পতিবার হতে এলাকায় ডিজে ট্রাকের উচ্ছৃঙ্খলতা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, ডিজে ট্রাকে উচ্ছৃঙ্খলতা ঠেকাতে পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। বুধবার সিলেট তামাবিল সড়ক হতে এলাকায় দুটি ট্রাক আটক করা হয়েছে। এছাড়া হাইওয়ে পুলিশ জেলা পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে রাস্তায় টহল দিচ্ছে। তিনি বলেন, ঈদে রাস্তা কিংবা পর্যটন স্পটে কোনো উচ্ছৃঙ্খলতা বরদাশত করা হবে না ৷ গোয়েন্দা পুলিশের কয়েকটি টিম মাঠে সাদা পোশাকে কাজ করছে।

সিলেট জেলা পর্যটন পুলিশের ওসি আক্তার হোসেন জানান, সিলেটের সব পর্যটন স্পটেই উপচে পড়ছে পর্যটকরা। উচ্ছৃঙ্খল পরিবেশ সামাল দিতে পর্যটন পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করছে। এই প্রথম ডিজে ট্রাকে তরুণদের উৎপাত লক্ষনীয় মাত্রায় দেখা যায়। পুলিশ তৎপর হওয়ার কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে ৷

প্লিজ সেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY Mission It Development ltd.
x
English version