ছাত্রলীগের হাতে চেক, শিক্ষক বলছেন দিয়েছে, প্রাধ্যক্ষ ও ছাত্রলীগের না

18 mins read

পবিত্র রমজান ও পয়লা বৈশাখ-১৪২৯ উপলক্ষে ১৪ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল গুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে থাকছে ইফতার ও রাতের খাবারের আয়োজন।

এর মধ্যে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে (এসএম হল) এ আয়োজনের খরচের তিন লাখ টাকার একটি চেক হল শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতার হাতে প্রাধ্যক্ষ তুলে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ছাত্রলীগের ওই দুই শীর্ষ নেতা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
হলের একাধিক আবাসিক শিক্ষক ও হল ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ অভিযোগ করে, গতকাল রোববার এসএম হলে নিজের কার্যালয়ে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর সিকদার ও সাধারণ সম্পাদক মিশাত সরকারকে ডেকে নিয়ে প্রাধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমান তাঁদের হাতে চেক তুলে দেন।
অভিযোগকারী ব্যক্তিরা বলেন, পয়লা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হলেই খাবারের আয়োজন রয়েছে। অন্য হলে এ আয়োজন করছে প্রশাসন। এসএম হলে নিয়ম লঙ্ঘন করে আয়োজনের খরচ ছাত্রলীগের নেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে হল প্রাধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট আবাসিক শিক্ষকেরা দায়িত্ব জ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। এ ধরনের ঘটনায় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে খারাপ দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।
চেক তুলে দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন এসএম হলের আবাসিক শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ বেলাল হোসেন। ছাত্রলীগের নেতাদের হাতে চেক তুলে দেওয়ার বিষয়টি একটি জাতীয় দৈনিকের নিকট স্বীকার করেন তিনি। তবে তাঁর দাবি, হল প্রাধ্যক্ষের নেতৃত্বেই পয়লা বৈশাখে খাবারের আয়োজনটি হচ্ছে। ছাত্রলীগ থাকবে প্রশাসনের সহযোগী’ হিসেবে। এ শিক্ষকের ভাষ্য, হল প্রাধ্যক্ষের নেতৃত্বেই আয়োজনটি হচ্ছে। তারা (ছাত্রলীগ) আমাদের সহযোগী হিসেবে থাকবে। যেহেতু মান ভালো, তাই আমরা ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) ক্যানটিন থেকে খাবার আনাচ্ছি। তাঁদের (তানভীর-মিশাত) হাতে চেকটা দেওয়া হয়েছে শুধু টাকাটা আইবিএতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য, অন্য কিছু নয়। তাঁরা টাকাটা পৌঁছে দিয়েছেন। আয়োজনের দায়িত্ব ছাত্রলীগকে দেওয়া হয়েছে, এটি সঠিক নয়।
এসএম হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর সিকদারের দাবি, হল প্রাধ্যক্ষ তাঁদের কোনো চেক দেননি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আয়োজনের শৃঙ্খলার দায়িত্বটা আমাদের দেওয়া হয়েছে। আমাদের কোনো চেক দেওয়া হয়নি। হল প্রশাসন আমাদের কেন চেক দেবে? আমরা কি হলের প্রাধ্যক্ষ, নাকি আবাসিক শিক্ষক?
আবাসিক শিক্ষক মুহাম্মদ বেলাল হোসেনের বক্তব্যের বিষয়ে তানভীর সিকদার বলেন, খাবারের দাম পরিশোধের দায়িত্ব শিক্ষকদের। আবাসিক শিক্ষক কী বলতে চেয়েছেন, তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন।
এসএম হলের প্রাধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমান দাবি করেন, তিনি কারও হাতে টাকা তুলে দেননি। তিনি জাতীয় একটি দৈনিকে বলেন, আমাদের জ্যেষ্ঠ আবাসিক শিক্ষক মুহাম্মদ বেলাল হোসেনের তত্ত্বাবধানে আয়োজনের সবকিছু চলছে। শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা ছাড়া তো তাঁরা পারবেনও না। বেলালের অনুমোদন ছাড়া কোনো অর্থ ছাড় হবে না। আমি তাঁদের (ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক) হাতে কোনো টাকা দিইনি। টাকা তুলে দেওয়া প্রাধ্যক্ষের কাজ নয়।
শিক্ষক মুহাম্মদ বেলাল হোসেনের বক্তব্যের বিষয়ে প্রাধ্যক্ষ বলেন, বেলাল হয়তো বিষয়টি গুছিয়ে বলতে পারেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

x
English version