////

জুড়ীর ওসির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন পরিবহন শ্রমিকরা!

15 mins read

মৌলভীবাজারের জুড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় সিএনজি চালিত অটোরিকশা শ্রমিকরা। ওসির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছেন তারা।

বুধবার (১৯ এপ্রিল) বেলা ২টার দিকে শ্রমিকরা উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মুমীত আসুক চত্বরে সড়ক অবরোধ করে ওসি মোশারফ হোসেনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধে ও জুড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত)-এর আশ্বাসের ভিত্তিতে প্রায় ঘন্টাখানেক পর শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন।

স্থানীয় অটোরিকশা শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে জুড়ীর পার্শ্ববর্তী বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ কাশেমনগরের সহিদুল ইসলাম ও কামরুল ইসলাম নামে দুইজন শ্রমিক অটোরিকশা নিয়ে জুড়ীর উত্তর জাঙ্গিরাই গ্রামে যান। সেখানে এক বাড়িতে গাড়ি রেখে হাওরে ধান কাটতে যান। তখন ওই বাড়ির বাচ্চারা গাড়িটির ক্ষতি করে। চালক ফিরে এসে ঘটনাটি দেখতে পেয়ে ওই বাড়ির লোকজনকে অবগত করেন।

একপর্যায়ে বাড়ির মালিক মর্তুজ আলী ও তার সহযোগিরা ওই শ্রমিক দুজনকে মারপিট করেন। সেখান থেকে তারা ফিরে এসে তাদের সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে বিষয়টি জানান। এ বিষয়ে রাতে শ্রমিকরা থানায় মামলা করতে গেলে ওসি মোশারফ হোসেন এ বিষয়ে কথা বলতে এসআই মহি উদ্দিনের নিকট পাঠান। মহি উদ্দিন ওসির সাথে কথা বলে এসে শ্রমিকদের বলেন ওসি সাহেব বলেছেন বিশ হাজার টাকা দিলে মামলা রেকর্ড হবে। এতে শ্রমিকরা অসম্মতি জানিয়ে ৫ হাজার টাকা দিয়ে আসেন।

এ ঘটনার পর বুধবার দুপুর পর্যন্ত পুলিশ কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বেলা ২টার দিকে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেন এবং হামলাকারী মর্তুজ আলীকে আটকে রাখেন। এক পর্যায়ে জুড়ী থানার এস আই মহি উদ্দিন সেখানে উপস্থিত হয়ৈ শ্রমিকদের হুমকি দিলে শ্রমিকরা তাকেও আটকে রাখেন। পরে জুড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ূন কবির সেখানে উপস্থিত হয়ে মহি উদ্দিনকে উদ্ধার করেন এবং বিষয়টি দেখে দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন। তাঁর আশ্বাস ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধে শ্রমিকরা ঘন্টাখানেক পর অবরোধ তুলে নেন।

সড়ক অবরোধকালে অটোরিকশা শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন-, ওসি মোশারফের অবৈধ টাকা কামাইয়ের মেশিন হচ্ছেন ওই এস.আই মহি উদ্দিন। অভিযুক্ত ওসি এবং এস.আই-কে জুড়ী থানা থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা। তবে অভিযোগের বিষয়ে এস.আই মহি উদ্দিন বলেন- এসব মিথ্যা অভিযোগ।

জুড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ূন কবির বলেন, শ্রমিকরা হামলাকারী একজনকে ধরে পুলিশে দিয়েছে। বিহিত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয়ায় শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেয়।

অপরদিকে, নিজের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে জুড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, অটোরিকশা শ্রমিকদের উপর হামলকারীদের অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version