/

জৈন্তাপুরে উপজেলার চোরাচালানের নিরাপদ রুট লালাখাল, বিজিবি-পুলিশের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অভিযোগ

22 mins read

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চেরাচালানের নিরাপদ রুট হিসাবে সর্বক্ষেত্রে পরিচিতি লাভ করেছে লালাখাল। উপজেলা মধ্যে লালাখাল সীমান্তে কিছুটা দূর্ঘম হওয়ায় চেরাকারবারীরা এই রুটকে বেঁচে নিয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ২হাজার হতে ৫হাজার পর্যন্ত ভারতীয় গরু-মহিষ, ভারতীয় শেখ নাছির উদ্দিন বিড়ি, বিভিন্ন ব্যান্ডের সিগারেট, বিভিন্ন ব্যান্ডের ভারতীয় মোবাইল হ্যান্ডসেট, ভারতীয় শাড়ী, অফিসার চয়েস মদ সহ বিভিন্ন ব্যান্ডের ভারতীয় মদ, ইয়াবা, কসমেট্রিক্স ও হরলিকাস বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। স্থানীয় লালাখাল বিজিবি ও জৈন্তাপুর থানা পুলিশের সহায়তায় চেরাকারবারীদের এসব পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশে করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

সরেজমিন ঘুরে এলাকার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে আলাপকরে যানাযায়, বিগত ৬মাস যাবৎ হর্নি, বাইরাখেল, মাঝেরবিল, জালিয়াখলা, সারীনদীর মুখ, লাল মিয়ার টিলা, আফিফা নগর, তুমইর, বাঘছড়া, জঙ্গীবিল ও বালীদাঁড়া ও ইয়াংরাজা এলাকা দিয়ে জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট উপজেলার চোরাকাবারী সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যরা স্থানীয় লালাখাল বিজিবি ও জৈন্তাপুর থানা পুলিশের সহায়তায় দিন দুপুরে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারততের অভ্যান্তরে প্রবেশ করে ভারতীয় গরু-মহিষ, ভারতীয় শেখ নাছির উদ্দিন বিড়ি, বিভিন্ন ব্যান্ডের সিগারেট, বিভিন্ন ব্যান্ডের ভারতীয় মোবাইল হ্যান্ডসেট, ভারতীয় শাড়ী, অফিসার চয়েস মদ সহ বিভিন্ন ব্যান্ডের ভারতীয় মদ, ইয়াবা, কসমেট্রিক্স ও হরলিকাস বাংলাদেশে নিয়ে আসছে। বিনিময়ে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করছে বিজিবি ও পুলিশের নিয়োজিত সোর্সম্যানরা। তারা আরও বলেন, তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে কিংবা মোবাইল ফোনে ভিডিও ছবি ধারন করলে তার পরিবারে নেমে আসে নির্যাতন, হুমকী, ধমকী সহ ইয়াবা, মদ ও মাদকজাত দ্রব্য সামগ্রী দিয়ে প্রশাসনের নিকট ধরে দেওয়ার অব্যাহত হুমকী। ফলে স্থানীয় জনসাধারণ কিছু বলতে চায় না। নাম প্রকাশ না করা শর্তে তারা বলেন লালখাল সীমান্তের জনগুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হল নাজিমগড় রিসোর্ট এলাকা। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর হতে নাজিমগড় রিাসোর্ট হতে কামরাঙ্গী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় অর্ধ কিলোমিটান এলাকা জুড়ে ভারতীয় মহিষ ডিআই ট্রাকে লোড করে জৈন্তাপুর উপজেলার সদর, জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত বাজার এবং জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজার নেওয়ার হচ্ছে। অপরদিকে লালাখাল বালিদাঁড়া ও কেলেসিং বাজার হয়ে দরবস্ত ও হরিপুর বাজারে নেওয়া হয়, নিশ্চিন্তপুর বাজার ও লাালাগ্রাম হয়ে থুবাং হয়ে দরবস্ত বাজারে পায়ে হেঁঠে এসবগরু দরবস্ত নিয়ে আসা হয়। এলাকাবাসী বলেন, বিজিবি ক্যাম্প হতে মাত্র ৫শত গজ দূরে গরু মহিষ, বিড়ি-সিগারেট, মদ ও মাদক, ইয়াবা, কসমেট্রিক্স সামগ্রী গেলেও কোন প্রতিকার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না স্থানীয় লালাখাল বিজিবি। স্থানীয়রা বলেন, গরু-মহিষ দ্রুতগ্রামী ডিআই ট্রাক যোগে নেওয়ার ফলে লালাখাল সারীঘাট রাস্তা ভাঙ্গা চেরা হওয়ায় তার অবস্থা আরও মারাত্বক আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী বিজিবি পুলিশকে সংবাদ দিলে দ্রুত সময়ের মধ্যে সাংবাদ প্রদানকারীরকে চেরাকারবারী দলের সদস্যরা ফোন দিয়ে হুমকী ধমকী দিতে থাকেন। অপরদিকে লালখাল এলাকা দিয়ে নিরাপদে চোরাকারবার ও প্রশাসন ম্যানেজের জন্য কমিটি গঠন করা হয়। গত ২৯ মার্চ দিবাগত রাত ১১টায় গরু-মহিষ ও মাদক পণ্য আসার সংবাদ লালাখাল বিজিবি ও পুলিশকে সংবাদ দিলেও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

বিষয়টি জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোঃ মহসিন আলীকে জানানোর জন্য একাধিক বার ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভি করেননি।

বিষয়টি লালাখাল বিজিবিকে ফোন দেওয়া হলে নিজের পরিচয় না দিয়ে তিনি বলেন, গরু আসার ও অন্যান্য বিষয়টি আমাদের জানা নেই, খোঁজ নিয়ে দেখছি।

বিষয়টি জৈন্তাপুর-কানাইঘাট সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মোঃ আব্দুল করিমকে জানানো হলে তিনি বলেন, অপরাধ যেই করুক না কেন, আপনারা সত্য ঘটনা তুলে দরুন। আমি বিষয়টি উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নজরে দিচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

x
English version