নোটিশ:
জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।
জৈন্তাপুরে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি, স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে নদী কেন্দ্রিক শ্রমিকরা

জৈন্তাপুরে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি, স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে নদী কেন্দ্রিক শ্রমিকরা

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা টানা ১৫দিন পর অনাবৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলের উন্নতি হতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে পানি নামতে উপজেলা সর্ববৃহত নদী সারী ও বড়গাং নদীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসছে।

সরেজমিনে উপজেলা নিজপাট, জৈন্তাপুর ও চারিকাটা ইউপি ঘুরে দেখা গেছে তিনটি ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চল ব্যতীত শতকারা ৮০ শতাংশ বানের পানি নেমে গেছে। উপজেলার সবচেয়ে বড় নদী সারী, বড়গাং ও রাংপানি নদীর পানি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে গেছে। কর্ম তৎপর হতে উঠছে নদী কেন্দ্রিক শ্রমিকদের জীবন যুদ্ধ।

অপরদিকে উপজেলার দরবস্ত, ফতেপুর ও চিকনাগুল ইউপির পানি কিছুটা কমেতে শুরু করেছে। এই অঞ্চলের বন্যাত্ররা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে কমপক্ষে সপ্তাহ খানেক সময় লাগবে। লামামহাইল গ্রামের বাসিন্ধা হরমুজ আলী জানান, অতিতের সকল বন্যার রেকর্ড অতিক্রম করে বানের পানি আমাদেরকে আক্রান্ত করেছে। পানি দীর্ঘমেয়াদী হওয়ায় আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি বেশি। বানের পানিতে ভেসে গেছে আমাদের কষ্টার্জিত ধান, ফিসারী সহ ছোট বড় পুকরের মাছ। পানিতে তলিয়ে গিয়ে নষ্ট হয়েছে সব্জি সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় গোলা ভর্তি ধান। বিশেষ করে গো-খাদ্য সমুহ।

এবিষয়ে কাঞ্চর গ্রামের বাসিন্ধা মুদছির আহমদ বলেন, অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলের সৃষ্ট বন্যা দীর্ঘ মেয়াদী হওয়াতে আমাদের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। গ্রামের প্রতিটি বাড়ীতে ঘরের মধ্যে কমপক্ষে ৩হতে চার ফিট পানি উঠেছে। ফলে ব্যবহত আসবাবপত্র, সারা বৎসরের জন্য মজুদ ধান, ধানবীজ সহ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে গো-খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। এখন এই অঞ্চলের বাসিন্ধারা গবাদী পশু নিয়ে ব্যাপক হারে চিন্তিত। এছাড়া অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলের সাথে ঝড় তুফানে বাসতবাড়ীর ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে। অনেকের বসত ঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। এবিষয়ে গ্রামবাসীরা জানান, বরাক নদীর পানি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আরও সপ্তাহ দশদিন লাগবে এই পানি সরে যেতে।

কামরাঙ্গী গ্রামের রহিম উদ্দিন, লক্ষীপ্রসাদ গ্রামের নাজিম উদ্দিন, সেলিম আহমদ, ফরিদ উদ্দিন, বাচ্চু মিয়া, আলতাফুর রহমান বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার কারনে ১৫দিন পর আমরা স্বাভাবিক ভাবে বড়গাং ও সারী নদীতে পাথর ও বালু আহরণ করতে ফিরেছি। শুক্রবার বন্ধ হলেও আমরা হাতে টাকা পয়সা নেই। যা ছিল তাও শেষ হয়ে দোকানীদের নিকট হতে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে বেঁচে আছি। পানি ক্ষমার সাথে সাথে আমরা কর্মের জন্য নদীতে ফিরে এসেছি।

এদিকে বন্যার পরিস্থিতি ও পানি বন্দিদের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে ত্রানের চাল ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। গতকাল উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়নে ত্রান সামগ্রী বিতরণ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল আহমদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল বশিরুল ইসলাম।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল বশিরুল ইসলাম বলেন, বন্যায় উপজেলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু হয়েছে। উপজেলায় দেড় লক্ষাধিক লোক পানি বন্ধি হয়ে পড়ে। বর্তমানে বন্যার সার্বিক পরিস্তিতি উন্নতির পথে। তিনটি ইউপির শতকরা ৮০ ভাগ পািন নেমে গেছে। অপর তিনটি ইউপির ৫০ হাজার লোক পানি বন্ধি রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এসকল ইউপির পানি নেমে যাবে বলে আশাবাদি। বন্যাত্রদের মধ্যে সকল ধরনের সার্বিক সহযোগিতা হচ্ছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল আহমদ বলেন, টানা ১৫দিন পর আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে জৈন্তাপুর উপজেলা বন্যা দূর্যোগ হতে মুক্তি পাচ্ছে। কয়েকটি ইউনিয়নের পানি নেমে গেছে। বাকী ইউনিয়নের পানি নামতে শুরু করেছে। বন্যার ক্ষয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে উপজেলা ও জেলা প্রশাসন সহ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন।

প্লিজ সেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY Mission It Development ltd.
x
English version