//

জৈন্তাপুরে হাকম দিয়ে চলাচল করছে পাঁচ গ্রামের বাসিন্ধা

14 mins read

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার পাঁচটি গ্রামের জনসাধারণ চলাচল করছে হাকম দিয়ে। বহুদিন ধরে ব্রীজের নির্মানের দাবী জানিয়ে আসলেও ব্রীজ জুটেনি তাদের ভাগ্যে।
জৈন্তাপুর উপজেলা সদরের অন্যতম ও নিকটবর্তী ইউনিয়ন জৈন্তাপুর। এই ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মোয়াখাই, লামনীগ্রামের একাংশ, কাটাখাল, মুক্তাপুর, বিরাইমারা হাওর গ্রামের প্রায় ৬হাজারের অধিক মানুষের বাস। বাঁশের তৈরী হাকম (সাঁকো) দিয়ে উপজেলা সদরের সাথে চলাচল। অপরদিকে নিজাপাট সদরের মেঘলী, বন্দরহাটি, লামাপাড়া সহ আশপাশের আরও ১০/১২টি গ্রামের লোকজন ফসলী জমিতে চাষাবাদের হাকমটি ব্যবহার করে।
গ্রামবাসীরা দীর্ঘ দিন হতে নয়াগাং নদীর বোধাইর ভাঙ্গা নামক স্থানে ব্রীজ নির্মানের দাবী জানিয়ে আসছে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস তাদের দাবী পুরন হচ্ছে না। প্রতি বৎসর নিজেদের অর্থায়নে বাঁশের তৈরী হাকম ব্যবহার করে উপজেলা সদর ও শহর যাতায়াত করে। ঝুঁকি নিয়ে বর্ষা মৌসুমে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় গামীদের ছাত্র-ছাত্রী এবং গ্রামবাসীদের বাজারের আসা-যাওয়া করতে হয়।
সংসদ, উপজেলা, ইউনিয়ন নির্বাচন হলে প্রার্থীরা নিজেদের ভোট ব্যাংকে তাদের ভোট নিতে ব্রীজ নির্মানের আশ্বাস দিয়ে যান। ভোটের পর তাদের ব্রীজ স্থাপনের দাবী আর পূর্ণ হয় না। দেখা মিলেনা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের। প্রতি বৎসর বর্ষা শুরুর পূর্বে গ্রাম বাসিরা অর্থ সংগ্রহ করে হাকম নির্মাণ করেন।
এলাকার বাসিন্ধা আব্দুস শুক্কুর, ফখরুল ইসলাম, কাওছার আহমদ, হোলাল আহমদ, হীরা মিয়া, বাদশা মিয়া, সমছির মিয়া, কেশব শর্ম্মা, বিকাশ শর্ম্মা প্রতিবেদককে বলেন, বোধাইর ভাঙ্গা নামক স্থানে ব্রীজ না থাকায় উপজেলার মধ্যে আমরা উন্নয়ন পিছিয়ে রয়েছি। নির্মাণ সমাগ্রী আনা নেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয় হয়। উপজেলার অন্যান্য গ্রামের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হলে আমরা উন্নয়ন বঞ্চিত রয়েছি। ব্রীজটি নির্মাণ হলে আমাদের কষ্ট দূর হবে। উপজেলা ও শহরের সাথে আমাদের যোগাযোগ দ্রুত হবে।
জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এখলাছুর রহমান বলেন, বোধাইর ভাঙ্গায় ব্রীজ নির্মানের জন্য আমার পরিষদের পক্ষ হতে উপজেলা পরিষদে এবং স্থানীয় মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে লিখিত ভাবে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল আহমদ বলেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার নয়াগাং নদীর বোধাইর ভাঙ্গা নামক স্থানে একটি ব্রীজ নির্মানের লিখিত প্রস্থাবনা দিয়েছি। ব্রীজটির নির্মানের জন্য মন্ত্রী মহোদয় দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন। কাটাখাল, লামনীগ্রাম একাংশ, মোয়াখাই ও মুক্তাপুর রাস্তার বিষয়টি উপজেলা উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকায় অন্তভূক্ত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

x
English version