টাঙ্গাইলে প্রেমের টানে ছুটে আসা দুই কিশোরীর অশ্রুসজল বিচ্ছেদ

13 mins read

সন্ধ্যায় ফুলকি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রেমে আসক্ত সেই দুই কিশোরীর অভিভাবকদের কাছে বুঝিয়ে দেন৷ অবশেষে ঘটল সেই দুই কিশোরীর অশ্রুসজল বিচ্ছেদ। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রেমে আসক্ত দুই কিশোরীকে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ফুলকী ইউনিয়ন পরিষদে দুই পরিবারের অভিভাবকের মুচলেকা নিয়ে কিশোরীদের তাঁদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
গত রোববার সন্ধ্যায় প্রেমের টানে নোয়াখালীর এক কিশোরী সংসার করতে চলে আসে টাঙ্গাইলের কিশোরী প্রেমিকার বাড়িতে। এরপর বিষয়টি নিয়ে বাসাইল উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কিশোরীর পরিবার পড়ে চরম বিপাকে।
বাসাইল উপজেলার ফুলকী ইউপির চেয়ারম্যান সামছুল আলম বিজু বলেন, ‘ইউএনও মহোদয় আমাকে বিষয়টি সমাধানের জন্য দায়িত্ব দিয়েছিলেন। পরে দুই কিশোরীর পরিবারের অভিভাবকের সঙ্গে বৈঠকে বসা হয়। বৈঠকে দুই কিশোরীকে বুঝে পেয়েছে মর্মে অভিভাবকদের মুচলেকা রেখে তাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই দুই কিশোরী যাতে আর যোগাযোগ করতে না পারে, সে ব্যাপারে তাদের পরিবারকে নির্দেশ নেওয়া হয়েছে।’
দুই কিশোরীর সমপ্রেম নিয়ে বিপাকে পরিবার-প্রশাসন দুই কিশোরীর সমপ্রেম নিয়ে বিপাকে পরিবার-প্রশাসন
বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভীন বলেন, ‘নোয়াখালীর ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করে এক কিশোরীর পরিবারকে খুঁজে বের করা হয়। পরে তার অভিভাবক বাসাইলের ফুলকী ইউপিতে হাজির হন। এরপর ফুলকী ইউপির চেয়ারম্যানকে বিষয়টি নিয়ে সমাধানের জন্য বলা হয়। তিনি উভয় কিশোরীর অভিভাবকদের নিকট থেকে লিখিত রেখে দুই কিশোরীকে বুঝিয়ে দিয়েছেন।’
প্রসঙ্গত, নোয়াখালী সদর ও টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার বাসিন্দা দুই কিশোরীর প্রায় দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচিত হয়। সেই থেকেই ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ হতো তাদের। এরই ধারাবাহিকতায় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে গত রোববার তাদের দুজনের ফোনে কথা হয়। এরপর সন্ধ্যায় নোয়াখালীর কিশোরী টাঙ্গাইল শহরে চলে আসে। পরে বাসাইল থেকে গিয়ে তাকে নিয়ে আসে অপর কিশোরী। ওই রাতেই তাদের অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তাদের দেখতে দলে দলে লোকজন বাড়িতে ভিড় জমান। এই দুই কিশোরীর সংসার করার সিদ্ধান্তে কিশোরীদের স্বজনেরাও হতভম্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

x
English version