নোটিশ:
জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।
ডেট লাইনে : তেহরান দূতাবাস (পর্ব-১ হতে ৩)

ডেট লাইনে : তেহরান দূতাবাস (পর্ব-১ হতে ৩)

ডেট লাইনে:———তেহরান দূতাবাস পর্ব-১।
ইরানে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের অসহযোগিতায় বন্দর আব্বাসে বসবাসরত ইরান প্রবাসী নাগরিকরা নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত, ডেপুটি মিশন অফিস স্থাপনের দাবী
স্টাফ রির্পোটার: ইরানের তেহরান নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের  অসহযোগিতায় ইরানের বন্দর আব্বাসে বসবাসরত  ইরান প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকরা নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। তেহরান মিশন থেকে প্রবাসী নাগরিকগণ কে তেমন কোন সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে তেহরানে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
প্রবাসীদের নানা রকম অসহযোগিতা ও মিশনে আর্থিক অনিয়ম থেকে শুরু করে বিভিন্ন অভিযোগ জানিয়ে ইরান প্রবাসী নাগরিক বৃন্দ দূতাবাসের বিরুদ্ধে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিবের নিকট পৃথক দু‘টি অভিযোগ দিয়েছেন। গত ৪ মে-২০২১ইং তেহরানে বসবাসরত  প্রবাসী মো: শামীম রাজা এবং ইরানের বন্দর আব্বাসে বসবাসরত মো: মতিন মিয়া লিখিত অভিযোগ দেন। এছাড়াও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদের নিকট  গত ১১ এপ্রিল ২০২১ইং তারিখে মো: মতিন মিয়া পৃথক ভাবে আরেকটি অভিযোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে এসব অভিযোগের সঠিক তদন্ত করতে  বিশেষ পুলিশ সুপার (সিআইডি) মালিবাগ ঢাকায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরিত এসব অভিযোগে বলা হয়েছে,
বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার স্থায়ী নাগরিকগণ বিভিন্ন সময়ে ইউরোপ যাওয়ার পথে দুবাই ,উমান হয়ে দালাল-মাধ্যমে বৈধ-অবৈধ ভাবে ইরানের বন্দর আব্বাস শহরে এসে অবস্থান করেন। সেখান থেকে দালাল মাধ্যমে তাদের কে জাহাজ করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রেরণ করার কথা বলে বড় অংকের টাকা দালাল চক্র হাতি নিয়ে পালিয়ে যায়। এই অবস্থায় বিগত ২০/৩০ বছর থেকে অন্তত  কয়েক হাজার বাংলাদেশি নাগরিক ইরানের বন্দর আব্বাস শহরে বৈধ-অবৈধ ভাবে বসবাস করে আসছিন। অতীতে তেহরান মিশন অফিসের পক্ষে সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার বড়চতুল ইউনিয়নের বাসিন্দা মো: জিয়াউল হক মিশন প্রতিনিধি হিসাবে নানা রকম সহযোগিতা করেন এবং এখনও তিনি সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ সিআইডি পুলিশ, মানবতার সুরক্ষা সংগঠন সহ বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন দপ্তর বিষয়টি অবগত রয়েছে। তেহরানে বাংলাদেশ মিশনের তৎকালীন বাণিজ্যিক সেক্রেটারী মো: সবুর হোসেন বিস্তারিত বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন।
অতীতে বিগত ৪০ বছর থেকে তেহরান মিশনে কর্মরত সকল অফিসারগণ প্রবাসীদের অনেক সহযোগিতা করে গেছেন। বিগত বছর থেকে তেহরান দূতাবাসের হাই কমিশনার সহ বাণিজ্যিক সেক্রেটারী ড. জুলিয়া মঈন যোগদান করার পর বন্দর আব্বাস থেকে সরাসরি বিমান ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেন। বাংলাদেশি নাগরিকগণ-কে তেহরান মিশন থেকে কোন সহযোগিতা করা হয় নাই। অভিযোগ রয়েছে অনেক সময়ে ফোন করা হলে ফোন রিসিভ করা হয় নাই। বাংলাদেশি নাগরিকগনের পক্ষ থেকে মিশনের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা চেয়ে অনেক ইমেলপত্র প্রেরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও বিভিন্ন সময়ে অনেক ইমেলপত্র প্রেরণ করা হয়েছিল। তেহরান মিশনের অসহযোগিতার কারনে বন্দর আব্বাস শহরে অনেকে বাংলাদেশি নাগরিকগণ বর্তমানে করোনা কালীন সময়ে চরম দুভোর্গ পোহাতে হচ্ছে।
তেহরানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস-মিশন থেকে বন্দর আব্বাস শহরের দুরত্ব অন্তত ১৭ শত কিলোমিটার, গাড়ি দিয়ে যাতায়াত করতে সময় লাগে অন্তত ২৪ ঘন্টা। সড়ক পথে ইরানি পুলিশ নানা ভাবে হয়রানি করে। এই অবস্থায় বাংলাদেশি নাগরিকগণ বছরের পর বছর ধরে বৈধ-অবৈধ ভাবে বন্দর আব্বাস শহরে  জাহাজ শ্রমিক ,কৃষি কাজ সহ বিভিন্ন পেশায় কাজ করে মানবেতর জীবন যাপন করে আসছেন। অনেকেই সেখানে বিয়ে-সাদী করে বসবাস করেন। দেশে যেতে হলে তেহরান হয়ে যাওয়া অনেক ব্যয়বহুল। বাংলাদেশী  নাগরিকগনের বাস্তব অবস্থা দেখতে বিভিন্ন সময়ে দেশ থেকে সিআইডি পুলিশ সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগন বন্দর আব্বাস শহর পরিদর্শন করেন। অতীতে বন্দর আব্বাস শহরে বাংলাদেশি নাগরিকগণ-কে বৈধতা দিতে ঢাকা থেকে ৫শত পাসপোর্ট প্রদান করা হয়েছিল। এখনও বন্দর আব্বাস শহরে কয়েক হাজার বাংলাদেশী নাগরিক অবৈধ ভাবে বসবাস করছেন। এখানে ভারত, পাকিস্তান, আফগান্তিান, শ্রীলংকা, মালেশিয়া সহ বিভিন্ন দেশের অস্থায়ী মিশন অফিস রয়েছে একমাত্র তাদের দেশের নাগরিকগনের সু-রক্ষায় কাজে। বন্দন আব্বাস শহরে বাংলাদেশি মিশন অফিস না থাকায় প্রবাসী নাগরিকগণ বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। আমরা দেশে যেতে হলে অনেক সময়ে বাংলাদেশ পুলিশ প্রশাসনের প্রতিবেদন এবং ইউনিয়ন পরিষদের জন্মনিবন্ধন সনদ ও নাগরিকত্ব সনদপত্র সংগ্রহ করতে হয়। অনেক সময়ে এসব তথ্য সংগ্রহ করতে বিভিন্ন অফিসে বড় অংকের টাকা ঘোষ দিতে হয়। দেশে যেতে হলে বাংলাদেশী নাগরিক হিসাবে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিকত্ব সনদপত্র দেখাতে হয়। তেহরান দূতাবাস থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ট্রাভেলস পারমিট সংগ্রহ করতে নানা হয়রানির শিকর হতে হয়।
সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার বাসিন্দা মতিন মিয়া তিনি একজন অসুস্থ্য রোগী  অনেক দিন থেকে নিজের জন্মভূমি বাংলাদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছেন। ইউনিয়ন পরিষদের যাবতীয় কাগজপত্র দূতাবাসে প্রেরণ করা হয়েছে। কাগজপত্র সংগ্রহ করে  দূতাবাসে প্রেরণ করার পরও তেহরান মিশন থেকে তাকে কোন ধরনের সহযোগিতা করা হয় নাই। তেহরান মিশনে বাণিজ্যিক সেক্রেটারী ড. জুলিয়া মঈন নামে একজন অফিসার নিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর বন্দর আব্বাস শহরে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকগনের নানা সমস্যার বিষয়ে অবগত করা হয়। বিভিন্ন সময়ে তেহরান মিশন এবং বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অনেক আবেদন নিবেদন করা হয়েছে। বর্তমান বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারী সহ এই অবস্থায় প্রবাসীগণ অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছেন। অনেকেই দেশের যাওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। তেহরান মিশনের অসহযোগিতার কারনে দেশে যেতে পারছেন না। মতিন মিয়ার মত আরো অনেকেই দীর্ঘদিন থেকে নানা রোগভোগে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন। অনেকেই করোনায় মারা গেছেন সেখানেই দাফন করা হচ্ছে। বাংলাদেশি নাগরিক মারা গেলে সেখানকার আদালত ও প্রশাসনের অনুমতি প্রয়োজন লাগে।  ইরানী প্রশাসন গুরুত্ব দিলেও বাংলাদেশ দূতাবাস লাশ দাফন করতে প্রবাসীদের কোন রকম সহযোগিতায় এগিয়ে আসনে নাই। এসব অভিযোগের বিষয়ে তেহরান দূতাবাসের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে হাই কমিশনার  গাউছুল আজম সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই। গত ২১ ফ্রেব্রুয়ারী  শাহ নূর মিয়া নামে একজন  প্রবাসী মারা যান এই লাশ দাফন করতে তেহরান দূতাবাসে বার বার যোগাযোগ করা হলে  মিশন থেকে কোন সহযোগিতা করা হয় নাই। ইরানের  বন্দর আব্বাস শহরে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীগণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে কাছে দাবী জানিয়েছেন এখানে বাংলাদেশ  দূতাবাসের ডেপুটি মিশন অফিস স্থাপন করার ব্যবস্থা গ্রহন করতে।

ডেট লাইনে:———তেহরান দূতাবাস পর্ব-২।
ইরানে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের নানা অনিয়মের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে প্রবাসীদের লিখিত অভিযোগ
স্টাফ রির্পোটার:  ইরানের তেহরান নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ইরান প্রবাসীদের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরে পৃথক ভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত ৪ মে-২০২১ইং তেহরানে বসবাসরত  প্রবাসী মো: শামীম রাজা এবং ইরানের বন্দর আব্বাসে বসবাসরত মো: মতিন মিয়া লিখিত অভিযোগ দেন। এছাড়াও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদের নিকট  গত ১১ এপ্রিল ২০২১ইং তারিখে মো: মতিন মিয়া পৃথক ভাবে আরেকটি অভিযোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে সঠিক তদন্ত করতে বিশেষ পুলিশ সুপার (সিআইডি) মালিবাগ ঢাকায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরিত এসব অভিযোগে বলা হয়েছে,
তেহরানে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাই কমিশনার গাউছুল আজম সরকার সহ মিশনের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ বিভিন্ন অনিয়মের সাথে  জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, অনেকেই কর্মকর্তাগণ মিশনে এসেই অধিক আর্থিক লোভে কিছু প্রবাসী দালাল মাধ্যমে হুন্ডি ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন।  বিগত ২/৩ মাস পূর্বে তেহরান দূতাবাসের অফিস একাউন্ট থেকে হুন্ডির মাধ্যমে দুই লাখ মার্কিন ডলার একাউন্ট অফিসার মোস্তাফা কামাল গোপনে ঢাকার এক ব্যবসায়ীর নিকট এই টাকা প্রেরন করেন।
তিনি অবৈধ ভাবে ইরান প্রবাসী হুন্ডি ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম সেলিম কাছে এই টাকা প্রেরণ করেছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। এই দুই লাখ মার্কিন ডলার নিয়ে রেজাউল ইসলাম সেলিম পালিয়ে যান। এই টাকা উদ্বার করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া তেহরান মিশনের একাউন্ট অফিসার মোস্তফা কামাল বাংলাদেশ চলে আসেন। কিছুদিন বাংলাদেশ অবস্থান তিনি আবারও তেহরান ফিরে যান।  এ বিষয়ে গত ৪ মে, ২০২১ইং সন্ধ্যায় ঢাকার পল্টনে দৈনিক দেশের কন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মো: আলমগীর হোসেন‘র মাধ্যমে তেহরান থেকে মোস্তফা কামাল এই প্রতিবেদকের সাথে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বাংলাদেশ আসার কথা স্বাকীর করে জানান, তেহরানে নিযুক্ত হাই কমিশনার গাউছুল আজম সরকারের (জিও) লেটার নিয়ে তিনি বাংলাদেশ আসেন।  একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারী এই দুই লাখ মার্কিন ডলার উদ্বার কাজে সহায়তা করতে তিনি ঢাকায় এসেছিলেন। একটি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকের সহযোগিতায় গুলশান থানায় রেজাউল ইসলাম সেলিম‘র বিরুদ্ধে একটি জিডি করেন। গুলশান থানায় জিডির বিষয়ে ঐ সম্পাদক স্বীকার করেছেন এবং হাই কমিশনারের স্ত্রী সাদিয়া আজমের ব্যবসায়িক টাকা বলে জানান। তবে গুলশান থানায় জিডি এন্ট্রির বিষয়ে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
তেহরান হাই কমিশনার  গাউছুল আজম সরকারের  স্ত্রী সাদিয়া আজম এই কাজে তিনি অন্তত এক মাস বাংলাদেশ অবস্থান করে গত ৯ই মে তেহরান ফিরে যান।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরিত অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে বর্তমান ইরানের তেহরান মিশনে কর্মরত হাই কমিশনার গাউছুল আজম সরকারর লেবানন দূতাবাসে  থাকাকালীন সময়ে হুন্ডি ব্যবসা সহ নানারকম অনিয়মের সাথে জড়িত ছিলেন। এক পর্যায়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তার সহযোগিতায় তাকে তেহরান দূতাবাসে হাই কমিশনার হিসাবে নিযুক্ত করা হয়। তেহরানে যোগদান করার পর তিনি প্রবাসী নাগরিকগণের সমস্যায় বিষয়ে গুরুত্ব না দিয়ে মিশনে নানা রকম অনিয়ম কাজ করতে থাকেন। এসব কাজে তাকে সহযোগিতা করেন মিশনের একাউন্টিং অফিসার মোস্তফা কামাল। তিনি এক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয় ভাবে জড়িত ছিলেন।
হাই কমিশনার গাউছুল আজম সরকারের নানা অনিয়মের সাথে দ্বিমত পোষন করে মিশনের এক কর্মকর্তা দেশে ফিরে আসেন। গাউছুল আজম সরকার তেহরান মিশন অফিসে শাহ জাহান নামে একজন( সিকিউরিটি গার্ড) নিরাপত্তাকর্মী হিসাবে অনেকদিন দূতাবাসে চাকুরী করেন। এই চাকুরী‘র সুবাধে সে দূতাবাসের ডিপ্লোমিট প্যারাডো গাড়ি চুরি করে নিয়ে পালিয়ে যায়। এই কারনে তাকে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করা হয়। ইরানে বাংলাদেশি প্রবাসীরা ঘটনাটি অবগত আছেন। শাহ জাহানের নানা দূর্নীতি,গাড়ি চুরি সহ যাবতীয় তথ্য  বর্তমান কনসোলার হুমায়ুন কবির সাহেব‘র টেবিলে ফাইল রক্ষিত আছে। এই অবস্থায় শাহ জাহান কে বর্তমান হাই কমিশনার তেহরান মিশন অফিসে পুনরায় বড় অংকের টাকার বিনিময় তাকে চাকুরীতে নিযুক্ত করেন।
এই সব বিষয়ে সঠিক ভাবে তদন্ত করে অনুসন্ধান করা হলে আরো অনেক অজানা গোপন তথ্য বেরিয়ে আসবে। হাই কমিশনার গাউছুল আজম সরকারের নির্দেশে কনসোলার হুমায়ুন কবির ও বাণিজ্যিক সেক্রেটারী ড. জুলিয়া মঈন বন্দর আব্বস শহরে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের  সহযোগিতা করতে অনিহা প্রকাশ করছেন। প্রবাসীদের পাসপোর্ট নবায়ন না করে রির্টান দিচ্ছেন। ইরান প্রবাসী অনেকেই বাঙালী সেখানে বিয়ে সাদি করে বছরের পর বছর থাকার পর মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের ছেলে-সন্তানদের পাসপোর্ট মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন ইরান সরকার-কে জরিমানা দিতে হচ্ছে। ইরানের তেহরানে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে সঠিক ভাবে তদন্ত করতে পররাষ্ট্র  মন্ত্রণালয় সহ সরকারের গোয়োন্ধা সংস্থার নিকট ইরান প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক দাবী জানান এবং বন্দর আব্বাস শহর থেকে পুনরায় সরাসরি বিমান ফ্লাইট চালুর ব্যবস্থায় এগিয়ে আসার আহবান করা হয়েছে।

ডেট লাইনে:———তেহরান দূতাবাস পর্ব-৩।
ইরানে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের অবহেলায় বন্দর
আব্বাস সিলেটের আব্দুস শহিদ‘র লাশ দেড় মাস
থেকে পড়ে আছে দাফন করা যাচ্ছে না
স্টাফ রির্পোটার: তেহরানে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের অবহেলায় ইরানের বন্দর আব্বাস শহরে সিলেটের আব্দুস শহিদ‘র লাশ দেড় মাস থেকে পড়ে আছে ,দাফন করা যাচ্ছে না । বন্দর আব্বাস শহরে মৃত্যুবরণকারী সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলা সদরের টুকেরগাও গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা মো: আব্দুস শহিদের লাশ দেশে প্রত্যাবর্তন অথবা সেখানে দাফন কাজে সহযোগিতায় চেয়ে এবং তেহরান দূতাবাসের অসহযোগিতায় নিহত‘র ছোট ভাই মো:  কুতুব উদ্দিন গত ৪ই মে,২০২১ইং তারিখে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আমার বড় ভাই মো: আব্দুস শহিদ পিতা মৃত: মো: শামছুল হক,মাতা মোছা: সকিনা বেগম। বিগত ২০/২৫ বছর পূর্বে দুবাই এবং ওমান হয়ে ইউরোপ যাওয়ার পথে দালাল-মাধ্যমে ইরানের বন্দর আব্বাস শহরে অবস্থান করেন। সেখান থেকে দালাল মাধ্যমে জাহাজ করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রেরণ করার কথা বলে আমার ভাই সহ আরো শত শত বাংলাদেশী নাগরিকগনের নিকট থেকে বড় অংকের টাকা দালাল চক্র হাতি নিয়ে পালিয়ে যান। এই অবস্থায় আমার ভাই সহ অন্তত কয়েক হাজার বাংলাদেশি নাগরিক ইরানের বন্দর আব্বাস শহরে বৈধ-অবৈধ ভাবে বসবাস করে করতে থাকেন। বন্দর আব্বাস শহরে বসবাসরত বাংলাদেশী নাগরিকগনের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিলে অতীতে তেহরান মিশন অফিসের পক্ষে সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার বড়চতুল ইউনিয়নের বাসিন্দা মো: জিয়াউল হক মিশনের প্রতিনিধি হিসাবে তাদের-কে নানা রকম সহযোগিতা করেন এবং এখনও তিনি সেখানে বাংলাদেশী নাগরিকগণ-কে বিভিন্ন রকম সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।
অতীতে বিগত ৪০ বছর থেকে তেহরান মিশনে কর্মরত সকল অফিসারগণ বাংলাদেশি নাগরিকদের অনেক সহযোগিতা করে গেছেন। সম্প্রতি সময়ে তেহরান দূতাবাসের হাই কমিশনার সহ বাণিজ্যিক সেক্রেটারী ড. জুলিয়া মঈন যোগদান করার পর বন্দর আব্বাস শহরে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকগণ-কে কোন ধরনের সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেন নাই।
গত ৩ এপ্রিল আমার বড় ভাই মো: আব্দুস শহিদ বন্দর আব্বাস শহরে মারা যান। আমরা ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে সেখানকার বাংলাদেশি নাগরিকগনের সাথে যোগাযোগ করে লাশ দেশে প্রত্যাবর্তন সহ প্রশাসনিক কাজে তারা নানা ভাবে সহযোগিতা করেন। তিনি একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসাবে বিদেশ মৃত্যুবরণ করার কারনে তেহরান দূতাবাস থেকে আইনগত ও প্রশাসনিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্মনিবন্ধনসনদ এবং নাগরিকত্ব সনদপত্র তেহরান দূতাবাসে প্রেরণ করেছি। এই অবস্থায় অন্তত বিগত দেড় মাস সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে তেহরান দূতাবাস থেকে কোন সহযোগিতা করা হয় নাই। দূতাবাসের নানা অসহযোগিতার কারনে আমার ভাইয়ের লাশ দেশে প্রত্যাবর্তন অথবা সেখানে দাফন করার কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা সম্ভব হচ্ছে না। সেদেশের আদালত এবং দূতাবাস প্রশাসনিক ভাবে অনুমতি না দিলেও দূতাবাসের অনাপত্তিপত্র না পেলে  লাশ দেশে প্রত্যাবর্তন অথবা সেখানে দাফন না সম্ভব নয়। বন্দর আব্বাস শহরে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকগণ বিভিন্ন ভাবে তেহরানে নিযুক্ত বাংলাদেশ মিশনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তেহরান দূতাবাস কোন ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে না। আমার ভাইয়ের মত এরকম আরে অনেকেই তেহরান মিশনের অসহযোগিতায় বন্দর আব্বাস শহরে নানা সমস্যায় মধ্যে রয়েছেন। তেহরানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস-মিশন থেকে বন্দর আব্বাস শহরের দুরত্ব অন্তত ১৭শত কিলোমিটার, অবস্থায় বাংলাদেশি নাগরিকগণ বছরের পর বছর ধরে বৈধ-অবৈধ ভাবে বন্দর আব্বাস শহরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বন্দর আব্বাস শহরে কয়েক হাজার নাগরিক জীবন জীবিকার প্রয়োজনে বৈধ-অবৈধ ভাবে বসবাস করছেন। এখানে ভারত, পাকিস্তান, আফগান্তিান, শ্রীলংকা, মালেশিয়া সহ বিভিন্ন দেশের অস্থায়ী মিশন অফিস রয়েছে। প্রবাসী নাগরিদের সু-রক্ষায় ইরানের বন্দর আব্বাস শহরে বাংলাদেশ মিশন অফিস স্থাপন করা প্রয়োজন। ডেপুটি মিশন অফিস  না থাকায় আমার ভাইয়ের মত অনেকেই বছরের পর বছর নানা সমস্যায় পড়ে মৃত্যুবরণ করতে হচ্ছে। ইরানের বন্দর আব্বাস শহরে মৃত্যুবরণকারী মো: আব্দুস শহিদের লাশ দেশে প্রত্যাবর্তন অথবা সেখানে দাফন কাজে তেহরান মিশনের প্রশাসনিক সহযোগিতা চেয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তা কামনা করা হয়েছে।

প্লিজ সেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Log In

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY Mission It Development ltd.
English version