/

তামাবিলের এক ব্যবসায়ীর উপর বন বিভাগের মিথ্যা মামলা

19 mins read

জৈন্তাপুর প্রতিদিন ডেস্ক :
তামাবিল স্থল বন্দরের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী মোঃ শাহরব মিয়া। সরকারী নীতিমালা অনুসরন করে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি তিনি একজন নিয়মিত করদাতাও বটে। সম্প্রতি সিলেট তামাবিল মহা সড়কে সড়ক ও জনপদ বিভাগের সংস্কার কাজে বন বিভাগের বাধা ও চাঁদা দাবীর অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে শাহরব মিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছে বন বিভাগ।
বন বিভাগ সারী রেঞ্জ’র অধিন হাজার হাজার একর জমি দীর্ঘ দিন হতে অপদখল করে গড়ে উঠেছে ত্রুাশার মিল ও পাথর রাখার ড্রাম্পিং ইয়ার্ড। বিভিন্ন সময় উচ্ছেদ করার পরও বিচ্ছিন্ন কিছু ক্রশার মিল ও বাড়ী ঘর থাকলেও অতি সম্প্রতি আদালতের দেওয়া রায়ে মোহাজীরদের দখলীয় জমির রায় চলে আসে বন বিভাগের পক্ষে। সিলেট তামাবিল সংলগ্ন ছৈলাখেল ৩য় খন্ড মৌজার ১৬১ নং খতিয়ানের ১২৭ নং দাগে পতিত রকম ৩ একর ভূমির মালিক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মিজান আজিজ চৌধুরী। উক্ত জমিতে দীর্ঘ দিন হতে মিজান চৌধুরীর তথ্যাবধায়ক হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহরব মিয়া। কিন্তু পার্শ্ববর্তী দাগে বন বিভাগের জমি হওয়াতে বিভিন্ন সময় বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শাহরব মিয়াকে হয়রানী করে আসছে। শুধু তাই নয় সরকারী বেসরকারী আমিনদের মাধ্যমে সার্ভে’র উল্লেখিত জমি চিহ্নিত করার পরও বন বিভাগের লোকজন উচ্ছেদের হুমকী দিতে থাকে এবং বিভিন্ন সময় শাহরব মিয়ার কাছে চাঁদাও দাবী করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট তামাবিল মহাসড়কের পার্শ্বে ড্রেইন নির্মানের কাজ চলছে। শাহরব মিয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সানজিদা এন্টারপ্রাইজ সংলগ্ন এলাকায় কাজ চলাকালীন সময়ে সেখানে কালভার্ড নির্মাণ শুরু করা হলে সওজের ঠিকাদার সানজিদা এন্টারপ্রাইজের প্রবেশের জন্য অস্থায়ী ভাবে বিকল্প রাস্তা তৈরী করে দেয়। কিন্তু সেই রাস্তা বন বিভাগের জমির সীমানা প্রাচীর সংলগ্ন হওয়ায় বাধা আসে বন বিভাগের পক্ষ হতে। চাঁদা দাবীর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে জাফলং বনবিট কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম পূর্বের পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া মাত্র বনবিট কর্মকর্তা ক্ষিপ্ত হয়ে শাহরব মিয়া ও তার লোকজন কে গালি-গালাজ করলে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায় আশ-পাশের ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এসে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেন। কিন্তু পরবর্তীতে বনবিট কর্মকর্তা বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় ২৮ ডিসেম্বর একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় শাহরব মিয়া সহ ৬জন কে আসামী করা হয়েছে।
এব্যাপারে ব্যবসায়ী শাহরব মিয়া প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের জমি সম্পূর্ণ মালিকানাধীন এবং সরকারী নিয়মনীতি মেনে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। বিট কর্মকর্তা বন বিভাগের জমিতে স্থাপতি ত্রুাশার ও ড্রাম্পিং হতে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে থাকেন। অথচ আমরা মালিকানা জমিতে ব্যবসা করেও আমরা নিরাপদ নয়। তিনি আমাদের কাছেও বিভিন্ন সময় সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে আসছেন।
বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা জহিরুল ইসলামের প্রতিবেদককে বলেন, শাহরব মিয়াকে রাস্তা ব্যবহারে বাধা প্রদানের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমরা মানুষ, সামাজিকতাও বুঝি, যেহেতু রাস্তার পাশে আমাদের বন বিভাগের সীমানা প্রাচীর রয়েছে, ভারী গাড়ী চলাচলে যে কোন সময় দেয়াল ভেঙ্গে পড়ার আশংকা রয়েছে। সীমানা প্রাচীর হতে কিছুটা সরিয়ে যাথায়াত করতে বলা হয়ছে। আমি কিংবা আমার লোকজন’র মাধ্যমে চাঁদা দাবী বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। ২৮ ডিসেম্বরের ঘটনায় আমার কর্মচারীরা আহত হওয়ায় উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই থানায় অভিযোগ দাখিল করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x