///

দুর্ভোগে ১০ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ

22 mins read

ধর্মপাশার ফজলুল হক সেলবর্ষী সড়ক,. ৫মাস মেয়াদের সড়ক উন্নয়ন কাজটি ১৪ মাসেও শেষ হয়নি, দুর্ভোগে ১০ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ।

দুই দফা মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের ফজলুল হক সেলবর্ষী সড়কের সড়ক উন্নয়ন কাজটি এখনো সম্পন্ন হয়নি। ঠিকাদারের চরম গাফিলতি ও উদাসীনতার কারণে এই কাজটি এখনো ঝুলে রয়েছে। এ অবস্থায় ওই্ ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের ২০হাজার মানুষজনসহ যানবাহন চালকদেরকে দীর্ঘদিন ধরে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচেছ।

এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের মনাই নদের তীরঘেঁষা ফজলুল হক সেলবর্ষী সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় দেড়কিলোমিটার। এটি এলজিইডির অধীন। এই সড়কের এক কিলোমিটার ২০০মিটার সড়কটি পাকাকরণ, সংস্কার ও মেরামত এবং প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণের জন্য দরপত্রের মাধ্যমে এক কোটি ৪৪ লাখ ৪৫হাজার ৭৪১ টাকা ব্যয়ে কাজটি পায় মেসার্স সুমাইয়া এন্টার প্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত বছরের ৭ফেব্রুয়ারি কাজটি শুরু করে ওই বছরের ৩০জুন সম্পন্ন করার কথা ছিল। গতবছরে মে মাসের শেষ সপ্তাহে ঠিকাদার শ্রমিক নিয়োজিত করে সড়কের কাজটি শুরু করেন এবং জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে কাজটি বন্ধ করে দেন। নির্ধারিত সময়ে কাজটি শেষ না হওয়ায় কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয় চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

গত দুই মাস আগে সড়ক উন্নয়ন কাজটিি শ্রমিক নিয়োজিত করে ঠিকাদার আবার শুরু করেন। কিন্তু নিয়মিত কাজ না করিয়ে মাঝে মাঝে কাজ বন্ধ রেখে ঠিকাদার তাঁর ইচ্ছেমতো এই কাজটি করিয়ে আসছেন। সড়কটির ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ঠেলাগাড়িসহ প্রতিদিন অর্ধশতাধিক যানবাহন চলাচল করে। সড়ক উন্নয়ন কাজটি শেষ না হওয়ায় সেলবরষ ইউনিয়নের মাইজবাড়ী, বীর দক্ষিণ প্রচারপাড়া, বীর দক্ষিণ পশ্চিমপাড়া, বীর দক্ষিণ পূর্বপাড়া, বীর দক্ষিণ নতুন বাড়ী, সলপ, মাটিকাটা, ভাটাপাড়া, পালপাড়া ও রংপুর গ্রামের স্কুল এবং কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ ২০ হাজারেরও বেশি মানুষজনকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

গতকাল শনিবার বিকেল তিনটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির বিভিন্ন অংশে বক্স কেটে রাখা হয়েছে। সড়কের দুটি স্থানে যৎ সামান্য মাটিযুক্ত বালি ও পুরোনো ব্লকের ভাঙা অংশ ফেলা হয়েছে । তবে ওই সড়কে কোনো শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়নি। তবে শুক্রবার দিন দুপুর ১২টার দিকে ওই সড়কে ছয় জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়।

সেলবরষ ইউনিয়নের সলপ গ্রামের বাসিন্দা ইজিবাইক চালক নূর হোসেন (৪২) বলেন, একটু আধটু বৃষ্টি অইলেই সড়কটা পানি জইমা যাওয়ায় এইডার ওফুর দিয়া গাড়ি লইয়া যাওন যায় না। হত্তিদিনই একসিডেন্ট অইতাছে। এইডার কাম তাড়াতাড়ি শেষ করন দরহার।

এক ইউনিয়নের মাইজবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা শামছুল হুদা বাবু বলেন, এই সড়কটির ওপর দিয়ে আমাদেরকে উপজেলা সদরে আসা যাওয়া করতে হয়। সড়ক উন্নয়ন কাজটিতে কোনোরকম তদারকি নেই। ঠিকাদারের সীমাহীন গাফিলতির কারণে কাজটি যথাসময়ে শেষ হয়নি। এছাড়া এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের কোনো কর্মকর্তাই এই কাজটির তদারকি করছেন না। ফলে ঠিকাদার তাঁর ইচেছমতো যেনতেনভাবে এই সড়ক উন্নয়ন কাজটি করে আসছেন। বর্ষার আগেই সড়ক উন্নয়ন কাজটি শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।

ঠিকাদার আলেয়ার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে তাঁর প্রতিনিধি সাকের হোসেন সাগর বলেন, কাজে কোনো অনিম হচ্ছে না। বন্যাসহ নানাবিদ সমস্যায় সড়কটির কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। কাজের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হয়েছে। এই কাজটি দ্রত সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাবউদ্দিন বলেন, এই সড়ক উন্নয়ন কাজটি শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সরোজমিনে সড়ক উন্নয়ন কাজটি পরিদর্শন করে এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেব।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের এলজিইডির(সুনামগঞ্জ কার্যালেয়র নির্বাহী প্রকৌশলী মো.মাহবুব আলম বলেন, খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version