/

ধর্মপাশার মনাই নদী থেকে ড্রেজার মেশিনির্দেশে বালু উত্তোলন বন্ধ করলেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা

19 mins read

ধর্মপাশার মনাই নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন, ইউএনওর নির্দেশে বালু উত্তোলন বন্ধ করলেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বাদশাগঞ্জ বাজারের দক্ষিণ পূর্বপাশে থাকা মনাই নদীতে একটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধ ভাবে সেখান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল।

আজ বৃহস্পতিবার (২১এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনওর) নির্দেশে স্থানীয় বাদশাগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মিলে অবৈধ বালু উত্তোলন কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাদশাগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়টি মনাই নদীর তীর ঘেষে অবস্থিত। বিদ্যালয়টির খানিকটা পশ্চিম উত্তর পাশে বাদশাগঞ্জ পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি অবস্থান। বিদ্যালয়টিতে পাঁচতলা বিশিষ্ট ছাত্রী নিবাস নির্মাণের কাজটি পায় মেসার্স আমেনা এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধিকারী ঠিকাদার মাঈন উদ্দিন। যেখানে ছাত্রী নিবাস নির্মাণ করা হবে সেই স্থানটি কিছুটা নীচু থাকায় স্থানটি বালু ফেলে ভরাট করার জন্য ঠিকাদার দুজন শ্রমিক নিয়োজিত করে মঙ্গলবার (১৯এপ্রিল) সন্ধ্যায় মনাই নদী থেকে বালু উত্তোলন করার জন্য মনাই একটি ড্রেজার মেশিন বসান।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে ঠিকাদারের নির্দেশে ওই নদী হতে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। সকাল ১০টার দিকে মনাই নদীর উত্তর পাশে থাকা বাদশাগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলা উদ্দিন বিদ্যালয়ে এসে উপস্থিত হন।

এসময় তিনি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের শব্দ শুনতে সরজমিনে নদীর পাড়ে গিয়ে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করার দৃশ্য দেখতে পান। তাৎক্ষনিক ভাবে ঘটনাটি ইউএনওকে জানিয়ে দেন। পরে ইউএনও নির্দেশে পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে নিয়ে অবৈধ ভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন কাজটি বন্ধ করে দেন।

ঠিকাদার মাঈন উদ্দিন বলেন, ড্রেজার দিয়ে মনাই নদী হতে বালু উত্তোলন করার জন্য আমি প্রশাসনের কাছ থেকে লিখিত ভাবে কোনো অনুমতি নেইনি। তবে এ নিয়ে আমি ইউএনও স্যার ও এমপি সাহেবের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। বাদশাগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অনেক দূরবর্তী স্থান হতে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। কিন্তু শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মিলে বালু উত্তোলন কাজটি বন্ধ করে দিয়েছেন। বিদ্যালয়টির ভবন গুলোতে যাতে ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা না হয় সেই দিকটি মাথায় রেখে বালু উত্তোলন করা হবে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলাল উদ্দিন বলেন, অবৈধ ভাবে ড্রেজার দিয়ে মনাই নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় আমার বিদ্যালয়টির ভবন গুলো ভবিষ্যতে হুমকির মূখে পড়তে পারে। এই আশঙ্কা হতে ঘটনাটি ইউএনও স্যারকে জানাই। পরে স্যারের নির্দেশেই আমি কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী নিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের কাজটি বন্ধ করে দিয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনতাসির হাসান বলেন, উপজেলার বাদশাগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মনাই নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টি জানার সাথে সাথে এটি বন্ধ করার জন্য ওই বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। ঠিকাদার এনিয়ে আমার সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। বেআইনি ভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

x
English version