

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রী (১৫) গণ ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে ও এই কাজের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০নভেম্বর) বেলা দুইটার দিকে উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বাদশাগঞ্জ পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বাদশাগঞ্জ পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ গভর্নিং বডির সদস্য খায়রুল বশর ঠাকুর খান, বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সহকারি অধ্যাপক হাফিজুর রহমান, বাদশাগঞ্জ পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম, বাদশাগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শরীরচর্চা শিক্ষক আসাদুজ্জামান, বৌলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ প্রমুখ। বক্তারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।এমনকি এ ঘটনায় জড়িত সকল আসামিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে তাদেরকে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
ধর্মপাশা থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হাওর এলাকার একটি গ্রামের বাসিন্দা ওই ছাত্রীটি স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। গত ২২অক্টোবর সকালে ওই ছাত্রীটির বাবা- মা চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে ময়মনসিংহ চলে যান। ওই দিন রাত আটটার দিকে ওই ছাত্রীটির বড় বোনের পরীক্ষার সনদপত্র তুলে দেওয়ার কথা বলে ওই ছাত্রীটির বসতঘরের ভেতরে ঢুকে পড়েন উপজেলার রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা এনামুল মিয়া (২১), সৈকত মিয়া (২০) ও উদয় মিয়া (১৯)। এক পর্যায়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই ছাত্রীটির মুখ হাত দিয়ে চেপে ধরে পাশের কক্ষে নিয়ে গিয়ে এনামুল ছাত্রিটিকে ধর্ষণ করে। ওই ধর্ষণের ভিডিও ছাত্রীটিকে দেখিয়ে সৈকত ও উদয়ও ছাত্রীটিকে ধর্ষণ করে। আর এ সময় বাইরে পাহারা দিচ্ছিল একই গ্রামের বাসিন্দা দুর্জয় মিয়া (২০)ও রাহুল মিয়া(২১)। গণধর্ষণ শেষে তারা সেখান থেকে সটকে পড়েন। সম্মানহানির ভয়ে ওই ছাত্রীটি গণধর্ষণের ঘটনাটি পরিবারের সদস্যদের কাছে গোপন রাখে। গত ৫নভেম্বর সন্ধ্যায় ওই ছাত্রীটির বড় বোন তাঁর ফেসবুকে অজ্ঞাত আইডি থেকে তাঁর ছোট বোনকে ধর্ষণ করার একটি ভিডিও দেখতে পান। আর এই ধর্ষণকাজে সৈকত রয়েছেন বলে তিনি চিনতে পারেন। পরে ঘটনাটি ওই ছাত্রীটির পরিবারের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে থানা পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের নিজ বসতঘর থেকে গত ৭নভেম্বর সোমবার সকাল ছয়টার দিক সৈকতকে আটক করেন। ওইদিন বিকেলে ছাত্রীটির বাবা সৈকতসহ ৫জনকে আসামি করে গণধর্ষণের অভিযোগে ধর্মপাশা থানায় একটি মামলা করেন। এই মামলায় সৈকতকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাস্মদ মিজানুর রহমান বলেন,এই মামলায় একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।মামলার অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছে।তবে তাদেরকে গ্রেপ্তারের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।


