ধর্মপাশায় কেটে গেছে হাওরের বোরো ফসলডুবির শঙ্কা, মনের আনন্দে পুরোদমে চলছে বোরো ধান কাটা

19 mins read

চারদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে না। দিনভর আকাশে ঝলমলে রোদের দেখা মিলছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি কমতে থাকায় হাওরের ফসলডুবির শঙ্কা কেটে গেছে। এ অবস্থায় সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় গত চারদিন ধরে মনের আনন্দে কৃষকেরা তাঁদের পাকা বোরো জমির ধান কাটাচ্ছেন। উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আগামী ৯মের মধ্যে এ উপজেলায় আবাদকৃত পুরো বোরো জমির ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে।
উপজেলা প্রশাসন, এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলার সেলবরষ, পাইকুরাটি, ধর্মপাশা, জয়শ্রী, সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ, সুখাইড় রাজাপুর উত্তর, মধ্যনগর, চামরদানী, বংশীকুন্ডা উত্তর, বংশীকুন্ডা দক্ষিণ এই ১০টি ইউনিয়ন রয়েছে।চলতি বোরো মৌসুমে ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন ছোটবড় হাওর ও হাওরের বাইরে ৩১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল, ধানকুনিয়া, জয়ধনা, সোনামড়ল, রুই বিল, কাইলানী, ঘোড়াডোবা, গুরমা ও গুরমার বর্ধিতাংশ নয়টি হাওর সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে রয়েছে। নয়টি হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধের প্রকল্প সংখ্যা ১৫৮টি। হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় বাঁধ পুননির্মাণ ও মেরামত কাজের জন্য বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয় ৩০ কোটি ৩৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। গত শনিবার থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় এবং পাহাড়ি ঢলের পানি নামতে থাকায় ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে হাওরের ফসল ডুবির শঙ্কা কমে গেছে।


উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের জারারকোনা গ্রামের বাসিন্দা কৃষক এম.এইচ লিপু মজুমদার (৩৫) বলেন, সপ্তাহ খানেক আগেও যে ভাবে পাহাড়ি ঢলের পানি বাড়ছিল তাতে বাঁধ ভেঙে ফসল ডুবির আশঙ্কায় ছিলাম। চারদিন ধরে বৃষ্টি না হয়ে ঝলমলে রোদ উঠায় এবং পাহাড়ি ঢলের পানি কমতে থাকায় আমাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এখন বাঁধ ভেঙে ফসলডুবির শঙ্কা কেটে গেছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সোনামড়ল হাওরে ইবার ৩হাল (৩৬ কিয়ার, ১কিয়ার = ৩২ শতক) জমিতে বোরো ধানের আবাদ করছিলাম। অর্ধেক ধান কাডাইছি আর অর্ধেক ধান কাডা অইছে না। তয় মনে কুনু ভয় নাই। পুরো ধানই ঘরে তুলতাম পারবাম ইনশাআল্লাহ।

সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি)চেয়ারম্যান নাসরিন সুলতানা দিপা বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানির চাপের কারণে এবার হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধগুলো খুব ঝুঁকির মধ্যে ছিল। চারদিন ধরে আবহাওয়া খুব ভালো যাচেছ। এর আগে টাকা ২০/২২ দিন ধরে কখনো দিনে আবার কখনো রাতে আমাদের ইউনিয়নের ধানকুনিয়া, সোনামড়ল ও জয়ধনা হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধগুলোতে ছুটে গেছি। বাঁধ রক্ষার কাজে কৃষকদের পাশে থেকে সাধ্যমতো সহায়তা করেছি। এখন চারদিন ধরে ঝলমলে রোদ উঠায় এবং ঢলের পানি কমে যাওয়ায় বোরো ফনলহানির শঙ্কা মনে হচ্ছে কেটে গেছে। কৃষকেরা মনের আনন্দে তাঁদের কষ্টার্জিত হাওরের বোরো পাকা ধান ঘরে তুলছেন দেখতে পেরে খুব ভালো লাগছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব মো. ইমরান হোসেন বলেন, গত চারদিন দিনে অন্তত আড়াইফুট পানি কমেছে। এতে করে বাঁধ ভেঙে বোরো ফসল ডুবির ঝুঁকি কমে গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.নাজমুল ইসলাম বলেন, পানি ধীরে ধীরে কমছে। আবহাওয়া এখন বেশ ভালো। এভাবে আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আগামী ৯মের মধ্যে এ উপজেলায় আবাদকৃত সব জমির ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, এ উপজেলার ৩১ হাজার ৮৫০ হেক্টর বোরো জমির মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ২১ হাজার ৮৯৭ হেক্টর বোরো জমির ধান কাটা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

x
English version