

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের তারিখ পর পর দুইবার পেছানো হয়। অথচ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত পাঁচ বছর আগে। নতুন করে ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ না হওয়ায় এবং সম্মেলন নিয়ে সর্বরকম প্রস্তুতি থাকার পরও সম্মেলন স্থগিত করে দেওয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
উপজেলা উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীদের সঙ্গেকথা বলে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১০নভেম্বর ৩বছর মেয়াদে ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই বছরের ২০নভেম্বর মোয়াজ্জেম হোসেন রতন কে সভাপতি ও শামীম আহমেদ বিলকিসকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬৭সদস্য বিশিষ্ট ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটি অনুমোদন দেয় সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ। কিছুদিন যেতে না যেতেই উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির নেতারা দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। উপজেলার আওয়ামী লীগের এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ বিলকিস। অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হাই তালুকদার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ মুরাদ। দুই পক্ষের নেতারা পৃথক পৃথক ভাবে দলীয়সহ নানা কর্মসূচি পৃথক পৃথক ভাবে পালন করে আসছে। গত ৯মে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হাওরের বোরো ধান কাটা, করোনা ভাইরাসসহ নানাবিদ কারণে এই সম্মেলনটি স্থগিত করে দেওয়া হয়। পরে সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয় গত ২১নভেম্বর। ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠানে যে কয়জন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কমিটির নেতা উপস্থিত থাকার কথা ছিল তাঁরা ওই তারিখে সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে পারবেন না বলে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জানানোর পর তাঁরা ২১নভেম্বর সম্মেলনটিও স্থগিত করে দেন। তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে এখনো নতুন কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। ইতিমধ্যে সম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা পৃথক পৃথক ভাবে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন সম্পন্ন করেছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে বিভিন্ন পদ পদবীতে স্থান পেতে ইতিমধ্যে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা ঢাকায় গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে গিয়ে দৌড়ঝাপও করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বলেন, এমনটিতেই উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত রয়েছেন। ফলে সাংগঠনিক কাজকর্মেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ পেছানোর কারণে আমরা হতাশ হয়েছি। সর্বরকম প্রস্তুতি থাকার পরও সম্মেলন না হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখ ও হতাশাজনক।
উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ মুরাদ বলেন, এ উপজেলায় আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির মেয়াদ পাঁচ বছর আগে শেষ হয়েছে। দুই দফায় উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন স্থগিত করায় এ উপজেলায় অনেক ত্যাগী ও পরীক্ষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হতাশ হয়েছেন। তবে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতারা যখনই সম্মেলনের তারিখ দেবেন আমরা সেই তারিখেই সম্মেলন করার জন্য প্রস্তুত আছি। আমরা আশা করছি, সম্মেলন হলে বিগত দিন গুলোতে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী, বিদ্রোহীদের মদদদাতাও বিএনপি-জামায়াত থেকে আসা সুবিধাভোগীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের পদ পদবীতে স্থান পাবেন না। দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারাই উপজেলা আওয়ামী লীগে বিভিন্ন পদ পদবীতে স্থান পাবেন এটাই তৃণমুল নেতাকর্মীদের একমাত্র দাবি। সম্মেলন উপলক্ষে আমরা ইতিমধ্যে উপজেলার সবকটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সম্মেলন সম্পন্ন করেছি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ বিলকিস বলেন, সম্মেলন সফল করার লক্ষে সর্বরকম প্রস্তুতি থাকার পরও দুইদফায় ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। সম্মেলন যখনই হোক তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত কে সম্মেলনে প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে ভারতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরেছেন। আমরা তাঁকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনটি করতে চাই। সুনামগঞ্জ জেল আওয়ামী লীগ ও কেন্দ্রীয় নেতারা মিলে ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের যে দিনই সম্মেলন করতে চান আমরা সেই দিনই সম্মেলন করতে রাজি আছি। আমরা ইতিমধ্যে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সম্মেলন সম্পন্ন করেছি।
সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুলকবীর ইমন বলেন, নানাবিদ কারণে ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। নুতন করে এখনো সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।


